১২ ডিসেম্বর ২০২৫, শুক্রবার, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লোকসভা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রাজ্য নির্বাচন কমিশন

পুবের কলম প্রতিবেদকঃ লোকসভা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ১৪তম জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমন বার্তাই দিলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ডঃ আরিজ আফতাব। লোকসভা নির্বাচন কবে হবে সেই নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এদিন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানান, ‘কমিশনের তরফে সঠিক সময়ে নোটিফিকেশন দিয়ে জানানো হবে। আপনারা জানেন প্রতি বছর কবে হয়, কিন্তু যতক্ষণ না কমিশনের তরফে ঘোষণা করা হচ্ছে, বলা যাচ্ছে না। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং নির্বাচনের জন্য আমাদের প্রস্তুতি আছে।’
অন্যদিকে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ডাক দিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব বিপি গোপালিকা। ‘নিজের ভোট নিজে দিন, ভোট দিতে ভয় পাবেন না’; জাতীয় ভোটার দিবসের অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব বিপি গোপালিকা।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে শুরু হয়েছিল জাতীয় ভোটার দিবসের পথ চলা। এবছরের থিম, ‘ভোটের মত কিছু নাই, ভোট আমি দেব তাই।’ ১৪ বছরে পা দিয়ে চলতি বছরে জাতীয় নির্বাচন কমিশন নিজেদের ভূমিকাকে ধরে রাখতে রীতিমতো সারা বছর ধরে নির্ভুলভাবে কাজ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর কয়েকদিন পরেই হতে চলেছে লোকসভা নির্বাচন। তাই এখন থেকেই সম্পূর্ণ প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা যাতে অটুট থাকে সেই লক্ষ্যে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যা এর আগে কখনো নির্বাচন কমিশনের ইতিহাসে দেখা যায়নি। ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে চলতি বছরের ভোটার তালিকা। সেই ভোটার তালিকায় দেখা গেছে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথমবার পুরুষ ভোটারের তুলনায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। বেড়েছে নতুন ভোটারদের সংখ্যাও।

এদিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার বলেন, ২০২৩ সালে সাফল্যের সঙ্গে নয় রাজ্যে নির্বাচন পরিচালনা করেছে নির্বাচন কমিশন। কোনওরকম অশান্তি হয়নি। মহিলা ভোটাররা উল্লেখযোগ্য হারে অংশগ্রহণ করেছেন। ৮১ লক্ষ বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষ ভোটদান করেছেন। ১.৮ কোটি আশি উর্ধ মানুষ ভোট দিয়েছেন, ২.৫ লক্ষ একশো উর্ধ মানুষ ভোট দিয়েছেন। ৮০ লক্ষ মানুষকে তাদের বাড়ি থেকে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির কাছ থেকে প্রতিনিয়ত সমর্থনের আবেদন জানাই।

রাজ্যের মুখ্য সচিব বিপি গোপালিকা বলেন, সব থেকে বড় গণতন্ত্রে আছি, এটা গর্বের। যত বেশি সম্ভব ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। একটা ভোটের জন্য আপনার পছন্দের প্রার্থী হেরে যেতে পারে। যাকে খুশি ভোট দেবো এবং অবাধ সুষ্ঠু ভোট করতে হবে। নির্বাচন করতে অনেক প্রস্তুতি প্রয়োজন হয়। রাজনৈতিক দলগুলির এবং পোলিং এজেন্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। আগামীদিনে গণতন্ত্রকে আরও মজবুত করতে হবে।

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাব বলেন, প্রতিটি বুথে, মহকুমায়, জেলায় এই দিন পালিত হচ্ছে। নির্বাচন গনতন্ত্রের ভিত। আমরা ত্রুটি মুক্ত তালিকা প্রকাশ করার চেষ্টা করি। বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে অনলাইনেও আবেদন করা যাবে। সবাইকে আবেদন ভোটদানের মাধ্যমে নির্বাচনের উৎসবে সামিল হন।

এদিনের অনুষ্ঠানে দশ জন নতুন ভোটারের হাতে ভোটার পরিচয়পত্র তুলে দেওয়ার পাশাপাশি প্রকাশ করা হয় তিনটি বই এবং নির্বাচনী বিধি ও নিয়মাবলীকে একত্র করে ৩২টি বইয়ের একটি সঙ্কলন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুখ্যসচিব বিপি গোপালিকা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের আইকন জিজা ঘোষ ও লিজা ব্যানার্জি, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাব। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে উপস্থিত ছিলেন অরূপ বিশ্বাস, সুব্রত বক্সী। বিজেপির তরফে উপস্থিত ছিলেন শিশির বাজোরিয়া এবং সিপিআইএমের তরফে উপস্থিত ছিলেন শমীক লাহিড়ী।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

