পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: বিমানের ভিতর বায়ুচাপ কমে যাওয়ায় মাঝআকাশে বিপত্তি। দুর্ঘটনা এড়াতে মুম্বইয়ে জরুরি অবতরণ করল ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান।

শুক্রবার ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে রওনা দিয়েছিল বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি। ৩৩ হাজার ফুট উচ্চতায় আরব সাগরের উপর দিয়ে ওড়ার সময় আচমকা বিমানের ভিতর বায়ুচাপ কমে যায়। বায়ুচাপ কমে যাওয়ায় বিমানটি দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে। অবস্থা বেগতিক দেখে পাইলট মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
Advertisement
এটিসির সিগন্যাল পেয়ে মুম্বইয়ে জরুরি অবতরণ করার সিদ্ধান্ত নেয় বিমানটি। বিমানে ভিতরে বায়ুচাপ কমে যাওয়ায় সাত জন যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম। বিমানবন্দরের মেডিক্যাল টিম যাত্রীদের চিকিৎসা করেন। একজন যাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিমানের কেবিনগুলিকে সিল করা থাকে। বায়ুমণ্ডলীয় অক্সিজেন কম থাকা উচ্চ উচ্চতায় নিরাপদ ভ্রমণের অনুমতি দেওয়ার জন্য কন্ডিশনড এয়ার এবং অক্সিজেন দিয়ে চাপ দেওয়া হয়।
Advertisement
বায়ুচাপ ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। সাধারণত দেখা যায় না।  ২৩ জুন এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং হিথ্রো-মুম্বই বিমানেও একই রকম ঘটনা ঘটেছিল। বিমানে মোট ১১ জন যাত্রী ছিলেন। তার মধ্যে ছয়জন বিমানকর্মী। যাত্রীদের মধ্যে মাথা ঘোরা এবং বমির লক্ষ্মণ দেখা দেয়।
Advertisement
তবে বিমানটিকে জরুরি অবতরণ করতে হয়নি। সফলভাবেই উড়ানটি মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। কেবিনে বায়ুর চাপ কমে যাওয়া এবং অক্সিজেনের মাত্রা কম হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। চলতি মাসের প্রথমদিকে আমদাবাদ-লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ড্রিমলাইনার বিমানটি ওড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভেঙে পড়েছিল। বিমানটি একটি মেডিক্যাল হস্টেলে আঘাত হানে। দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় তিনশোর কাছাকাছি। ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার হলেও তথ্য বিশ্লেষণ না হওয়ায় এখনও পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। সেই ঘটনার একমাসও হয়নি, ফের বোয়িং ড্রিমলাইনারে দুর্ঘটনা। বোয়িং একের পর এক দুর্ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতি বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।