পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ভারতে সোনার আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির পর ফের মাথাচাড়া দিয়েছে সোনার চোরাচালান। স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও শিল্প মহলের প্রতিনিধিদের আশঙ্কা, চলতি বছরে অবৈধভাবে দেশে ঢোকা সোনার পরিমাণ ১০০ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, শুল্ক বৃদ্ধির কারণে কালোবাজারে বিপুল মুনাফার সুযোগ তৈরি হওয়ায় চোরাকারবারিরা বৈধ আমদানিকারকদের তুলনায় অনেক কম দামে সোনা বিক্রি করতে পারছে। আর সেই সুযোগটাই নিচ্ছে চোরাচালানকারীরা। 

বিশ্বের বৃহত্তম সোনার বাজার হল চিন। তারপরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। চাহিদা নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং টাকার উপর চাপ কমানোর লক্ষ্যেই কেন্দ্র সরকার গত মে মাসে সোনার আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে।

তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফল হিসেবে চোরাচালান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি সোনা আমদানিকারক ব্যাঙ্কের বুলিয়ন বিভাগের প্রধান বলেছেন, কালোবাজারে ছাড় প্রতি আউন্সে ২০০ ডলার বা ৪ শতাংশেরও বেশি হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, ব্যাঙ্কগুলি যেখানে সামান্য ছাড় দিতেও হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে অবৈধ ব্যবসায়ীরা বিপুল ছাড় দিয়ে ক্রেতা টানছে। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যবসায়ীর কথায়, কালোবাজারি সম্প্রতি মাথাচাড়া দেওয়ায় ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এর ফলে ২০২৬ সালে অবৈধ আমদানি ১০০ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। আরও একাধিক ব্যবসায়ী রয়টার্সকে একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। সেই অনুযায়ী হিসেব করলে প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হবে। ব্যবসায়ীদের হিসেব অনুযায়ী, বর্তমান বাজারমূল্যের অনুপাতে ১০০ টন সোনার দাম হিসেব করলে হবে প্রায় ১৪.৩৫ বিলিয়ন ডলার আর এর ফলে শুল্ক ও বিক্রয় কর বাবদ প্রায় ২.৬৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।
 

ব্যবসায়ী মহলের একাংশের দাবি, আমদানি শুল্ক এবং জিএসটি মিলিয়ে সোনার উপর মোট করের বোঝা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮.৪৫ শতাংশ। ফলে চোরাকারবারিরা কর না দিয়েই সোনা এনে বিপুল লাভ করছে। এক ব্যবসায়ীর কথায়, মাত্র এক কেজি সোনার বার চোরাপথে আনলেই ২৫ লক্ষ টাকারও বেশি লাভ করা সম্ভব। কলকাতার এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী জানান, ৪ শতাংশ ছাড়ে বিক্রি করেও চোরাকারবারিরা বিশাল মুনাফা করছে.

উল্লেখ্য, আমদানি শুল্ক কমানোর পর ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সোনার চোরাচালান উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছিল। তথ্য বলছে, ভারত সোনার ওপর আমদানি শুল্ক কমানোর ফলে ২০২৩ সালে সোনার চোরাচালান ১৫৬.১ টন থেকে কমে পরের বছর ৬৯.২ মেট্রিক টনে নেমে আসে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে তা আরও হ্রাস পেয়ে ২০.৪ টনে দাঁড়ায়। কিন্তু শুল্ক বৃদ্ধির পর পরিস্থিতি আবার পাল্টাতে শুরু করেছে।

হায়দরাবাদের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী জানান, এপ্রিল মাসে ভারত ৪৫.৬ টন সোনা আমদানি করলেও মে মাসে সেই পরিমাণ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। কারণ কালোবাজারে ব্যাপক ছাড়ের ফলে ব্যাঙ্ক ও শোধনাগারগুলি নতুন করে আমদানি কমিয়ে দিয়েছে।

শোধনাগার সংস্থা সিজিআর মেটালয়েসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেমস জোস বলেন, কালোবাজারে ব্যাপক ছাড় বৈধ ব্যবসাকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করেছে। যার ফলে শুল্ক বৃদ্ধির আগে আমদানি করা যে সমস্ত সোনা মজুত রয়েছে তার ওপর ছাড় আউন্স প্রতি ১০০ ডলারেরও বেশি হয়ে গিয়েছে। এর ফলে শোধনাগারগুলি লাভ করতে পারছে না। তাঁর বক্তব্য, স্বর্ণ শোধনাগারগুলি সাধারণত ০.৬৫ শতাংশ মুনাফায় কাজ করে। বর্তমানে বাজারে যে মাত্রার ছাড় চলছে, তাতে নতুন করে ডোরে (আধা-পরিশোধিত সোনা) আমদানির উৎসাহ কার্যত নেই।