পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ কেরলে বর্ষা প্রবেশ করেছে। এবার পশ্চিমবঙ্গেও বর্ষার আগমনে আর বেশি দেরি নেই। আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই রাজ্যের কিছু এলাকায় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বর্ষা প্রবেশ ঘটতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। গত কয়েক দিনের ঝড়বৃষ্টির ফলে গরমের তীব্রতা কিছুটা কমলেও বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি এখনও বজায় রয়েছে। তবে বর্ষা প্রবেশ করলে আবহাওয়ায় আরও স্বস্তি মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চলতি মাসের শুরুতেই কেরলে বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটেছে। এরপর ধীরে ধীরে মৌসুমি বায়ু দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে মহারাষ্ট্র, কর্নাটক ও তামিলনাড়ুর একাধিক অঞ্চলে বর্ষা প্রবেশের প্রভাব স্পষ্ট। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বঙ্গোপসাগরের আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে, যার জেরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বর্ষা শুরু হবে।

আবহাওয়াবিদদের কথায়, দীর্ঘদিনের আবহাওয়ার ধারা অনুযায়ী সাধারণত উত্তরবঙ্গেই প্রথম বর্ষা প্রবেশ ঘটে।

পরে তা ধাপে ধাপে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবারও মহানগর এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসঙ্গে ঘণ্টায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি।
কিছু এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার দাপটও দেখা যেতে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

উত্তরবঙ্গেও আগামী কয়েক দিন আবহাওয়ার একই রকম পরিস্থিতি থাকতে পারে। বিশেষ করে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং ও কালিম্পঙেও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পাহাড় ও ডুয়ার্সের জেলাগুলিতে সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টির প্রকোপ বজায় থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর।