০৬ মার্চ ২০২৬, শুক্রবার, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিহারের পূর্ণিয়ায় ডাইনি অপবাদে পুড়িয়ে হত্যা একই পরিবারের ৫ জনকে

পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক:  বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় কুসংস্কার ও ডাইনি অপবাদের ভয়ঙ্কর পরিণতি সামনে এল। একটি আদিবাসী পরিবারের পাঁচ সদস্যকে পিটিয়ে, তারপর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে গ্রামবাসীরা। নিহতরা হলেন বাবুলাল ওরাওঁ, সীতা দেবী, মনজিত ওরাওঁ, রানিয়া দেবী এবং তাপতে মোসমাট। ঘটনাটি ঘটে টেটগামা গ্রামে। ঘটনায় অভিযুক্ত নকুল কুমারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যিনি জনতাকে উস্কে দেওয়ার মূল অভিযুক্ত বলে দাবি।

গ্রামে কয়েকজনের মৃত্যু ও অসুস্থতার পেছনে কালোজাদু বা ডাইনি সন্দেহে আক্রান্ত পরিবারটির বিরুদ্ধে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই দলবেঁধে গ্রামের লোকজন ওই পরিবারের বাড়িতে হামলা চালায়। এক শিশু সদস্য কোনোমতে প্রাণে বাঁচলেও মানসিকভাবে সে ভীষণ ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রামে বর্তমানে ব্যাপক পুলিশি টহল চলছে। সোমবার গ্রাম প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে আতঙ্কে। পুলিশ জানিয়েছে, রামদেব ওরাওঁ নামের এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন, কিন্তু চিকিৎসকের বদলে তন্ত্র-মন্ত্রের আশ্রয় নেওয়া হয়। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। একই পরিবারের এক শিশুও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর থেকেই কালোজাদুর অভিযোগ তুলে আক্রান্ত পরিবারের বিরুদ্ধে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

স্থানীয় পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মৃতদেহগুলি। এখনো স্পষ্ট নয়—পিটিয়ে মারা হয়েছে, নাকি জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে এই ঘটনায় বিহারের বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদব মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “বক্সারে তিনজন, ভোজপুরে তিনজন, সিওয়ানে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, আর পূর্ণিয়ায় একসাথে পাঁচজনকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘুমাচ্ছেন, দুষ্কৃতীরা জেগে ঘুরছে!” ঘটনাটি সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো কুসংস্কার দূরীকরণে প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে এবং অবিলম্বে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

রাজ্যসভা নির্বাচন: শাহকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন জমা দিলেন নীতীশ কুমার, ‘জনাদেশের অবমাননা’ কটাক্ষ বিরোধীদের

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বিহারের পূর্ণিয়ায় ডাইনি অপবাদে পুড়িয়ে হত্যা একই পরিবারের ৫ জনকে

আপডেট : ৭ জুলাই ২০২৫, সোমবার

পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক:  বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় কুসংস্কার ও ডাইনি অপবাদের ভয়ঙ্কর পরিণতি সামনে এল। একটি আদিবাসী পরিবারের পাঁচ সদস্যকে পিটিয়ে, তারপর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে গ্রামবাসীরা। নিহতরা হলেন বাবুলাল ওরাওঁ, সীতা দেবী, মনজিত ওরাওঁ, রানিয়া দেবী এবং তাপতে মোসমাট। ঘটনাটি ঘটে টেটগামা গ্রামে। ঘটনায় অভিযুক্ত নকুল কুমারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যিনি জনতাকে উস্কে দেওয়ার মূল অভিযুক্ত বলে দাবি।

গ্রামে কয়েকজনের মৃত্যু ও অসুস্থতার পেছনে কালোজাদু বা ডাইনি সন্দেহে আক্রান্ত পরিবারটির বিরুদ্ধে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই দলবেঁধে গ্রামের লোকজন ওই পরিবারের বাড়িতে হামলা চালায়। এক শিশু সদস্য কোনোমতে প্রাণে বাঁচলেও মানসিকভাবে সে ভীষণ ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রামে বর্তমানে ব্যাপক পুলিশি টহল চলছে। সোমবার গ্রাম প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে আতঙ্কে। পুলিশ জানিয়েছে, রামদেব ওরাওঁ নামের এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন, কিন্তু চিকিৎসকের বদলে তন্ত্র-মন্ত্রের আশ্রয় নেওয়া হয়। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। একই পরিবারের এক শিশুও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর থেকেই কালোজাদুর অভিযোগ তুলে আক্রান্ত পরিবারের বিরুদ্ধে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

স্থানীয় পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মৃতদেহগুলি। এখনো স্পষ্ট নয়—পিটিয়ে মারা হয়েছে, নাকি জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে এই ঘটনায় বিহারের বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদব মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “বক্সারে তিনজন, ভোজপুরে তিনজন, সিওয়ানে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, আর পূর্ণিয়ায় একসাথে পাঁচজনকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘুমাচ্ছেন, দুষ্কৃতীরা জেগে ঘুরছে!” ঘটনাটি সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো কুসংস্কার দূরীকরণে প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে এবং অবিলম্বে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে।