৩০ নভেম্বর ২০২৫, রবিবার, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিসিসিআই ও কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশেই করমর্দনে না করেছিলেন পাইক্রফট 

ইমামা খাতুন
  • আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, শুক্রবার
  • / 422

পুবের কলম প্রতিবেদক: এশিয়া কাপে সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে ভারত পাকিস্তান করমর্দন বিতর্ক। এখনও তা নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ শাপশাপান্ত করছেন ভারতীয় ক্রিকেটারদের, কেউ বা বিসিসিআইকে। অনেকেরই বক্তব্য, মাচটা খেলার কি দরকার ছিল? আবার কেউ কেউ বলছেন, ‘এটাই পাকিস্তানের প্রতি যোগ্য জবাব হয়েছে।’

আবার এই ম্যাচে দুই দলের ক্রিকেটারদের হ্যান্ডশেক করতে বারণ করে পাকিস্তান ক্রিকেটের বিষ নজরে পড়েছেন সেদিনের ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডু পাইক্রফট। পাকিস্তান তাঁর বিরুদ্ধে আ্ইসিসিতে অভিযোগও জানিয়েছিল।

আরও পড়ুন: ভারত–পাক ম্যাচ বয়কটের আহ্বান নিহত সেনার স্ত্রীর

যদিও তাতে কোনও কাজ হয়নি। কেউ কেউ আবার এতে আইসিসি প্রেসিডেন্ট জয় শাহের দিকেও আঙুল তুলেছেন। কেউ কেউ বলছেন, তাঁর অঙ্গুলিহেলনেই নাকি এসব হয়েছে। তবে পাইক্রফটকে ক্লিনচিট দিয়েছিল আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্তা সংস্থা এমন কিছু জানিয়েছে যাতে পাইক্রফটের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হল।

আরও পড়ুন: ২৮ সেপ্টেম্বর বিসিসিআইয়ের বার্ষিক সাধারণ সভা

কারণ এবার এক নতুন তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, ম্যাচ শুরুর কিছু আগে পাইক্রফটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তিনি যাতে ভারত পাক দুই দলের ক্যাপ্টেন ও ক্রিকেটারদের করমর্দন থেকে বিরত রাখেন।

আরও পড়ুন: জিএসটি কাঠামোয় বদল নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব অমিত মিত্র

কারণ ভারত পাকিস্তান সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দুই দলের ক্যাপ্টেন বা ক্রিকেটাররা হাত মেলালে তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল সেই নির্দেশ পাঠিয়ে দিয়েছিল মাঠে। ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডু পাইক্রফট সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন মাত্র।

তিনি টসের আগে ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার ও পাকিস্তান ক্যাপ্টেন সলমন আগাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হ্যান্ডশেক না করার জন্য। ‘হ্যান্ডশেক প্রোটোকল জানিয়ে দিয়েছিলেন দুই দলের ক্যাপ্টেনকে। অর্থাৎ সূর্য বা সলমন দুজনেই এই প্রোটোকল সম্পর্কে অবহিত ছিলেন।

জানা গিয়েছে পুরো নির্দেশিকাটি গিয়েছিল বিসিসিআইযের কাছ থেকে। ভারত সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়েই এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল। পাইক্রফট পুরো বিষয়টি আইসিসিকে জানানোর সময় পাননি।

সূর্যকে বিসিসিআইয়ের তরফ থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাক ক্যাপ্টেন সলমন আগাকে জানানোর কাজটা করতে হয়েছিল ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডু পাইক্রফটকেই। তিনি সলমন আগাকে জানিয়েছিলেন, যাতে মাঠে তাঁকে কোনও অপ্রীতিকর অবস্থার মধ্যে পড়তে না হয়।

আসলে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের তিনি বিতর্ক থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। বলা ভালো, পাক ক্রিকেটারদের বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ভুল বুঝে সেই পাইক্রফটের বিরুদ্ধেই আইসিসিতে নালিশ জানিয়ে দিল পাকিস্তান।

এমনকি পরে পাইক্রফট আইসিসির কাছে নিজের স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর পাকিস্তানের তরফ থেকে বলা হয়েছিল অ্যান্ডু পাইক্রফট ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। কিন্তু বাস্তব হল, পাইক্রফট কোনও ক্ষমাই চাননি। এদিকে আইসিসি জানিয়েছে, পাইক্রফট কোনও প্রোটোকল লঙ্ঘন করেননি। তিনি নিয়মমাফিক কাজই করেছেন।

