০৭ জানুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ২২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল খুনে পুলিশি তদন্তে অসঙ্গতি, ভিন্ন তত্ত্ব ওড়িশা পুলিশের

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ওড়িশার সম্বলপুরে মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা ২১ বছর বয়সী জুয়েল রানাকে পিটিয়ে খুনের ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর পুলিশি তদন্তে অসঙ্গতি প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযুক্তরা পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন দাবি করেছিল। এনিয়েই ঘটনার সূত্রপাত বলে দাবি করল ওড়িশা পুলিশ। যদিও এর আগে ‘বিড়ি’ নিয়ে তর্ক থেকেই ঘটনার সূত্রপাত বলে দাবি করেছিল পুলিশ। দু’বার দু’রকমের পুলিশের তত্ত্ব নিয়ে গভীর প্রশ্ন উঠেছে। স্বাভাবিকভাবেই জুয়েল খুনকাণ্ডে পুলিশের দাবি নিয়ে ধোঁয়াশা এবং বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এছাড়াও আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা নিয়েও ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। পুলিশ দাবি করেছিল, তাঁদের জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, তাঁরা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এতে পুলিশের দেওয়া তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দ্রুত গ্রেফতারের দাবি করা হলেও, তদন্ত চলমান এবং টেস্ট আইডেন্টিফিকেশন প্যারেড বাকি থাকার যুক্তিতে পুলিশ এখনও অভিযুক্তদের পরিচয় বা পটভূমি সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি দল সম্বলপুরে গিয়ে সমান্তরাল তদন্ত শুরু করলেও, সেই তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও এখনও পর্যন্ত কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

উল্লেখ্য, ২০ ডিসেম্বর ওড়িশার সম্বলপুরে কাজে যান মুর্শিদাবাদের জুয়েল-সহ আরও কয়েকজন যুবক। সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন তাঁরা। বুধবার সন্ধ্যায় একটি ঘরে জুয়েল, আতিউর রহমান ও সানোয়ার হোসেনরা রান্না করছিলেন। হঠাৎ একদল দুষ্কৃতী তাদের ওপর চড়াও হয়। ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে তাদের নির্মম ভাবে মারধর ও গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত হয়ে তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুষ্কৃতীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় জুয়েল রানার। বাকি দু’জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

জেএনইউ-তে মোদী-শাহ বিরোধী স্লোগান, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর পুলিশের

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল খুনে পুলিশি তদন্তে অসঙ্গতি, ভিন্ন তত্ত্ব ওড়িশা পুলিশের

আপডেট : ৫ জানুয়ারী ২০২৬, সোমবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ওড়িশার সম্বলপুরে মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা ২১ বছর বয়সী জুয়েল রানাকে পিটিয়ে খুনের ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর পুলিশি তদন্তে অসঙ্গতি প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযুক্তরা পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন দাবি করেছিল। এনিয়েই ঘটনার সূত্রপাত বলে দাবি করল ওড়িশা পুলিশ। যদিও এর আগে ‘বিড়ি’ নিয়ে তর্ক থেকেই ঘটনার সূত্রপাত বলে দাবি করেছিল পুলিশ। দু’বার দু’রকমের পুলিশের তত্ত্ব নিয়ে গভীর প্রশ্ন উঠেছে। স্বাভাবিকভাবেই জুয়েল খুনকাণ্ডে পুলিশের দাবি নিয়ে ধোঁয়াশা এবং বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এছাড়াও আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা নিয়েও ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। পুলিশ দাবি করেছিল, তাঁদের জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, তাঁরা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এতে পুলিশের দেওয়া তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দ্রুত গ্রেফতারের দাবি করা হলেও, তদন্ত চলমান এবং টেস্ট আইডেন্টিফিকেশন প্যারেড বাকি থাকার যুক্তিতে পুলিশ এখনও অভিযুক্তদের পরিচয় বা পটভূমি সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি দল সম্বলপুরে গিয়ে সমান্তরাল তদন্ত শুরু করলেও, সেই তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও এখনও পর্যন্ত কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

উল্লেখ্য, ২০ ডিসেম্বর ওড়িশার সম্বলপুরে কাজে যান মুর্শিদাবাদের জুয়েল-সহ আরও কয়েকজন যুবক। সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন তাঁরা। বুধবার সন্ধ্যায় একটি ঘরে জুয়েল, আতিউর রহমান ও সানোয়ার হোসেনরা রান্না করছিলেন। হঠাৎ একদল দুষ্কৃতী তাদের ওপর চড়াও হয়। ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে তাদের নির্মম ভাবে মারধর ও গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত হয়ে তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুষ্কৃতীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় জুয়েল রানার। বাকি দু’জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।