০২ মার্চ ২০২৬, সোমবার, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পুরুলিয়ার সূঁচ দিয়ে শিশুহত্যার ঘটনায় দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ

পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ  শিশুর মা এবং তার প্রেমিকের ষড়যন্ত্রে খুন হয়েছিল সাড়ে ৩ বছরের শিশু। ২০১৭ সালে পুরুলিয়ার মফস্সল থানার নদিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা মঙ্গলা গোস্বামীর সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যার শরীরে সুচ ফুটিয়ে দেয় তার প্রেমিক সনাতন গোস্বামী (ঠাকুর)। নৃশংস এই ঘটনার কিছুদিন পর কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। সেই ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছিল মঙ্গলা গোস্বামী ও সনাতন গোস্বামী। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর পুরুলিয়ার জেলা দায়রা আদালতের বিচারক দু’জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন।

 

আরও পড়ুন: মহারাষ্ট্র পুর নির্বাচনে জয়ী গৌরী লঙ্কেশ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত পাঙ্গারকর

এদিকে, বৃহস্পতিবার শিশু-হত্যার ঘটনায় দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ রদ করল কলকাতা হাই কোর্ট। পুরুলিয়া জেলা আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করা হয়। তারই রায় দান হয় বৃহস্পতিবার।মৃত্যুদণ্ডের বদলে দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে হাই কোর্টের দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ৩০ বছর পর্যন্ত জামিনের জন্য আবেদন করতে পারবেন না দোষীরা।

আরও পড়ুন: বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিক খুনের ঘটনা: হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে কথা অভিষেকের, দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস

 

আরও পড়ুন: অঙ্কিতা ভাণ্ডারি হত্যাকাণ্ড: রাজ্যজুড়ে “উত্তরাখণ্ড বন্ধ”-এর ডাক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের

অভিযোগ ছিল, শিশুটির মা এবং এক স্থানীয় ওঝা শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে সূচ বিধিয়ে তার উপর অত্যাচার চালানো হয়েছিল। যার জেরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়। জেলা আদালতে এই ঘটনায় নিহত শিশুর মা মঙ্গলা গোস্বামী এবং ওঝা সনাতন গোস্বামী (ঠাকুর)কে দোষী সাব্যস্ত করে।

পুরুলিয়ার আদালত তাদের ফাঁসির সাজাও দেয়। বৃহস্পতিবার সেই নির্দেশই রদ করল কলকাতা হাই কোর্ট।

 

উল্লেখ্য, দোষীরা জেলা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করেছিলেন কলকাতা হাই কোর্টে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি বিভাসরঞ্জন দে-র ডিভিশন বেঞ্চে উঠেছিল মামলাটি। তারাই দোষী মঙ্গলা এবং সনাতনের ফাসির সাজা রদ করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। সেই সঙ্গে জানিয়ে দেন, দোষীরা জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আগামী ৩০ বছর পর্যন্ত জামিনের আবেদন করতে পারবেন না।

 

প্রসঙ্গত,হাসপাতালে এক্সরে-তে দেখা গিয়েছিল, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ৭টি সুচ ফুটে রয়েছে। পরে ময়নাতদন্তে জানা যায়, শিশুটির পাঁজরে, তলপেটে ও যৌনাঙ্গে সুচ ফোটানো হয়েছিল। এবং তাকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার ন’দিনের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।

 

ঘটনায় ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর চার্জশিট পেশ করা হয়। পুলিশের পেশ করা তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষীদের বয়ানের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয় পুরুলিয়া জেলা আদালত। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করা হলে তারই রায় দান হয় বৃহস্পতিবার।

  

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে শেয়ার বাজারে ধস, বিনিয়োগকারীদের ছয় লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

পুরুলিয়ার সূঁচ দিয়ে শিশুহত্যার ঘটনায় দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ

আপডেট : ২৫ অগাস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার

পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ  শিশুর মা এবং তার প্রেমিকের ষড়যন্ত্রে খুন হয়েছিল সাড়ে ৩ বছরের শিশু। ২০১৭ সালে পুরুলিয়ার মফস্সল থানার নদিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা মঙ্গলা গোস্বামীর সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যার শরীরে সুচ ফুটিয়ে দেয় তার প্রেমিক সনাতন গোস্বামী (ঠাকুর)। নৃশংস এই ঘটনার কিছুদিন পর কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। সেই ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছিল মঙ্গলা গোস্বামী ও সনাতন গোস্বামী। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর পুরুলিয়ার জেলা দায়রা আদালতের বিচারক দু’জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন।

 

আরও পড়ুন: মহারাষ্ট্র পুর নির্বাচনে জয়ী গৌরী লঙ্কেশ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত পাঙ্গারকর

এদিকে, বৃহস্পতিবার শিশু-হত্যার ঘটনায় দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ রদ করল কলকাতা হাই কোর্ট। পুরুলিয়া জেলা আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করা হয়। তারই রায় দান হয় বৃহস্পতিবার।মৃত্যুদণ্ডের বদলে দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে হাই কোর্টের দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ৩০ বছর পর্যন্ত জামিনের জন্য আবেদন করতে পারবেন না দোষীরা।

আরও পড়ুন: বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিক খুনের ঘটনা: হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে কথা অভিষেকের, দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস

 

আরও পড়ুন: অঙ্কিতা ভাণ্ডারি হত্যাকাণ্ড: রাজ্যজুড়ে “উত্তরাখণ্ড বন্ধ”-এর ডাক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের

অভিযোগ ছিল, শিশুটির মা এবং এক স্থানীয় ওঝা শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে সূচ বিধিয়ে তার উপর অত্যাচার চালানো হয়েছিল। যার জেরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়। জেলা আদালতে এই ঘটনায় নিহত শিশুর মা মঙ্গলা গোস্বামী এবং ওঝা সনাতন গোস্বামী (ঠাকুর)কে দোষী সাব্যস্ত করে।

পুরুলিয়ার আদালত তাদের ফাঁসির সাজাও দেয়। বৃহস্পতিবার সেই নির্দেশই রদ করল কলকাতা হাই কোর্ট।

 

উল্লেখ্য, দোষীরা জেলা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করেছিলেন কলকাতা হাই কোর্টে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি বিভাসরঞ্জন দে-র ডিভিশন বেঞ্চে উঠেছিল মামলাটি। তারাই দোষী মঙ্গলা এবং সনাতনের ফাসির সাজা রদ করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। সেই সঙ্গে জানিয়ে দেন, দোষীরা জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আগামী ৩০ বছর পর্যন্ত জামিনের আবেদন করতে পারবেন না।

 

প্রসঙ্গত,হাসপাতালে এক্সরে-তে দেখা গিয়েছিল, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ৭টি সুচ ফুটে রয়েছে। পরে ময়নাতদন্তে জানা যায়, শিশুটির পাঁজরে, তলপেটে ও যৌনাঙ্গে সুচ ফোটানো হয়েছিল। এবং তাকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার ন’দিনের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।

 

ঘটনায় ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর চার্জশিট পেশ করা হয়। পুলিশের পেশ করা তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষীদের বয়ানের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয় পুরুলিয়া জেলা আদালত। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করা হলে তারই রায় দান হয় বৃহস্পতিবার।