পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রে একের পর এক মসজিদের লাউডস্পিকার খুলে ফেলা হয়েছে। দীর্ঘদিন রাজ্যটিতে মসজিদে লাউডস্পিকারের ব্যবহার নিয়ে চলছে রাষ্ট্রীয় দমন নিপীড়ন। শনিবার লাউডস্পিকারের ব্যবহার নিয়ে বড় দাবি করলেন মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনার দেবেন ভারতী। তিনি বলেছেন, "সমস্ত ধর্মীয় স্থাপনায় লাউডস্পিকার ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে শহর এখন সম্পূর্ণরূপে লাউডস্পিকারমুক্ত।" মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে মসজিদের লাউডস্পিকার বন্ধে ব্যাপক দমন নিপীড়ন শুরু করেছে বলে অভিযোগ।
এবিষয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, বেছে বেছে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি ঠিক নয়।
কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কাঠামোকে এককভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের যথাযথ ও নির্বিচারে পদক্ষেপের নির্দেশ অনুসারে পদ্ধতিগতভাবে এই অভিযান চালানো হয়। ভারতীর কথায়, "আমরা সম্প্রদায় এবং ধর্মীয় নেতা এবং রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে আলোচনা করেছি এবং তাদের উপর আলোকপাত করেছি। তারপরই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।" পদক্ষেপগুলি বাস্তবায়নের আগে নেওয়া সহযোগিতামূলক পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেন মুম্বাইয়ের সিপি।আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বম্বে হাইকোর্ট শব্দ দূষণের নিয়ম ও নিয়ম লঙ্ঘনকারী লাউডস্পিকারের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের নির্দেশ পরই পদক্ষেপ শুরু করে মুম্বাই পুলিশ।
অভিযান প্রসঙ্গে পুলিশ প্রধান বলেন, "আমরা শহর জুড়ে ধর্মীয় স্থাপনা থেকে প্রায় ১,৫০০ দিকনির্দেশনামূলক লাউডস্পিকার সরিয়ে ফেলেছি। এ ধরনের লাউডস্পিকার যাতে আর লাগানো না হয়, তাও নিশ্চিত করবে পুলিশ। ধর্মীয় উৎসবের সময় লাউডস্পিকার ব্যবহারের জন্য অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হবে।"আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
তাতে দেখা গিয়েছে, প্রশাসনের কর্তারা যখন মসজিদের মাইক খুলছে, তখন মুসলিম জড়ো হলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হুমকি দিচ্ছেন। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়। এক মসজিদ কমিটির এক সদস্যের বক্তব্য, লাউডস্পিকারগুলি বম্বে হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া ৪৫-৫৬ ডেসিবেলের ঊর্ধ্ব সীমা মেনে চললেও প্রশাসন নোটিশ ধরাচ্ছে। কোনও পরিদর্শন বা বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই সেগুলি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এটা অন্যায় এবং পুরোপুরি ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।