১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনের দখল করা ভূখণ্ড ছাড়বে না রাশিয়া

মস্কো: দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি। শেষবেলায় বাইডেন প্রশাসনের শক্তিশালী দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি পালটা আক্রমণে পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া। ফলে ইউক্রেনে যে কোনো সময়ই হামলার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কিয়েভজুড়ে দেখা দিয়েছে থমথমে পরিবেশ। রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মিসাইল ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তুলেছে কিয়েভ।

ইউক্রেনের হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভে তাদের দূতাবাস বন্ধ ঘোষণা করলেও একদিন পর তা খুলে দিয়েছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখাতে। তবে ভয় কাটছে না। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইউক্রেনে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ রেখেছে ইউরোপের তিন দেশ। বুধবার ইতালি, স্পেন এবং গ্রিসও হামলার শঙ্কায় বন্ধ রেখেছে নিজেদের দূতাবাস। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় কিয়েভে এক ডজনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ইউক্রেনজুড়ে বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে আঘাত হানায় ব্যাপক ব্ল্যাকআউটের ঘটনা ঘটছে।

এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত মস্কো। তবে যুদ্ধ থামাতে কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি। ক্রেমলিনের পাঁচজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের দখল করা ভূখণ্ড ছাড়বে না রাশিয়া এবং কিয়েভকে ন্যাটো জোটে যোগ দেওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করতে হবে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর থেকে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিজিয়া এবং খেরসনের বহু জায়গা দখল করে রেখেছে রুশ বাহিনী। এছাড়া কুরস্ক অঞ্চলেও সংঘাত চলছে। ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের ক্ষেত্রে পুতিন এসব জায়গা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।

ইউক্রেনকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্তি করার কথা উঠলে সব সময়ই লক্ষ করা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বলে থাকে—‘এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।’কিন্তু পুতিনের হুমকি থাকায় বাস্তবে তা কিন্তু হচ্ছে না। রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধ চলছে। এমন একটি মুহূর্তে ইউক্রেনকে সদস্য করা হলে অবধারিতভাবে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে ন্যাটো। সেক্ষেত্রে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত সর্বাত্মক রূপ ধারণ করবে। এমন পরিস্থিতিতে এখন যা অবস্থা, রাশিয়ার শর্ত মেনে নিয়েই ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির আলোচনা করতে হবে। আর সেটা হলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সর্বস্ব হারানোর মতো অবস্থা তৈরি হবে। কারণ জেলেনস্কি রুশ আক্রমনের শুরু থেকে ন্যাটো জোটে যোগ দিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান। আর এখন পুতিনের কথায় ভবিষ্যৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি এসব শর্ত মেনে নেয়, তাহলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় পরাজয় ঘটবে কিয়েভের।

ট্যাগ :
প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

বেলডাঙা অশান্তি: এনআইএ তদন্তে হস্তক্ষেপ নয়, ইউএপিএ ধারা নিয়ে হাই কোর্টকেই সিদ্ধান্তের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ইউক্রেনের দখল করা ভূখণ্ড ছাড়বে না রাশিয়া

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৪, শুক্রবার

মস্কো: দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি। শেষবেলায় বাইডেন প্রশাসনের শক্তিশালী দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি পালটা আক্রমণে পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া। ফলে ইউক্রেনে যে কোনো সময়ই হামলার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কিয়েভজুড়ে দেখা দিয়েছে থমথমে পরিবেশ। রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মিসাইল ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তুলেছে কিয়েভ।

ইউক্রেনের হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভে তাদের দূতাবাস বন্ধ ঘোষণা করলেও একদিন পর তা খুলে দিয়েছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখাতে। তবে ভয় কাটছে না। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইউক্রেনে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ রেখেছে ইউরোপের তিন দেশ। বুধবার ইতালি, স্পেন এবং গ্রিসও হামলার শঙ্কায় বন্ধ রেখেছে নিজেদের দূতাবাস। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় কিয়েভে এক ডজনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ইউক্রেনজুড়ে বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে আঘাত হানায় ব্যাপক ব্ল্যাকআউটের ঘটনা ঘটছে।

এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত মস্কো। তবে যুদ্ধ থামাতে কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি। ক্রেমলিনের পাঁচজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের দখল করা ভূখণ্ড ছাড়বে না রাশিয়া এবং কিয়েভকে ন্যাটো জোটে যোগ দেওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করতে হবে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর থেকে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিজিয়া এবং খেরসনের বহু জায়গা দখল করে রেখেছে রুশ বাহিনী। এছাড়া কুরস্ক অঞ্চলেও সংঘাত চলছে। ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের ক্ষেত্রে পুতিন এসব জায়গা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।

ইউক্রেনকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্তি করার কথা উঠলে সব সময়ই লক্ষ করা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বলে থাকে—‘এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।’কিন্তু পুতিনের হুমকি থাকায় বাস্তবে তা কিন্তু হচ্ছে না। রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধ চলছে। এমন একটি মুহূর্তে ইউক্রেনকে সদস্য করা হলে অবধারিতভাবে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে ন্যাটো। সেক্ষেত্রে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত সর্বাত্মক রূপ ধারণ করবে। এমন পরিস্থিতিতে এখন যা অবস্থা, রাশিয়ার শর্ত মেনে নিয়েই ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির আলোচনা করতে হবে। আর সেটা হলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সর্বস্ব হারানোর মতো অবস্থা তৈরি হবে। কারণ জেলেনস্কি রুশ আক্রমনের শুরু থেকে ন্যাটো জোটে যোগ দিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান। আর এখন পুতিনের কথায় ভবিষ্যৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি এসব শর্ত মেনে নেয়, তাহলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় পরাজয় ঘটবে কিয়েভের।