১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সোমবার, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিহত বিজেপি কর্মীর মা -ভাইকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দিতে নির্দেশ হাইকোর্টের

পারিজাত মোল্লা:  সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের তরফে নিহত বিজেপি কর্মী মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ভোট পরবর্তী হিংসার জেরে বিজেপি কর্মী অভিজিত্‍ সরকারের খুনের ঘটনার সাক্ষীদের নিরাপত্তা দেবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এদিন নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তিন সপ্তাহের মধ্যে নির্দেশ কার্যকরী করতে বলল হাইকোর্ট। গত বিধানসভা নির্বাচনের পর (২ মে) খুন হয়েছিলেন কাঁকুড়গাছির বিজেপি কর্মী অভিজিত্‍ সরকার। এই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য-রাজনীতি। কারণ এই খুনের পর মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। আর তদন্তভার দেওয়া হয়েছিল সিবিআইকে। কিন্তু তারপরেও মৃত বিজেপি কর্মীর পরিবারকে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁদের।

এই বিষয়টিও মামলায় যুক্ত করা হয়। আর এদিন এই মামলার শুনানিতেই অভিজিত্‍ সরকারের মা এবং ভাইয়ের নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।এদিন নিরাপত্তার প্রসঙ্গটি তোলা হয়। আর তখনই এই নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। আগে নিহত বিজেপি কর্মী অভিজিত্‍ সরকারের পরিবারের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল কলকাতা পুলিশ। সেটাও কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও নিহত বিজেপি কর্মীর পরিবারকে বারবার হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ। তাছাড়া পুলিশ সহযোগিতা করছিল না বলে অভিযোগ তোলা হয়। স্বাভাবিকভাবেই এই আবহে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন অভিজিতের বাড়ির সদস্যরা।

এদিকে এই বিজেপি কর্মী খুনের মামলায় মূল সাক্ষী অভিজিত্‍ সরকারের মা এবং ভাই। তাই তাঁদের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশের বিরুদ্ধেই গাফিলতির অভিযোগ ওঠায় এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিরাপত্তার দায়িত্ব দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

এই মামলায় আগে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, -‘এখন রাজ্যে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী মাওবাদী অপারেশনের কাজে ব্যস্ত’। কিন্তু সেটা এখন সেভাবে প্রয়োজন পড়ছে না। তাই কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিল নিরাপত্তা দিতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। এদিনের সওয়াল-জবাব শুনে এমনই নির্দেশ দেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। বিচারপতি সোমবার ভরা এজলাসে বলেন, ‘‌খুনের ঘটনায় সাক্ষী দু’‌জন। আগেও দু’‌বার তাঁদের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিন সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে হবে। সেটা যতদিন না হচ্ছে ততদিন নারকেলডাঙা থানা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে।’‌ এই খুনের মামলা টি শিয়ালদহ আদালতে বিচার পর্ব চলছে।

 



                           
ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

নরেন্দ্র মোদি যাচ্ছেন না, তারেক রহমানের শপথে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন লোকসভার স্পিকার

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

নিহত বিজেপি কর্মীর মা -ভাইকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দিতে নির্দেশ হাইকোর্টের

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৩, সোমবার

পারিজাত মোল্লা:  সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের তরফে নিহত বিজেপি কর্মী মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ভোট পরবর্তী হিংসার জেরে বিজেপি কর্মী অভিজিত্‍ সরকারের খুনের ঘটনার সাক্ষীদের নিরাপত্তা দেবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এদিন নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তিন সপ্তাহের মধ্যে নির্দেশ কার্যকরী করতে বলল হাইকোর্ট। গত বিধানসভা নির্বাচনের পর (২ মে) খুন হয়েছিলেন কাঁকুড়গাছির বিজেপি কর্মী অভিজিত্‍ সরকার। এই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য-রাজনীতি। কারণ এই খুনের পর মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। আর তদন্তভার দেওয়া হয়েছিল সিবিআইকে। কিন্তু তারপরেও মৃত বিজেপি কর্মীর পরিবারকে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁদের।

এই বিষয়টিও মামলায় যুক্ত করা হয়। আর এদিন এই মামলার শুনানিতেই অভিজিত্‍ সরকারের মা এবং ভাইয়ের নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।এদিন নিরাপত্তার প্রসঙ্গটি তোলা হয়। আর তখনই এই নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। আগে নিহত বিজেপি কর্মী অভিজিত্‍ সরকারের পরিবারের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল কলকাতা পুলিশ। সেটাও কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও নিহত বিজেপি কর্মীর পরিবারকে বারবার হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ। তাছাড়া পুলিশ সহযোগিতা করছিল না বলে অভিযোগ তোলা হয়। স্বাভাবিকভাবেই এই আবহে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন অভিজিতের বাড়ির সদস্যরা।

এদিকে এই বিজেপি কর্মী খুনের মামলায় মূল সাক্ষী অভিজিত্‍ সরকারের মা এবং ভাই। তাই তাঁদের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশের বিরুদ্ধেই গাফিলতির অভিযোগ ওঠায় এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিরাপত্তার দায়িত্ব দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

এই মামলায় আগে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, -‘এখন রাজ্যে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী মাওবাদী অপারেশনের কাজে ব্যস্ত’। কিন্তু সেটা এখন সেভাবে প্রয়োজন পড়ছে না। তাই কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিল নিরাপত্তা দিতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। এদিনের সওয়াল-জবাব শুনে এমনই নির্দেশ দেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। বিচারপতি সোমবার ভরা এজলাসে বলেন, ‘‌খুনের ঘটনায় সাক্ষী দু’‌জন। আগেও দু’‌বার তাঁদের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিন সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে হবে। সেটা যতদিন না হচ্ছে ততদিন নারকেলডাঙা থানা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে।’‌ এই খুনের মামলা টি শিয়ালদহ আদালতে বিচার পর্ব চলছে।