পুবের কলম ওয়েবডেস্ক : সম্প্রতি, দিল্লিতে এমএস স্বামীনাথন শতবর্ষ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ভাষণ দিয়েছিলেন মোদি। এই ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর যে সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক তরজা। রাশিয়া থেকে ভারত এখনও তেল কেনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই তার ফল স্বরূপ শাস্তি হিসেবে ভারতীয় পণ্যের উপর বাড়তি কর বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার ভারতের উপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছে বলে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান। সর্বমোট ৫০ শতাংশ শুল্ক ভারতীয় পণ্যের উপর চাপানো হল।

২১ দিন পর থেকেই এটি কার্যকর হবে বলে ট্রাম্প জানান।

এবার তারই জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পালটা জবাবে তিনি বলেন, কৃষক স্বার্থের সঙ্গে কোনরূপ আপস নয়। ভারত কখনই তার কৃষক এবং মৎস্যজীবীদের স্বার্থের সঙ্গে আপস করবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। এমনকি, এই কারণে যদি তাঁকে মূল্যও চোকাতে হয়, কৃষকদের স্বার্থের জন্য তিনি তা করতেও প্রস্তুত।

এই ভাষণে তিনি বলেন, “কৃষকদের স্বার্থ আমাদের অগ্রাধিকার।

ভারত কখনোই তার কৃষক, পশুপালক এবং মৎস্যজীবীদের স্বার্থের সঙ্গে আপস করবে না। আমি জানি যে এর জন্য আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বিশাল মূল্য দিতে হবে, কিন্তু আমিও পুরোপুরি প্রস্তুত আছি। দেশের কৃষক, মৎস্যজীবী এবং পশুপালকদের স্বার্থরক্ষায় ভারত সর্বদাই প্রস্তুত”। বাড়তি মুনাফার জন্য নিজেদেরই জমিতে কৃষকদের ক্রীতদাসে পরিণত হতে দেবো না।

মোদি আরও বলেন, ভারতের প্রধান ভিত্তি হল কৃষি, আর এই কৃষকরাই কিন্তু গোটা দেশবাসীর মুখে অন্ন জুগিয়ে চলেছে। এরপরই ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে দীর্ঘ এক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য বিষয়, ‘বিগত কয়েকদিন ধরে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির এই সাধারণ বিষয়কে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। এই বিষয়ে আমরা অনেক আগেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছি।

বর্তমান বাজারের পরিস্থিতি ও দেশের ১৪০ কোটি মানুষের শক্তিসম্পদের চাহিদার কথা ভেবেই কিন্তু আমদানি করা হয়'। মোদি বলেন, ভারতের প্রধান ভিত্তি হল কৃষি, আর এই কৃষকরাই কিন্তু গোটা দেশবাসীর মুখে অন্ন জুগিয়ে চলেছে।

এছাড়া এই বিষয়ে বামপন্থী সংগঠন সারা ভারত কৃষক সভার তরফ থেকে বর্ষীয়ান নেতা হান্নান মোল্লার বক্তব্য, কৃষি, দুগ্ধ-সহ খাদ্য উৎপাদন ক্ষেত্র কোনওভাবেই পুঁজিপতিদের হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। এইনিয়ে প্রতিবাদ জানাতে আগামী ১৩ আগস্ট মোদি-ট্রাম্পের কুশপুতুল দাহ করার একটি কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে কৃষক সভার পক্ষ থেকে।