১২ ডিসেম্বর ২০২৫, শুক্রবার, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঘৃণার বিরুদ্ধে লড়তেই ‘ইন্ডিয়া’, ন্যায় যাত্রা থেকে ফের বিস্ফোরক রাহুল

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক:  : ‘ভারত জোড়ো’ যাত্রায় মানুষের অভূতপূর্ব সাড়ার পর ফের গোটা দেশজুড়ে শুরু হয়েছে কংগ্রেসের ‘ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’। সোমবার সকালে উত্তর দিনাজপুরের সোনাপুর থেকে যাত্রা শুরু হয়ে সকাল ১১টা নাগাদ বিহারের কিষানগঞ্জে পৌঁছয় কংগ্রেসের এই অভিযান। এদিন কিষানগঞ্জের খাগড়ার স্টেডিয়ামে একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল বলেন, ‘মণিপুর হিংসায় নরেন্দ্র মোদি নীরব ছিলেন। বিজেপি দেশে ধর্মের নামে বিভেদ তৈরির সৃষ্টি করছে। মানুষ আর্থিক, সামাজিক ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, হিংসা, বিভেদ ভুলে সারা দেশকে একসূত্রে বাঁধতেই ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রার অভিযান শুরু হয়েছে। ভালোবাসার মধ্য দিয়েই হিংসা দূর করতে চাই। এটাই কংগ্রেসের নীতি’।

ম্যারাথন আক্রমণ শানিয়ে রাহুল বলেন, ‘মোদি সরকার আম্বানি আদানিদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু ছোট ছোট ব্যবসায়ী, খেটে খাওয়া মানুষের কথা তাঁদের ভাবার সময় নেই। এই বিজেপি সরকার জাতিগত বিভেদকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এদিন সভা শেষে সাংবাদিকরা নীতীশের প্রসঙ্গে নিয়ে জিজ্ঞাসা করলেও সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যান রাহুল।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি মণিপুর থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন রাহুল গান্ধি। তখন বিহারে ক্ষমতায় ছিল ‘মহাগঠবন্ধন’ সরকার, যে জোটের শরিক ছিল তাঁর দল কংগ্রেসও। কিন্তু সোমবার ন্যায় যাত্রা যখন কিষানগঞ্জে প্রবেশ করল তখন সেখানকার সরকার পরিবর্তন হয়েছে। মহাগঠবন্ধন থেকে বেরিয়ে বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ-তে যোগ দিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার।

রাহুল গান্ধির নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার অসম ছেড়ে বাংলায় প্রবেশ করে এই অভিযান। উত্তর দিনাজপুর থেকে বিজেপিকে তীক্ষ্ণ কটাক্ষ করে রাহুল বলেন, ‘দেশে অন্যায় হচ্ছে। বিজেপি-আরএসএস দেশজুড়ে ঘৃণা, হিংসা ছড়াচ্ছে, তাই বিজেপির অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তেই ইন্ডিয়া জোট তৈরি হয়েছে। বাংলার মানুষের কথা শুনতে এসেছি’। অসম-বাংলা সীমানার বক্সিরহাটের জোড়াইমোড়ে প্রবেশ করলে রাহুলকে বাংলায় স্বাগত জানান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রার অংশ হিসাবে এখানে একটি জনসভায় ভাষণ দিয়ে রাহুল বলেন, ‘কেন্দ্রে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ শাসনের সময় বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের লোকেরা লড়াই করছে।’

৩১ জানুয়ারি বিহার থেকে ফের বাংলায় ঢুকবে রাহুলের যাত্রা। মালদহের সুজাপুর হয়ে সেটি এগিয়ে যাবে। তার পর প্রবেশ করবে ঝাড়খণ্ডে।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

সঞ্জীব ভাটের আর্জি খারিজ শীর্ষ কোর্টে

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ঘৃণার বিরুদ্ধে লড়তেই ‘ইন্ডিয়া’, ন্যায় যাত্রা থেকে ফের বিস্ফোরক রাহুল

আপডেট : ২৯ জানুয়ারী ২০২৪, সোমবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক:  : ‘ভারত জোড়ো’ যাত্রায় মানুষের অভূতপূর্ব সাড়ার পর ফের গোটা দেশজুড়ে শুরু হয়েছে কংগ্রেসের ‘ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’। সোমবার সকালে উত্তর দিনাজপুরের সোনাপুর থেকে যাত্রা শুরু হয়ে সকাল ১১টা নাগাদ বিহারের কিষানগঞ্জে পৌঁছয় কংগ্রেসের এই অভিযান। এদিন কিষানগঞ্জের খাগড়ার স্টেডিয়ামে একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল বলেন, ‘মণিপুর হিংসায় নরেন্দ্র মোদি নীরব ছিলেন। বিজেপি দেশে ধর্মের নামে বিভেদ তৈরির সৃষ্টি করছে। মানুষ আর্থিক, সামাজিক ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, হিংসা, বিভেদ ভুলে সারা দেশকে একসূত্রে বাঁধতেই ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রার অভিযান শুরু হয়েছে। ভালোবাসার মধ্য দিয়েই হিংসা দূর করতে চাই। এটাই কংগ্রেসের নীতি’।

ম্যারাথন আক্রমণ শানিয়ে রাহুল বলেন, ‘মোদি সরকার আম্বানি আদানিদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু ছোট ছোট ব্যবসায়ী, খেটে খাওয়া মানুষের কথা তাঁদের ভাবার সময় নেই। এই বিজেপি সরকার জাতিগত বিভেদকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এদিন সভা শেষে সাংবাদিকরা নীতীশের প্রসঙ্গে নিয়ে জিজ্ঞাসা করলেও সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যান রাহুল।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি মণিপুর থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন রাহুল গান্ধি। তখন বিহারে ক্ষমতায় ছিল ‘মহাগঠবন্ধন’ সরকার, যে জোটের শরিক ছিল তাঁর দল কংগ্রেসও। কিন্তু সোমবার ন্যায় যাত্রা যখন কিষানগঞ্জে প্রবেশ করল তখন সেখানকার সরকার পরিবর্তন হয়েছে। মহাগঠবন্ধন থেকে বেরিয়ে বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ-তে যোগ দিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার।

রাহুল গান্ধির নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার অসম ছেড়ে বাংলায় প্রবেশ করে এই অভিযান। উত্তর দিনাজপুর থেকে বিজেপিকে তীক্ষ্ণ কটাক্ষ করে রাহুল বলেন, ‘দেশে অন্যায় হচ্ছে। বিজেপি-আরএসএস দেশজুড়ে ঘৃণা, হিংসা ছড়াচ্ছে, তাই বিজেপির অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তেই ইন্ডিয়া জোট তৈরি হয়েছে। বাংলার মানুষের কথা শুনতে এসেছি’। অসম-বাংলা সীমানার বক্সিরহাটের জোড়াইমোড়ে প্রবেশ করলে রাহুলকে বাংলায় স্বাগত জানান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রার অংশ হিসাবে এখানে একটি জনসভায় ভাষণ দিয়ে রাহুল বলেন, ‘কেন্দ্রে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ শাসনের সময় বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের লোকেরা লড়াই করছে।’

৩১ জানুয়ারি বিহার থেকে ফের বাংলায় ঢুকবে রাহুলের যাত্রা। মালদহের সুজাপুর হয়ে সেটি এগিয়ে যাবে। তার পর প্রবেশ করবে ঝাড়খণ্ডে।