২১ জানুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ওষুধের বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন রুখতে নির্দেশিকা জারি সুুপ্রিম কোর্টের

নয়াদিল্লি, ২৭ মার্চ: ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে রোগব্যাধি সারানোর প্রতিশ্রুতি দিলে সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে রাজ্য সরকার এবং দেশের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্যে নির্দেশিকা জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। সুুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি অভয় এস ওকা এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইঞা  ডিভিশন বেঞ্চ এব্যাপারে বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছে।

 

সূূত্রের খবর, ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের দায়ের করা একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে সুুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ। যোগগুরু রামদেবের সংস্থা পতঞ্জলি গ্রুপের ওষুধের বিজ্ঞাপনের বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিরুদ্ধে আইএমএ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। প্রসঙ্গত, এর আগে এ সংক্রান্ত মামলায় পতঞ্জলি গ্রুপ ক্ষমা চেয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে ওষুধপত্রের এধরনের বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন রোগ নিরাময়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফের প্রচার করা হবে না বলেও ক্ষমা চেয়েছে।

বিচারপতি ওকার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের বক্তব্য, ভারতের বেশিরভাগ রাজ্যের সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি ১৯৫৪ সালের ‘ড্রাগস অ্যান্ড ম্যাজিক রেমিডিস অ্যাক্ট’ মানার ক্ষেত্রে শৈথিল্য দেখাচ্ছে। এই আইন ৭০ বছরের পুরনো হলেও দুভার্গ্যজনকভাবে আইনটি কাজে লাগানো হচ্ছে না। একথা জানিয়ে বিচারপতি ওকার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ওই নির্দেশিকা জারি করেছে।

সুুপ্রিম কোর্ট সূত্রের খবর, জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিরাময়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচার করলে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। এছাড়া দুমাসের ভিতর গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সেল গঠন করে শীর্ষ আদালত একমাসের মধ্যে গেজেটেড পর্যায়ের অফিসার নিয়োগ করতেও বলেছে। গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সেলে অভিযোগ দায়ের করতে টোল ফ্রি বিশেষ টেলিফোন হেল্পলাইন নম্বর, ই-মেল চালু করার কথাও বলা হয়েছে।

সূত্রের খবর, গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সেলে নিযুক্ত গেজেটেড অফিসার ‘ড্রাগস অ্যান্ড ম্যাজিক রেমিডিস অ্যাক্ট’-এর ৮(১) ধারা অনুসারে অভিযুক্ত ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে পারবেন। এছাড়া আইনটি সম্পর্কে পুলিশ কর্মীদের সচেতন করাতে পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চালু করা এবং জাতীয় লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটিকে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট, ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে সাধারণ মানুষ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

ট্যাগ :
প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

ফের ভারত-পাক সংঘাত বন্ধের দাবি ট্রাম্পের, ‘মোট ৭০ বার কৃতিত্ব দাবি’ খোঁচা কংগ্রেসের

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ওষুধের বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন রুখতে নির্দেশিকা জারি সুুপ্রিম কোর্টের

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৫, বৃহস্পতিবার

নয়াদিল্লি, ২৭ মার্চ: ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে রোগব্যাধি সারানোর প্রতিশ্রুতি দিলে সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে রাজ্য সরকার এবং দেশের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্যে নির্দেশিকা জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। সুুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি অভয় এস ওকা এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইঞা  ডিভিশন বেঞ্চ এব্যাপারে বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছে।

 

সূূত্রের খবর, ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের দায়ের করা একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে সুুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ। যোগগুরু রামদেবের সংস্থা পতঞ্জলি গ্রুপের ওষুধের বিজ্ঞাপনের বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিরুদ্ধে আইএমএ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। প্রসঙ্গত, এর আগে এ সংক্রান্ত মামলায় পতঞ্জলি গ্রুপ ক্ষমা চেয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে ওষুধপত্রের এধরনের বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন রোগ নিরাময়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফের প্রচার করা হবে না বলেও ক্ষমা চেয়েছে।

বিচারপতি ওকার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের বক্তব্য, ভারতের বেশিরভাগ রাজ্যের সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি ১৯৫৪ সালের ‘ড্রাগস অ্যান্ড ম্যাজিক রেমিডিস অ্যাক্ট’ মানার ক্ষেত্রে শৈথিল্য দেখাচ্ছে। এই আইন ৭০ বছরের পুরনো হলেও দুভার্গ্যজনকভাবে আইনটি কাজে লাগানো হচ্ছে না। একথা জানিয়ে বিচারপতি ওকার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ওই নির্দেশিকা জারি করেছে।

সুুপ্রিম কোর্ট সূত্রের খবর, জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিরাময়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচার করলে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। এছাড়া দুমাসের ভিতর গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সেল গঠন করে শীর্ষ আদালত একমাসের মধ্যে গেজেটেড পর্যায়ের অফিসার নিয়োগ করতেও বলেছে। গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সেলে অভিযোগ দায়ের করতে টোল ফ্রি বিশেষ টেলিফোন হেল্পলাইন নম্বর, ই-মেল চালু করার কথাও বলা হয়েছে।

সূত্রের খবর, গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সেলে নিযুক্ত গেজেটেড অফিসার ‘ড্রাগস অ্যান্ড ম্যাজিক রেমিডিস অ্যাক্ট’-এর ৮(১) ধারা অনুসারে অভিযুক্ত ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে পারবেন। এছাড়া আইনটি সম্পর্কে পুলিশ কর্মীদের সচেতন করাতে পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চালু করা এবং জাতীয় লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটিকে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট, ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে সাধারণ মানুষ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।