১০ ডিসেম্বর ২০২৫, বুধবার, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জীবনদায়ী ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি: নবান্ন থেকে কেন্দ্রকে আক্রমণ মমতার, রাজ্যজুড়ে কর্মসূচির ঘোষণা

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ক্যান্সার, হার্ট, প্রেসার থেকে শুরু করে প্যারাসিটামল— একের পর এক জীবনদায়ী ওষুধের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার লন্ডন থেকে ফিরে প্রথমবার নবান্নে এসে সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। জানালেন, ওষুধের এই মূল্যবৃদ্ধি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একই সঙ্গে দলীয় সংগঠনকে রাজপথে নামার নির্দেশও দিলেন তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ক্যান্সারের মতো মরণ রোগের ওষুধের দাম বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ কীভাবে চিকিৎসা করবে? কেন্দ্র শুধু কর বাড়াচ্ছে— ওষুধে, হেলথ ইনস্যুরেন্সে, এমনকী বাড়ির লোনেও জিএসটি চাপিয়ে দিচ্ছে। এটা অমানবিক।”

আরও পড়ুন: নয়া ওয়াকফ সংশোধনী বিলে কী আছে? বিরোধিতারই বা কারণ কী?

আরও পড়ুন: দিলীপ ঘোষের আক্রমণের নিশানায় হুমায়ুন কবীর

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি—যেটা কেন্দ্রের অধীনস্থ—সেই সংস্থা ৭৪৮টি সিডিউল ওষুধ ও ৮০টি নন-সিডিউল ওষুধের দাম ১ এপ্রিল, ২০২৫ থেকে বৃদ্ধি করেছে। যার সরাসরি প্রভাব এসে পড়েছে গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের উপর।তিনি আরও বলেন, “আমরা ‘স্বাস্থ্যসাথী’ চালু করেছি যাতে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা পায়। কিন্তু কেন্দ্র এখন স্বাস্থ্যবিমাতেও জিএসটি বসাচ্ছে। এটা অন্যায়। আমি বহুবার প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে জানিয়েছি। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।” মমতার প্রশ্ন, “আর কত টাকা পেলে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের জুমলাবাজি বন্ধ করবে? এটা কি এক শ্রেণির কোটিপতিদের জন্য দামবৃদ্ধি? গরিব মানুষ কীভাবে বাঁচবে?”

আরও পড়ুন: নীতীশের ডেপুটি সম্রাট-বিজয়, ১৯ মন্ত্রীর মধ্যে ১০ মন্ত্রীই বিজেপির

এর প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, আগামী ৪ ও ৫ এপ্রিল রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে বিকেল ৪টে থেকে ৫টা পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিল ও প্রতিবাদসভা হবে। সাধারণ মানুষকেও এই বিক্ষোভে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনের শেষদিকে কেন্দ্রের উদ্দেশে তাঁর সাফ বার্তা— “স্বাস্থ্য মানুষের অধিকার। ওষুধের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। না হলে আমরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাব।” প্রসঙ্গত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সাংবাদিক সম্মেলনের করা আগেও জীবন দায়ী ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয় কিনা এটাই এখন দেখার।

আরও পড়ুন: ৭ রাজ্যের ৮ উপনির্বাচনে বিজেপির পরাজয় ৬ আসনে

তৃণমূলের কর্মসূচি: ৪ ও ৫ এপ্রিল, বিকেল ৪টে থেকে ৫টা। রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে তৃণমূলের বিক্ষোভ। সাধারণ মানুষকে যোগ দেওয়ার আবেদন জীবন দায়ী ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে মমতা যা বললেন: ক্যান্সার, হার্ট, প্রেসার ও প্যারাসিটামলের মতো ওষুধের দাম বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিমাতেও জিএসটি চাপানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা

সর্বধিক পাঠিত

বিশ্বের শ্রেষ্ঠ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে বিজেপি–আরএসএস: ভোটচুরি নিয়ে তোপ রাহুলের

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

জীবনদায়ী ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি: নবান্ন থেকে কেন্দ্রকে আক্রমণ মমতার, রাজ্যজুড়ে কর্মসূচির ঘোষণা

আপডেট : ২ এপ্রিল ২০২৫, বুধবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ক্যান্সার, হার্ট, প্রেসার থেকে শুরু করে প্যারাসিটামল— একের পর এক জীবনদায়ী ওষুধের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার লন্ডন থেকে ফিরে প্রথমবার নবান্নে এসে সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। জানালেন, ওষুধের এই মূল্যবৃদ্ধি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একই সঙ্গে দলীয় সংগঠনকে রাজপথে নামার নির্দেশও দিলেন তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ক্যান্সারের মতো মরণ রোগের ওষুধের দাম বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ কীভাবে চিকিৎসা করবে? কেন্দ্র শুধু কর বাড়াচ্ছে— ওষুধে, হেলথ ইনস্যুরেন্সে, এমনকী বাড়ির লোনেও জিএসটি চাপিয়ে দিচ্ছে। এটা অমানবিক।”

আরও পড়ুন: নয়া ওয়াকফ সংশোধনী বিলে কী আছে? বিরোধিতারই বা কারণ কী?

আরও পড়ুন: দিলীপ ঘোষের আক্রমণের নিশানায় হুমায়ুন কবীর

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি—যেটা কেন্দ্রের অধীনস্থ—সেই সংস্থা ৭৪৮টি সিডিউল ওষুধ ও ৮০টি নন-সিডিউল ওষুধের দাম ১ এপ্রিল, ২০২৫ থেকে বৃদ্ধি করেছে। যার সরাসরি প্রভাব এসে পড়েছে গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের উপর।তিনি আরও বলেন, “আমরা ‘স্বাস্থ্যসাথী’ চালু করেছি যাতে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা পায়। কিন্তু কেন্দ্র এখন স্বাস্থ্যবিমাতেও জিএসটি বসাচ্ছে। এটা অন্যায়। আমি বহুবার প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে জানিয়েছি। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।” মমতার প্রশ্ন, “আর কত টাকা পেলে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের জুমলাবাজি বন্ধ করবে? এটা কি এক শ্রেণির কোটিপতিদের জন্য দামবৃদ্ধি? গরিব মানুষ কীভাবে বাঁচবে?”

আরও পড়ুন: নীতীশের ডেপুটি সম্রাট-বিজয়, ১৯ মন্ত্রীর মধ্যে ১০ মন্ত্রীই বিজেপির

এর প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, আগামী ৪ ও ৫ এপ্রিল রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে বিকেল ৪টে থেকে ৫টা পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিল ও প্রতিবাদসভা হবে। সাধারণ মানুষকেও এই বিক্ষোভে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনের শেষদিকে কেন্দ্রের উদ্দেশে তাঁর সাফ বার্তা— “স্বাস্থ্য মানুষের অধিকার। ওষুধের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। না হলে আমরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাব।” প্রসঙ্গত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সাংবাদিক সম্মেলনের করা আগেও জীবন দায়ী ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয় কিনা এটাই এখন দেখার।

আরও পড়ুন: ৭ রাজ্যের ৮ উপনির্বাচনে বিজেপির পরাজয় ৬ আসনে

তৃণমূলের কর্মসূচি: ৪ ও ৫ এপ্রিল, বিকেল ৪টে থেকে ৫টা। রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে তৃণমূলের বিক্ষোভ। সাধারণ মানুষকে যোগ দেওয়ার আবেদন জীবন দায়ী ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে মমতা যা বললেন: ক্যান্সার, হার্ট, প্রেসার ও প্যারাসিটামলের মতো ওষুধের দাম বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিমাতেও জিএসটি চাপানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা