রুশ ও পশ্চিমা বিশ্বের পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা
আরও পড়ুন:
পুবের কলম ওয়েবডেস্ক : রাশিয়া ও পশ্চিমা শক্তি পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রেখেছে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পশ্চিমারা প্রথমে রাশিয়াকে ঘায়েল করার চেষ্টা করেছে। এতে রাশিয়া ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয় বলে দেশটির ধনকুবেররা স্বীকার করেছে। শুধু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নয়, গণমাধ্যম ও ইন্টারনেটেও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে রাশিয়া। এরপর রাশিয়াও পাল্টা নিষেধাজ্ঞা দিতে শুরু করে। জেট ইঞ্জিন রফতানি বন্ধ, পাল্টা ফেসবুক-ইউটিউবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় রাশিয়া। পশ্চিমাদের মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রাশিয়াও পাল্টা মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে।
পশ্চিমা মিডিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যে ধরনের খবর ছাপছে তাতেই ক্ষুব্ধ প্রেসিডেন্ট পুতিন। রাশিয়ার সরকার বলছে, ইউক্রেন সংঘাতকে রাশিয়ার তৈরি ‘যুদ্ধ’ বা সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ হিসাবে দেখা উচিত নয়, এটি পশ্চিমা হুমকি মোকাবিলার একটি পন্থা মাত্র, নাৎসিবাদীদের কোমর ভেঙে দেওয়ার অভিযান, ইউক্রেনকে নিরস্ত্র করার প্রয়াস।আরও পড়ুন:
সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঠেকাতে ইউক্রেনের দুই শহরে মানবিক করিডোর খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া। পূর্ব ইউক্রেনের দুই শহরে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছে। এখন মারিউপোল ও ভলনোভাখা শহরের দখল নিতে মরিয়া রুশ সেনা। ফলে অসামরিক লোকজন সরে গেলে সেখানে পুরোদমে আক্রমণ হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শনিবার রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, মারিউপোল ও ভলনোভাখা শহরে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে।
তবে এই বিরতি কতক্ষণ স্থায়ী হবে, তা নিশ্চিত করা হয়নি। রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রকেরদাবি, ইউক্রেন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের সামরিক প্রশাসন থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ওই অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান পাভলো কিরিলেঙ্কো জানিয়েছেন, এরই মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এখন অসামরিক লোকজন কীভাবে সরিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে।আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
মারিউপোল ও ভলনোভাখা এত গুরুত্বপূর্ণ শহর কেন?
আরও পড়ুন:
গত বৃহস্পতিবার থেকে মারিউপোল অবরুদ্ধ করে রেখেছে রুশ বাহিনী।
সাড়ে চার লক্ষ মানুষের এই শহরটিতে রাশিয়া ব্যাপক গোলাবর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে ইউক্রেন। মারিউপোলের নিয়ন্ত্রণ পেলে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় বন্দর নগরী রাশিয়ার হাতে চলে যাবে। এর মাধ্যমে রুশপন্থী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলের সঙ্গে রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়া দ্বীপপুঞ্জের করিডোর তৈরি হবে। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখল করে নিয়েছিল রাশিয়া। আর ভলনোভাখা শহরটির তেমন পরিচিতি না থাকলেও রাশিয়ার কাছে এটিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আক্রমণ শুরুর পর থেকেই শহরটিতে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। দোনেৎস্ক ও মারিউপোলের সংযোগ সড়কের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে কৌশলগত দিক থেকে ভলনোভাখা এখন বেশ গুরুত্বপূর্ণ।আরও পড়ুন: