পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: ‘হিন্দি হিন্দু হিন্দুস্থান’ ! অভিযোগ,  সঙ্ঘ মস্তিষ্ক প্রণোদিত এহেন তও্ব দেশজুড়ে চাপিয়ে  দেওয়ার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্র সরকার। 'হিন্দি'কে রাষ্ট্রীয় ভাষা করার জন্য রীতিমতো মরিয়া তারা। বিশেষ করে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যগুলির উপর জোর করে হিন্দি ভাষাকে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে সাম্প্রতিক সময়ে বার বার অভিযোগ উঠেছে। যেই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বহু সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে কেন্দ্র সরকারকে।

এই আবহে শনিবার সঙ্ঘ পরিচালিত 'হিন্দি দিবস' অনুষ্ঠানে কিছুটা সুর নরম করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

বলেন, হিন্দিকে ভারতের  অন্যান্য ভাষার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, সঙ্গী হিসেবে দেখতে হবে।  হিন্দি অন্যান্য ভাষার সহযোগী। হিন্দি ভারতীয় অনান্য ভাষাগুলির বন্ধু।

এদের মধ্যে কোনও বিরোধীতা নেই।’ ভারত ভাষাকেন্দ্রিক দেশ। বিভিন্ন ভাষার ঐক্যতায় 'শক্তিশালী' ভারতের ভিত।

 ব্রিটিশ শাসনামলে ভাষাই ছিল প্রতিরোধের কণ্ঠ। বন্দে মাতরম এবং জয় হিন্দ-এর মতো স্লোগানগুলি এই ভাষাগত চেতনা থেকেই উঠে আসে। কালক্রমে জাতীয় গর্বের স্থায়ী প্রতীক হয়ে যায়। কথা প্রসঙ্গে,  অসমের বিহু, পশ্চিমবঙ্গের বাউল, পঞ্জাবের লহরির মতো বিভিন্ন আঞ্চলিক লোকসঙ্গীতের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তাঁর গুজরাতি সত্তা নিয়ে অমিত শাহ এদিন আরও বলেন, গুজরাতি হয়েও হিন্দি-ভাষাকে আলিঙ্গন করে নিয়েছেন তিনি। তাতে কি নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলেছেন?

তাতো নয়। তিনি আরও বলেন, রাজ্যের ভাষা হল গুজরাটি। কিন্তু শুরু থেকেই দয়ানন্দ সরস্বতী, মহাত্মা গান্ধি,  সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এবং কেএম মুন্সির মতো নেতারা হিন্দিকে গ্রহণ করেছেন, এর প্রচার করেছেন। গুজরাত হিন্দি এবং গুজরাটি দুই ভাষারই বিকাশের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, হিন্দি দিবস উপলক্ষে গুজরাতের গান্ধিনগরে অনুষ্ঠিত পঞ্চম আখিল ভারতীয় রাজভাষা সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল, রাজভাষা বিভাগের সচিব অংশুলি আর্য সহ  কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরের সাত হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা।