পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: আসন্ন বিহার ভোট। সময় যত এগচ্ছে ততই উত্তপ্ত হচ্ছে রাজ্য রাজনীতি। একদিকে বিজেপি, নীতীশ কুমারের জেডিইউ ও এলজেপির এনডিএ শিবির অন্যদিকে লালুপ্রসাদ যাদবের আরজেডি, কংগ্রেস ও অন্যান্য দলগুলির ‘মহাজোট’। ভোট ময়দানে ঝড় তোলার অপেক্ষায় ঘুঁটি গোছাচ্ছে সব দল।
এই আবহে বিরোধীদের ‘মহাগঠবন্ধন’ জোটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তবে ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। এই প্রেক্ষিতে আরজেডি সুপ্রিমো লালু যাদবকে চিঠি লিখেছেন বিহারের এআইএমআইএম বিধায়ক আখতারুল ইমান। যাতে মিমকে মহাজোটে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করা হয়েছে।
চিঠিতে ইমান আরও উল্লেখ করেছেন, তাঁরা নির্বাচনে জোট বাঁধলে ভোট ভাগ হওয়ার শঙ্কা থাকবে না। ভোটগুলি একই ঝুলিতে পড়বে। মহাজোটের পরবর্তী সরকার গঠনে আরও ভালো সুযোগ থাকবে। এছাড়া মহাজোটে মিম-কে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে আরজেডির জন্য সুযোগের হাতছাড়া হিসেবে বিবেচিত হবে।
সংবাদমাধ্যমের দেওয়া সাক্ষাৎকারে আখতারুল ইমান জানান, বিহারে পুনরায় এনডিএ ক্ষমতায় ফিরুক চাই না। তাই বিরোধী জোট মহাগঠবন্ধনের আরজেডি, কংগ্রেসের মতো শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি। তাঁদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি পত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করছি ইতিবাচক উত্তর পাব। যদি তারা না করেন, তাহলে ভোটের পর যেন কোনও দাবি না জানায়। বানোয়াট কাহিনী না রচনা করে।
নভেম্বরের গোড়ায় বিহারে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। তার আগেই আসন রফা নিয়ে মহাগঠবন্ধনের সঙ্গে রফা চূড়ান্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ওয়েইসি। গত নির্বাচনে খুব কাছাকাছি গিয়েও আশাভঙ্গ হয়েছিল বিরোধী জোটের । এবার সেই ফলের পুনরাবৃত্তি আর হবে না বলেই দাবি করছেন লালু-পুত্র তেজস্বী যাদব। এবার জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, ওয়াকফ আইনকে হাতিয়ার করে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমছেন তাঁরা। জানিয়েছেন, যদি মহাগঠবন্ধন জোট ক্ষমতায় আসে তাহলে ওয়াকফ আইনকে রাজ্যে বাস্তবায়িত হতে দেবে না।
বলা বাহুল্য, সংখ্যালঘু ভোটের জন্য সিমাঞ্চলের দিকে তাকিয়ে আছে বিরোধীরা। যেখানে কিষাণগঞ্জে ৬৭ শতাংশ মুসলিম, কাটিহারে ৩৮ শতাংশ, আরারিয়ায় ৩২ শতাংশ এবং পূর্ণেয় ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোটার রয়েছে। রাজনৈতিক বাজি পাল্টাতে এই জেলা গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রসঙ্গত, অতীতে বিজেপি-সহ এনডিএ শরিকরা ‘মিম’কে ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে তোপ দাগলেও ‘অপারেশন সিঁদুর’ এর এই চিত্র পাল্টেছে। ভারত-পাক সংঘর্ষ আবহে আসাদউদ্দিনের তীব্র পাকিস্তান বিরোধী অবস্থান তাঁর জনপ্রিয়তা এখন আকাশ ছুঁয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দিতে সর্বদলীয় সাতটি প্রতিনিধিদলের একটিতে তাঁকে রেখেছিল। সেখানেও আসাদউদ্দিনের ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে।





























