ভারতের রাজনৈতিক ময়দানে আবারও এক নতুন চমক দেখা গেল। ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি নিয়ে যখন দেশজুড়ে আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই নিজের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা করলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মার্কেন্ডু কাটজু। তাঁর নতুন এই রাজনৈতিক দলের নাম রাখা হয়েছে ইস্ক করো পার্টি বা আইকেপি। দলের মূল স্লোগান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যুদ্ধ নয়, প্রেম করুন।

দলের নাম প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের জল্পনা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে কেবল মজার উদ্যোগ বা প্রেম প্রচারের প্রচারণা বলে মনে করলেও মার্কেন্ডু কাটজু স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এটি কোনো রসিকতা নয়। তাঁর দাবি, ভারতের বর্তমান গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়েছে।

এক্স বা সাবেক টুইটারে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে মার্কেন্ডু কাটজু উল্লেখ করেছেন যে, দেশ বর্তমানে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, শিশু অপুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি, শিক্ষার সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধির মতো একাধিক জটিল সমস্যায় জর্জরিত।

তাঁর মতে, ধর্ম, জাতপাত ও বর্ণের ভিত্তিতে বিভক্ত সমাজে এসব সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ তুলেছেন যে, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির স্বার্থে অনেক রাজনৈতিক নেতা ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষকে বিভক্ত করছেন। তাই আইকেপি-র প্রধান লক্ষ্য হবে ধর্ম, জাত ও বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক ভালোবাসা গড়ে তোলা।

এদিকে, মার্কেন্ডু কাটজু সম্প্রতি মহুয়া মৈত্রকে তাঁর নতুন দলে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানিয়েছেন।

সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই আমন্ত্রণবার্তা পৌঁছে দেন। একই সঙ্গে তিনি ককরোচ জনতা পার্টির তীব্র সমালোচনা করতেও ছাড়েননি। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য করে তিনি বলেন, শুধুমাত্র কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করলেই মূল সমস্যার সমাধান হয় না। উদাহরণ হিসেবে তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং প্রশ্ন তোলেন, একজন মন্ত্রী চলে গেলে তাঁর জায়গায় অন্য কেউ আসবেন, তাতে বাস্তব পরিস্থিতির আসলে কতটা পরিবর্তন হবে?

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নতুন এই দলের নাম ব্যতিক্রমী হলেও মার্কেন্ডু কাটজুর বক্তব্যে সামাজিক ঐক্য ও রাজনৈতিক সংস্কারের একটি বিশেষ বার্তা রয়েছে। তবে নতুন এই রাজনৈতিক উদ্যোগ আদৌ কতটা জনসমর্থন আদায় করতে পারে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে দেশবাসীর।