মাত্র ২৭ দিনেই নিখোঁজ হয়ে গেছেন ৮০৭ জন মানুষ—এই তথ্য সামনে আসতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানী দিল্লি জুড়ে। নিখোঁজদের মধ্যে বড় অংশই শিশু ও কিশোরী, যা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি সরকারি রিপোর্টকে কেন্দ্র করেই এই আতঙ্ক ছড়ায়। অবশেষে এই বিষয়ে নীরবতা ভাঙল দিল্লি পুলিশ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ থেকে ২৭ জানুয়ারির মধ্যে দিল্লিতে মোট ৮০৭ জন নিখোঁজের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে।

এর মধ্যে ২৩৫ জনকে উদ্ধার করা গেলেও এখনও ৫৭২ জনের কোনো খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজদের মধ্যে ১৯১ জন শিশু, যাদের মধ্যে ১২০ জন কিশোরী, বয়স ১২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। এই ভয়াবহ সংখ্যার মাঝেও দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। পুলিশের বক্তব্য, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় নিখোঁজের সংখ্যা বরং সামান্য কমেছে। দিল্লি পুলিশের মতে, বর্তমানে অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া অনেক সহজ ও স্বচ্ছ হয়েছে।
১১২ হেল্পলাইন ও অনলাইন মাধ্যমে অভিযোগ জানানো যাওয়ায় আগের তুলনায় বেশি মামলা নথিভুক্ত হচ্ছে, যার ফলে সংখ্যাটা চোখে বেশি পড়ছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনও সুসংগঠিত পাচারচক্র বা অপরাধী গ্যাংয়ের অস্তিত্বের প্রমাণ মেলেনি। তাই অযথা আতঙ্ক ছড়ানোর প্রয়োজন নেই। তবে পুলিশের আশ্বাস সত্ত্বেও উদ্বেগ কাটছে না সাধারণ মানুষের। কারণ পরিসংখ্যান বলছে, গত ১০ বছরে দিল্লিতে প্রায় ৬০ হাজার শিশু নিখোঁজ হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৭ হাজার শিশুর এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি বলে খবরে প্রকাশ। এই দীর্ঘমেয়াদি চিত্রই রাজধানীবাসীর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে। সব মিলিয়ে, দিল্লিতে নিখোঁজের এই পরিসংখ্যান প্রশাসনের আশ্বাসের পরেও এক গভীর সামাজিক উদ্বেগের বার্তা বহন করছে, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।