পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলবার ভারতীয় কোস্ট গার্ড (আইসিজি) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, ওমানের উপকূলে পালাউ-পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক ট্যাংকারে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরবর্তী পরিস্থিতিতে ওমানি কর্তৃপক্ষের সাথে নিরন্তর সমন্বয় বজায় রেখে জাহাজটিতে থাকা চব্বিশ জন ভারতীয় নাবিক উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই নাবিক উদ্ধার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হয়।
আরও পড়ুন:
একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৮ জুন আইসিজি-র মুম্বাইস্থ মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এমআরসিসি) ওমানের মাসিরাহ উপকূলের কাছে নোঙর করা ট্যাংকার এমটি মারিভেক্সের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লাভ করে। জাহাজটিতে মোট ২৪ জন নাবিক কর্মরত ছিলেন, যাদের প্রত্যেকেই ভারতীয় নাগরিক।
জাহাজে থাকা একজন নাবিকের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় সরাসরি এমআরসিসি-তে যোগাযোগ করে এই বিপদসংকেত প্রদান করেন বলে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।আরও পড়ুন:
তথ্যটি পাওয়ার সাথে সাথেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার ভারতীয় নাবিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমআরসিসি ত্বরিত গতিতে ওমানি কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড় সমন্বয় সাধন করে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবং নাবিকদের নিরাপত্তার প্রতি তাৎক্ষণিক হুমকি অনুধাবন করতে পেরে, এমআরসিসি মুম্বাই দেরি না করে ওমান মেরিটাইম সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ সেন্টারের (ওএমএসসি) সাথে জরুরি যোগাযোগ স্থাপন করে। ওএমএসসি-কে সার্চ মিশন কোঅর্ডিনেটরের দায়িত্ব গ্রহণ করে জাহাজ ও নাবিকদের দ্রুত সহায়তার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়।
আইসিজি আরও জানিয়েছে, দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে ওএমএসসি কাছাকাছি থাকা একটি জাহাজকে ভিন্ন পথে ঘুরিয়ে দেয় এবং দুটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু ও তার সমন্বয় সম্পন্ন করে। এই নাবিক উদ্ধার অভিযানের সময় উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং ভারতীয় নাবিকদলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মুম্বাই ও ওমান উদ্ধার কেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
পরবর্তীতে ৮ জুন ওএমএসসি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে যে, ওমান নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করে সকল ক্রু সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত নাবিকরা বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আইসিজি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটি বর্তমানে ওমানের মাসিরাহ উপকূলে নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে। এই সফল উদ্ধার অভিযানটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সহযোগিতার গুরুত্ব এবং এই অঞ্চলের সামুদ্রিক উদ্ধার কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে গড়ে ওঠা শক্তিশালী সমন্বয়ের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।