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বিসিসিআই ও কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশেই করমর্দনে না করেছিলেন পাইক্রফট 

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, শুক্রবার

পুবের কলম প্রতিবেদক: এশিয়া কাপে সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে ভারত পাকিস্তান করমর্দন বিতর্ক। এখনও তা নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ শাপশাপান্ত করছেন ভারতীয় ক্রিকেটারদের, কেউ বা বিসিসিআইকে। অনেকেরই বক্তব্য, মাচটা খেলার কি দরকার ছিল? আবার কেউ কেউ বলছেন, ‘এটাই পাকিস্তানের প্রতি যোগ্য জবাব হয়েছে।’

আবার এই ম্যাচে দুই দলের ক্রিকেটারদের হ্যান্ডশেক করতে বারণ করে পাকিস্তান ক্রিকেটের বিষ নজরে পড়েছেন সেদিনের ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডু পাইক্রফট। পাকিস্তান তাঁর বিরুদ্ধে আ্ইসিসিতে অভিযোগও জানিয়েছিল।

আরও পড়ুন: ভারত–পাক ম্যাচ বয়কটের আহ্বান নিহত সেনার স্ত্রীর

যদিও তাতে কোনও কাজ হয়নি। কেউ কেউ আবার এতে আইসিসি প্রেসিডেন্ট জয় শাহের দিকেও আঙুল তুলেছেন। কেউ কেউ বলছেন, তাঁর অঙ্গুলিহেলনেই নাকি এসব হয়েছে। তবে পাইক্রফটকে ক্লিনচিট দিয়েছিল আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্তা সংস্থা এমন কিছু জানিয়েছে যাতে পাইক্রফটের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হল।

আরও পড়ুন: ২৮ সেপ্টেম্বর বিসিসিআইয়ের বার্ষিক সাধারণ সভা

কারণ এবার এক নতুন তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, ম্যাচ শুরুর কিছু আগে পাইক্রফটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তিনি যাতে ভারত পাক দুই দলের ক্যাপ্টেন ও ক্রিকেটারদের করমর্দন থেকে বিরত রাখেন।

আরও পড়ুন: জিএসটি কাঠামোয় বদল নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব অমিত মিত্র

কারণ ভারত পাকিস্তান সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দুই দলের ক্যাপ্টেন বা ক্রিকেটাররা হাত মেলালে তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল সেই নির্দেশ পাঠিয়ে দিয়েছিল মাঠে। ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডু পাইক্রফট সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন মাত্র।

তিনি টসের আগে ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার ও পাকিস্তান ক্যাপ্টেন সলমন আগাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হ্যান্ডশেক না করার জন্য। ‘হ্যান্ডশেক প্রোটোকল জানিয়ে দিয়েছিলেন দুই দলের ক্যাপ্টেনকে। অর্থাৎ সূর্য বা সলমন দুজনেই এই প্রোটোকল সম্পর্কে অবহিত ছিলেন।

জানা গিয়েছে পুরো নির্দেশিকাটি গিয়েছিল বিসিসিআইযের কাছ থেকে। ভারত সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়েই এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল। পাইক্রফট পুরো বিষয়টি আইসিসিকে জানানোর সময় পাননি।

সূর্যকে বিসিসিআইয়ের তরফ থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাক ক্যাপ্টেন সলমন আগাকে জানানোর কাজটা করতে হয়েছিল ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডু পাইক্রফটকেই। তিনি সলমন আগাকে জানিয়েছিলেন, যাতে মাঠে তাঁকে কোনও অপ্রীতিকর অবস্থার মধ্যে পড়তে না হয়।

আসলে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের তিনি বিতর্ক থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। বলা ভালো, পাক ক্রিকেটারদের বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ভুল বুঝে সেই পাইক্রফটের বিরুদ্ধেই আইসিসিতে নালিশ জানিয়ে দিল পাকিস্তান।

এমনকি পরে পাইক্রফট আইসিসির কাছে নিজের স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর পাকিস্তানের তরফ থেকে বলা হয়েছিল অ্যান্ডু পাইক্রফট ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। কিন্তু বাস্তব হল, পাইক্রফট কোনও ক্ষমাই চাননি। এদিকে আইসিসি জানিয়েছে, পাইক্রফট কোনও প্রোটোকল লঙ্ঘন করেননি। তিনি নিয়মমাফিক কাজই করেছেন।