০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এসআইআরের নামে হয়রানির অভিযোগে সরব মুখ্যমন্ত্রী, বইমেলার মঞ্চ থেকে প্রতিবাদের ডাক

 

এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) ইস্যুতে মানুষের হয়রানির অভিযোগ নতুন নয়। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে একাধিকবার এই প্রক্রিয়াকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি’র নামে অযৌক্তিক হয়রানি বলে আক্রমণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেও ফের একই সুরে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর-এর কারণে মানুষের দুর্ভোগ, এমনকি মৃত্যুর অভিযোগ তুলে তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন এবং সকলকে একজোট হয়ে প্রতিবাদে নামার আহ্বান জানান।
মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই এদিন আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার উদ্বোধন হয়। সেই অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকেই তিনি বলেন, বাংলায় এসআইআর-এর নামে অভূতপূর্ব হয়রানি চলছে। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যে ১১০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে শুনানিতে হাজিরা দিতে হচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি’ নামে যে যুক্তি দেখানো হচ্ছে, তা আগে কখনও এসআইআর প্রক্রিয়ায় ছিল না। তিনি বলেন, “এই ধরনের প্রক্রিয়া একমাত্র বাংলাতেই চলছে, দেশের আর কোথাও নয়। ড্রাফট লিস্ট ও ফাইনাল লিস্ট প্রকাশের পর যাঁরা বঞ্চিত হন, তাঁরাই কেবল অভিযোগ জানানোর সুযোগ পান—এটাই নিয়ম ছিল।”
পদবি ও নামের বানান নিয়ে মানুষকে যেভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে, তা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, কেউ চ্যাটার্জি লিখছেন, কেউ চট্টোপাধ্যায়, কেউ মুখার্জি, কেউ মুখোপাধ্যায়—এতেই আপত্তি তোলা হচ্ছে। এমনকি প্রশ্ন করা হচ্ছে, একই বাবা-মায়ের পাঁচটি সন্তান কীভাবে হতে পারে। মমতার কটাক্ষ, “এমন পরিবার তো আগেও ছিল, তখন তো ‘হাম দো হামারা দো’ ছিল না।”
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ হন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ও কবি জয় গোস্বামীকে এসআইআর নোটিস পাঠানো নিয়ে। তিনি বলেন, “অমর্ত্য সেনকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, তাঁর বাবা-মায়ের বয়সের পার্থক্য কত—এর থেকে লজ্জার আর কী হতে পারে?” শুধু সাহিত্যিক নন, বহু চিকিৎসক ও ইঞ্জিনিয়ারকেও এই প্রক্রিয়ার আওতায় ডাকা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনকে একহাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগে জনগণই ঠিক করত কে ক্ষমতায় আসবে, এখন ভোটের আগেই কমিশন সব নির্ধারণ করে দিচ্ছে। তাঁর মতে, এটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের সামিল। শেষ পর্যন্ত মঞ্চ থেকে উপস্থিত সাহিত্যিক ও অতিথিদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল স্পষ্ট—“আজ অমর্ত্য সেন, জয় গোস্বামীকে ডাকা হয়েছে, কাল আপনাদেরও ডাকা হতে পারে। তাই সবাইকে একসঙ্গে প্রতিবাদ করতে হবে।”

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

ওমানের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান ইরানের: ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চলবে সাফ জানাল তেহরান

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

এসআইআরের নামে হয়রানির অভিযোগে সরব মুখ্যমন্ত্রী, বইমেলার মঞ্চ থেকে প্রতিবাদের ডাক

আপডেট : ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার

 

এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) ইস্যুতে মানুষের হয়রানির অভিযোগ নতুন নয়। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে একাধিকবার এই প্রক্রিয়াকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি’র নামে অযৌক্তিক হয়রানি বলে আক্রমণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেও ফের একই সুরে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর-এর কারণে মানুষের দুর্ভোগ, এমনকি মৃত্যুর অভিযোগ তুলে তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন এবং সকলকে একজোট হয়ে প্রতিবাদে নামার আহ্বান জানান।
মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই এদিন আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার উদ্বোধন হয়। সেই অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকেই তিনি বলেন, বাংলায় এসআইআর-এর নামে অভূতপূর্ব হয়রানি চলছে। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যে ১১০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে শুনানিতে হাজিরা দিতে হচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি’ নামে যে যুক্তি দেখানো হচ্ছে, তা আগে কখনও এসআইআর প্রক্রিয়ায় ছিল না। তিনি বলেন, “এই ধরনের প্রক্রিয়া একমাত্র বাংলাতেই চলছে, দেশের আর কোথাও নয়। ড্রাফট লিস্ট ও ফাইনাল লিস্ট প্রকাশের পর যাঁরা বঞ্চিত হন, তাঁরাই কেবল অভিযোগ জানানোর সুযোগ পান—এটাই নিয়ম ছিল।”
পদবি ও নামের বানান নিয়ে মানুষকে যেভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে, তা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, কেউ চ্যাটার্জি লিখছেন, কেউ চট্টোপাধ্যায়, কেউ মুখার্জি, কেউ মুখোপাধ্যায়—এতেই আপত্তি তোলা হচ্ছে। এমনকি প্রশ্ন করা হচ্ছে, একই বাবা-মায়ের পাঁচটি সন্তান কীভাবে হতে পারে। মমতার কটাক্ষ, “এমন পরিবার তো আগেও ছিল, তখন তো ‘হাম দো হামারা দো’ ছিল না।”
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ হন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ও কবি জয় গোস্বামীকে এসআইআর নোটিস পাঠানো নিয়ে। তিনি বলেন, “অমর্ত্য সেনকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, তাঁর বাবা-মায়ের বয়সের পার্থক্য কত—এর থেকে লজ্জার আর কী হতে পারে?” শুধু সাহিত্যিক নন, বহু চিকিৎসক ও ইঞ্জিনিয়ারকেও এই প্রক্রিয়ার আওতায় ডাকা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনকে একহাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগে জনগণই ঠিক করত কে ক্ষমতায় আসবে, এখন ভোটের আগেই কমিশন সব নির্ধারণ করে দিচ্ছে। তাঁর মতে, এটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের সামিল। শেষ পর্যন্ত মঞ্চ থেকে উপস্থিত সাহিত্যিক ও অতিথিদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল স্পষ্ট—“আজ অমর্ত্য সেন, জয় গোস্বামীকে ডাকা হয়েছে, কাল আপনাদেরও ডাকা হতে পারে। তাই সবাইকে একসঙ্গে প্রতিবাদ করতে হবে।”