সঞ্জীব ভাটের আর্জি খারিজ শীর্ষ কোর্টে

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

লোকসভা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রাজ্য নির্বাচন কমিশন

আপডেট : ২৫ জানুয়ারী ২০২৪, বৃহস্পতিবার

পুবের কলম প্রতিবেদকঃ লোকসভা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ১৪তম জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমন বার্তাই দিলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ডঃ আরিজ আফতাব। লোকসভা নির্বাচন কবে হবে সেই নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এদিন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানান, ‘কমিশনের তরফে সঠিক সময়ে নোটিফিকেশন দিয়ে জানানো হবে। আপনারা জানেন প্রতি বছর কবে হয়, কিন্তু যতক্ষণ না কমিশনের তরফে ঘোষণা করা হচ্ছে, বলা যাচ্ছে না। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং নির্বাচনের জন্য আমাদের প্রস্তুতি আছে।’
অন্যদিকে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ডাক দিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব বিপি গোপালিকা। ‘নিজের ভোট নিজে দিন, ভোট দিতে ভয় পাবেন না’; জাতীয় ভোটার দিবসের অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব বিপি গোপালিকা।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে শুরু হয়েছিল জাতীয় ভোটার দিবসের পথ চলা। এবছরের থিম, ‘ভোটের মত কিছু নাই, ভোট আমি দেব তাই।’ ১৪ বছরে পা দিয়ে চলতি বছরে জাতীয় নির্বাচন কমিশন নিজেদের ভূমিকাকে ধরে রাখতে রীতিমতো সারা বছর ধরে নির্ভুলভাবে কাজ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর কয়েকদিন পরেই হতে চলেছে লোকসভা নির্বাচন। তাই এখন থেকেই সম্পূর্ণ প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা যাতে অটুট থাকে সেই লক্ষ্যে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যা এর আগে কখনো নির্বাচন কমিশনের ইতিহাসে দেখা যায়নি। ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে চলতি বছরের ভোটার তালিকা। সেই ভোটার তালিকায় দেখা গেছে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথমবার পুরুষ ভোটারের তুলনায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। বেড়েছে নতুন ভোটারদের সংখ্যাও।

এদিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার বলেন, ২০২৩ সালে সাফল্যের সঙ্গে নয় রাজ্যে নির্বাচন পরিচালনা করেছে নির্বাচন কমিশন। কোনওরকম অশান্তি হয়নি। মহিলা ভোটাররা উল্লেখযোগ্য হারে অংশগ্রহণ করেছেন। ৮১ লক্ষ বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষ ভোটদান করেছেন। ১.৮ কোটি আশি উর্ধ মানুষ ভোট দিয়েছেন, ২.৫ লক্ষ একশো উর্ধ মানুষ ভোট দিয়েছেন। ৮০ লক্ষ মানুষকে তাদের বাড়ি থেকে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির কাছ থেকে প্রতিনিয়ত সমর্থনের আবেদন জানাই।

রাজ্যের মুখ্য সচিব বিপি গোপালিকা বলেন, সব থেকে বড় গণতন্ত্রে আছি, এটা গর্বের। যত বেশি সম্ভব ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। একটা ভোটের জন্য আপনার পছন্দের প্রার্থী হেরে যেতে পারে। যাকে খুশি ভোট দেবো এবং অবাধ সুষ্ঠু ভোট করতে হবে। নির্বাচন করতে অনেক প্রস্তুতি প্রয়োজন হয়। রাজনৈতিক দলগুলির এবং পোলিং এজেন্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। আগামীদিনে গণতন্ত্রকে আরও মজবুত করতে হবে।

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাব বলেন, প্রতিটি বুথে, মহকুমায়, জেলায় এই দিন পালিত হচ্ছে। নির্বাচন গনতন্ত্রের ভিত। আমরা ত্রুটি মুক্ত তালিকা প্রকাশ করার চেষ্টা করি। বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে অনলাইনেও আবেদন করা যাবে। সবাইকে আবেদন ভোটদানের মাধ্যমে নির্বাচনের উৎসবে সামিল হন।

এদিনের অনুষ্ঠানে দশ জন নতুন ভোটারের হাতে ভোটার পরিচয়পত্র তুলে দেওয়ার পাশাপাশি প্রকাশ করা হয় তিনটি বই এবং নির্বাচনী বিধি ও নিয়মাবলীকে একত্র করে ৩২টি বইয়ের একটি সঙ্কলন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুখ্যসচিব বিপি গোপালিকা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের আইকন জিজা ঘোষ ও লিজা ব্যানার্জি, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাব। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে উপস্থিত ছিলেন অরূপ বিশ্বাস, সুব্রত বক্সী। বিজেপির তরফে উপস্থিত ছিলেন শিশির বাজোরিয়া এবং সিপিআইএমের তরফে উপস্থিত ছিলেন শমীক লাহিড়ী।