১১ ডিসেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজ বাংলাদেশের জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলার ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়

 

আজ বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ের করা মামলার প্রথম রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সোমবার ট্রাইব্যুনালের এজলাস থেকে রায় ঘোষণার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আজকের রায় দেবেন। অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আসামি ও অভিযোগ

এ মামলার তিন আসামি—

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (পলাতক)

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান (পলাতক)

সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন (গ্রেপ্তার, পরে অ্যাপ্রুভার)

প্রসিকিউশন অভিযোগ করেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সব মানবতাবিরোধী অপরাধের “মাস্টারমাইন্ড, পরিকল্পনাকারী ও সর্বোচ্চ নির্দেশদাতা” ছিলেন শেখ হাসিনা। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে তাঁর নির্দেশে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে ১,৫০০ জনকে হত্যা এবং ৩০,০০০ জনকে আহত করা হয়।

সাবেক আইজিপি মামুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান—

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে

তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের মাধ্যমে
তিনি “লেথাল উইপন” ব্যবহারের নির্দেশ পেয়েছিলেন।

পাঁচটি অভিযোগ

তিন আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল মোট ৫টি অভিযোগ গঠন করেছে—

1. উসকানিমূলক বক্তব্য

2. আন্দোলনকারীদের নির্মূল করতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ

3. রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা

4. চানখাঁরপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা

5. আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা

 

প্রসিকিউশন দাবি করেছে, পাঁচটি অভিযোগই তারা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে।

পলাতক থাকায় আপিলের সুযোগ নেই

প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার জানান—

রায়ে শাস্তি হলে পলাতক দুই আসামি আপিল করতে পারবেন না

আপিলের জন্য আত্মসমর্পণ বা গ্রেপ্তার হওয়া বাধ্যতামূলক

নারী আসামির জন্য বিশেষ সুবিধার প্রশ্নে তিনি বলেন, রায়ে নারী-পুরুষ হিসেবে কোনো আলাদা সুবিধা নেই; অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী শাস্তি হবে।

ইন্টারপোলকে নতুন আবেদনের প্রস্তুতি

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আগেই রেড নোটিশের আবেদন করা হয়েছিল।
যদি আজ সাজা হয়, তবে প্রসিকিউশন কনভিকশন ওয়ারেন্টসহ আবার আবেদন করবে।

৩৯৭ দিনের বিচার প্রক্রিয়া

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন

১৭ অক্টোবর প্রথম ‘মিসকেস’

১ জুন ফরমাল চার্জ

১০ জুলাই অভিযোগ গঠন

৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি

২৩ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শেষ

১৭ নভেম্বর রায়

মোট সময়: ৩৯৭ দিন

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা

ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে চারটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলমান—

1. জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ড (রায় আজ)

2. ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে হেফাজত হত্যাকাণ্ড

3. গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলা
এসব মামলায় আসামি প্রায় ৫০ জন—যার মধ্যে বহু সাবেক সেনা কর্মকর্তা।

পূর্বাপর প্রেক্ষাপট

২০১০ সালে ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধে ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে—এর মধ্যে পাঁচজন জামায়াতের শীর্ষ নেতা।

বর্তমান ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের পর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ড।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গুমের ঘটনাগুলোর বিচার।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

দেশের সমস্ত স্কুলে বাধ্যতামূলক হোক ‘বন্দে মাতরম’: সংসদে জোর শওয়াল সুধা মূর্তির

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

আজ বাংলাদেশের জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলার ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৫, সোমবার

 

আজ বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ের করা মামলার প্রথম রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সোমবার ট্রাইব্যুনালের এজলাস থেকে রায় ঘোষণার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আজকের রায় দেবেন। অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আসামি ও অভিযোগ

এ মামলার তিন আসামি—

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (পলাতক)

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান (পলাতক)

সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন (গ্রেপ্তার, পরে অ্যাপ্রুভার)

প্রসিকিউশন অভিযোগ করেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সব মানবতাবিরোধী অপরাধের “মাস্টারমাইন্ড, পরিকল্পনাকারী ও সর্বোচ্চ নির্দেশদাতা” ছিলেন শেখ হাসিনা। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে তাঁর নির্দেশে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে ১,৫০০ জনকে হত্যা এবং ৩০,০০০ জনকে আহত করা হয়।

সাবেক আইজিপি মামুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান—

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে

তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের মাধ্যমে
তিনি “লেথাল উইপন” ব্যবহারের নির্দেশ পেয়েছিলেন।

পাঁচটি অভিযোগ

তিন আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল মোট ৫টি অভিযোগ গঠন করেছে—

1. উসকানিমূলক বক্তব্য

2. আন্দোলনকারীদের নির্মূল করতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ

3. রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা

4. চানখাঁরপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা

5. আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা

 

প্রসিকিউশন দাবি করেছে, পাঁচটি অভিযোগই তারা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে।

পলাতক থাকায় আপিলের সুযোগ নেই

প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার জানান—

রায়ে শাস্তি হলে পলাতক দুই আসামি আপিল করতে পারবেন না

আপিলের জন্য আত্মসমর্পণ বা গ্রেপ্তার হওয়া বাধ্যতামূলক

নারী আসামির জন্য বিশেষ সুবিধার প্রশ্নে তিনি বলেন, রায়ে নারী-পুরুষ হিসেবে কোনো আলাদা সুবিধা নেই; অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী শাস্তি হবে।

ইন্টারপোলকে নতুন আবেদনের প্রস্তুতি

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আগেই রেড নোটিশের আবেদন করা হয়েছিল।
যদি আজ সাজা হয়, তবে প্রসিকিউশন কনভিকশন ওয়ারেন্টসহ আবার আবেদন করবে।

৩৯৭ দিনের বিচার প্রক্রিয়া

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন

১৭ অক্টোবর প্রথম ‘মিসকেস’

১ জুন ফরমাল চার্জ

১০ জুলাই অভিযোগ গঠন

৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি

২৩ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শেষ

১৭ নভেম্বর রায়

মোট সময়: ৩৯৭ দিন

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা

ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে চারটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলমান—

1. জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ড (রায় আজ)

2. ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে হেফাজত হত্যাকাণ্ড

3. গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলা
এসব মামলায় আসামি প্রায় ৫০ জন—যার মধ্যে বহু সাবেক সেনা কর্মকর্তা।

পূর্বাপর প্রেক্ষাপট

২০১০ সালে ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধে ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে—এর মধ্যে পাঁচজন জামায়াতের শীর্ষ নেতা।

বর্তমান ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের পর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ড।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গুমের ঘটনাগুলোর বিচার।