০১ জানুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা, শেখ হাসিনা সহ তিনজনের রায় আগামী সোমবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন—এই তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী সোমবার (১৭ নভেম্বর)।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণার এ তারিখ নির্ধারণ করে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকবার্তা শেখ হাসিনার

এর আগে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড হবে। তবে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি মামুনের ভাগ্য আদালতই নির্ধারণ করবেন। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ দেশে-বিদেশে রায়কে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, কিন্তু বিচার তার নিজস্ব গতিতেই এগোচ্ছে এবং ট্রাইব্যুনাল কোনো প্রভাবমুক্ত অবস্থায় রায় দেবে।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনা ও কামালকে ফেরত চেয়ে নয়াদিল্লিকে চিঠি দিল ইউনূস সরকার

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়। নতুন ট্রাইব্যুনালের প্রথম মামলাই ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা, যার প্রধান আসামি শেখ হাসিনা। পরে মামলায় যোগ করা হয় আসাদুজ্জামান খান ও আবদুল্লাহ আল-মামুনকে। প্রসিকিউশনের দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা আন্দোলনের সময় গণহত্যা, নির্যাতন, ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন। মোট পাঁচটি অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, যার পৃষ্ঠাসংখ্যা ৮,৭৪৭।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, শান্ত থাকার আহ্বান

মামলার বিচার শুরু হয় গত ১০ জুলাই। পরে সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হন এবং ঘটনার বিস্তারিত আদালতে তুলে ধরেন। গত ২৩ অক্টোবর মামলার সমাপনী শুনানি শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) দাবি করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন তাঁদের খালাস প্রার্থনা করেন। সব পক্ষের বক্তব্য শেষে ট্রাইব্যুনাল জানায়, মামলার রায় ঘোষণা করা হবে ১৭ নভেম্বর সোমবার।

প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

‘জয় শ্রী রাম’ বলাতে চাপ, বিজেপির রাজ্যে নির্যাতনের শিকার কাশ্মীরি ব্যবসায়ীরা

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা, শেখ হাসিনা সহ তিনজনের রায় আগামী সোমবার

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন—এই তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী সোমবার (১৭ নভেম্বর)।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণার এ তারিখ নির্ধারণ করে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকবার্তা শেখ হাসিনার

এর আগে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড হবে। তবে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি মামুনের ভাগ্য আদালতই নির্ধারণ করবেন। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ দেশে-বিদেশে রায়কে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, কিন্তু বিচার তার নিজস্ব গতিতেই এগোচ্ছে এবং ট্রাইব্যুনাল কোনো প্রভাবমুক্ত অবস্থায় রায় দেবে।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনা ও কামালকে ফেরত চেয়ে নয়াদিল্লিকে চিঠি দিল ইউনূস সরকার

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়। নতুন ট্রাইব্যুনালের প্রথম মামলাই ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা, যার প্রধান আসামি শেখ হাসিনা। পরে মামলায় যোগ করা হয় আসাদুজ্জামান খান ও আবদুল্লাহ আল-মামুনকে। প্রসিকিউশনের দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা আন্দোলনের সময় গণহত্যা, নির্যাতন, ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন। মোট পাঁচটি অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, যার পৃষ্ঠাসংখ্যা ৮,৭৪৭।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, শান্ত থাকার আহ্বান

মামলার বিচার শুরু হয় গত ১০ জুলাই। পরে সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হন এবং ঘটনার বিস্তারিত আদালতে তুলে ধরেন। গত ২৩ অক্টোবর মামলার সমাপনী শুনানি শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) দাবি করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন তাঁদের খালাস প্রার্থনা করেন। সব পক্ষের বক্তব্য শেষে ট্রাইব্যুনাল জানায়, মামলার রায় ঘোষণা করা হবে ১৭ নভেম্বর সোমবার।