পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ যে কোনও প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচ সবসময়ই কঠিন। ব্রাজিলের কাজটা আরও কঠিন করে দিয়েছিল মরক্কোর লড়াই। ধাক্কা খেয়েই তো সেরা দল চ্যাম্পিয়নের মতোই ফিরে আসে। ব্রাজিলও তার ব্যতিক্রম নয়। মরক্কোর বিরুদ্ধে কার্লো অ্যানসেলোত্তির ফুটবলারদের পায়ে ‘জোগো বনিতো’ দেখা যায়নি। কিন্তু প্রতিযোগিতা যত এগোচ্ছে, মাঠে সাম্বার ঝড় বইছে। হাইতির পর এবার সাম্বা ঝড় আছড়ে পড়ল স্কটল্যান্ডের ওপর। তাতেই স্কটিশদের ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ‘বি’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নক আউটে গেল ব্রাজিল। অন্য ম্যাচে হাইতিকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে এই গ্রুপে নক আউটে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কোও।
আরও পড়ুন:
মরক্কোর বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত সেই আক্রমণাত্মক ব্রাজিলকে দেখা যায়নি। মাঠে ওঠেনি সাম্বার ঝড়। স্বাভাবিক, প্রতিযোগিতায় শুরুর দিকে সব দলকেই গুছিয়ে নিতে একটু সময় লাগে।
দ্বিতীয় ম্যাচ থেকেই মাঠে সেই চেনা ব্রাজিল। আক্রমণে ঝড়, মাঠে সাম্বার ঝলক। ভিনিসিয়াস জুনিয়রদের পায়ের জাদুতে উড়ে গিয়েছিল হাইতি। স্কটল্যান্ড ম্যাচেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন ভিনিসিয়াস, কুনহারা। সাম্বার ঝলকে দর্শকদের মন ভরিয়ে দিয়েছেন। গ্যালারি ‘ওলে ওলে ব্রাজিল’ গানে মুখরিত, সাম্বার ঢেউ।আরও পড়ুন:
গ্যালারিতে সাম্বার ঢেউ তোলার মূল কাণ্ডারি কিন্তু সেই ভিনিসিয়াস জুনিয়র। প্রথম ম্যাচ থেকেই দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। মরক্কোর বিরুদ্ধে মান বাঁচানো গোল। হাইতির বিরুদ্ধেও জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়ক তিনি। এদিন স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধেও তাঁর পায়ে ব্রাজিলের সেই বিখ্যাত ‘জোগো বনিতো’। ম্যাচের ৭ মিনিটে সেই ভিনিসিয়াসের গোলেই এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
রায়ান তাড়া করেছিলেন বলের দখল নেওয়া স্কট ম্যাকেনাকে। ম্যাকেনার বল ক্লিয়ার করতে পারেননি। রায়ান কেড়ে নিয়ে পাস বাড়ান ভিনিসিয়াসকে। এরপর গোলকিপার অ্যাঙ্গাস গানকে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান ভিনিসিয়াস।আরও পড়ুন:
প্রথমার্ধে পুরোপুরি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্রাজিলের দখলে। একের পর এক আক্রমণ শানাচ্ছিলেন ভিনিসিয়াস, কুনহা, ব্রুনো গুইমারেসরা। ম্যাচের ২৬ মিনিটে আবার স্কটল্যান্ডের জালে বল পাঠিয়েছিলেন ভিনিসিয়াস। ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়। স্কটল্যান্ড রক্ষণে অবিরত চাপের ফল ব্রাজিল পেল প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে। ব্রুনো গুইমারেসের সেন্টার থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ভিনিসিয়াস।
আরও পড়ুন:
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণে উঠতে বাধ্য হয়েছিল স্কটল্যান্ড। ফলে রক্ষণ অনেকটাই আলগা হয়ে যায়।
ম্যাচের ৫১ মিনিটে ভিনিসিয়াসের সামনে হ্যাটট্রিকের সুযোগ এসেছিল। তাঁর শট দারুণ দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন অ্যাঙ্গাস গান। ৬০ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান ম্যাথিউস কুনহা। কাসেমিরোর ফ্রিকিক থেকে ডানদিকে বল পেয়ে স্কটিশ গোলকিপার অ্যাঙ্গাস গানকে ড্রিবল করে কাটিয়ে চলতি বিশ্বকাপে কুনহা তাঁর তৃতীয় গোলটি করেন। এতে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।ম্যাচের আগের দিন ব্রাজিল কোচ কার্লো অ্যানসেলোত্তি বলেছিলেন, ‘নেইমার খেলার মত জায়গায় চলে এসেছেন।’ এদিন জয় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর ম্যাচের ৭৬ মিনিটে কুনহার বদলি হিসেবে নেইমারকে মাঠে নামান ব্রাজিল কোচ। দেশের জার্সিতে তিনি শেষ খেলেছিলেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে। এই ব্রাজিল তারকা ৯৮১ দিন মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে ‘ওলে ওলে নেইমার’ ধ্বনিতে মুখরিত ছিল গ্যালারি। যদিও মাঠে নেমে খুব বেশি কিছু করতে পারেননি নেইমার। তবে তাঁর প্রত্যাবর্তন ব্রাজিলের জন্য আশার আলো। নকআউট পর্বে প্রবেশের আগে ব্রাজিলের কাছে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।