পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ মহিলাদের জন্য বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিপুল সংখ্যক অযোগ্য উপভোক্তার নাম যুক্ত হওয়ার ঘটনা সামনে আসছে। পশ্চিমবঙ্গে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে পুরুষদের নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ ওঠার পর, এবার মহারাষ্ট্রে লড়কি বহিন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে। সরকারি পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছে, এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকায় অনেক অযোগ্য ব্যক্তি স্থান পেয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুরুষও রয়েছেন। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর মহারাষ্ট্র সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
আরও পড়ুন:
মহারাষ্ট্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এই লড়কি বহিন প্রকল্পের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোট ২.৪৭ কোটি সুবিধাভোগীর মধ্যে প্রায় ৮১ লক্ষ ব্যক্তিই প্রকল্পের যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। রাজ্যের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের পরিচালিত এই বিশদ পর্যালোচনায় আরও উঠে এসেছে যে, অযোগ্য সুবিধাভোগীদের তালিকায় ১৪,২৯৮ জন পুরুষও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। অথচ এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করার কথা। সরকারি সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, গত প্রায় দশ মাসে এই অযোগ্য ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টে ২১ কোটিরও বেশি টাকা ভুলবশত চলে গেছে।
আরও পড়ুন:
রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে যে, যাঁরা বেআইনিভাবে এই প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি, যারা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য জাল নথি জমা দিয়েছেন বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফরণবিস জানিয়েছেন, প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে সেলফ ভেরিফিকেশন মোডে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছিল, কারণ সেই সময় বহু আবেদনকারীর কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় ছিল না।
আরও পড়ুন:
পর্যালোচনায় আরও উঠে এসেছে যে, প্রায় ১০ লক্ষ করদাতা, ৫ লক্ষ সরকারি কর্মচারী এবং কয়েক লক্ষ গাড়ির মালিকও যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করেও লড়কি বহিন প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করছিলেন। এই ব্যাপক যাচাই প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত সুবিধাভোগীর সংখ্যা ২.৪৭ কোটি থেকে কমে প্রায় ১.৭ কোটিতে নেমে এসেছে। লড়কি বহিন প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকার ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারি চালাবে বলে জানিয়েছে।