Tue, July 16, 2024

ই-পেপার দেখুন

রেল ও পুরসভার যৌথভাবে ফুটপাত উচ্ছেদ

Bipasha Chakraborty

Published: 10 July, 2024, 07:59 PM
রেল ও পুরসভার যৌথভাবে ফুটপাত উচ্ছেদ

 

দেবশ্রী মজুমদার, রামপুরহাট: কথা ছিল পুরসভার ফুটপাত দখল ছাড়লে, রেল অধিকৃত দোকানদার উচ্ছেদে পুলিশ প্রশাসন সেখানে যাবে না। কারণ সেটা রেলওয়ের নিজস্ব বিষয়। ফুটপাত ব‍্যবসায়ীদের যৌথ মঞ্চের ছয় প্রতিনিধি পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত, বিধায়ক আশীষ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় এবং মহকুমা শাসক সৌরভ পাণ্ডের উপস্থিতিতে এই আশ্বাস পেয়ে স্বস্তিতে ছিল ফুটপাত ব‍্যবসায়ীরা। কিন্তু আজকে সে কথার খেলাপ হলো। রেলওয়ে এরিয়া ম‍্যানেজারও আলোচনায় বসার প্রতিশ্রুতি দেয়। দু'দুবার ঘুরিয়ে দেয় ফুটপাত ব‍্যবসায়ীদের। দেখা করে নি। অবশেষে নির্মমভাবে আজ বুলডোজার চললো। দোকান ভাঙলো রেলওয়ে পাড় থেকে রামপুরহাট পাঁচমাথা পর্যন্ত। ড্রেনের উপরে শিলপাট তুলে দেওয়া হলো। কথা ছিল, বিকল্প ব‍্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত  মাথায় ছাতা নিয়ে ভাঙা দোকানের জায়গাই ফুটপাতে ড্রেনের উপর শিলপাটে চট পেতে ব‍্যবসা করবে। সেটাও বন্ধ হলো। কেউ কথা রাখলো না। 
আক্ষেপ করে ফুটপাত ব‍্যবসায়ী সাহাজাদা কিন্তু বললেন, কেউ কথা রাখে না। ফুটপাত ব‍্যবসায়ীদের যৌথ মঞ্চের ছয় প্রতিনিধির সঙ্গে পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত, বিধায়ক আশীষ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় এবং মহকুমা শাসক সৌরভ পাণ্ডের উপস্থিতিতে আমরা আশ্বাস পেয়েছিলাম পুরসভার  ফুটপাত দখল ছাড়লে, রেল অধিকৃত দোকানদার উচ্ছেদে পুলিশ প্রশাসন সেখানে যাবে না। স্বস্তিতে ছিলাম ফুটপাত ব‍্যবসায়ীরা। কিন্তু যৌথভাবে রেলওয়ে পাড় থেকে পাঁচ মাথার সব দোকান নিশ্চিহ্ন হলো। যে জায়গাই বসে বিকল্প ব‍্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত বসে ব‍্যবসার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, সেইখানে শিলপাট তুলে দেওয়া হলো। ফাঁকা ড্রেনের উপরে কী করে বসবো? রামপুরহাট পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত এবং বিধায়ক আশীষ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন।
যদিও এব‍্যাপারে রামপুরহাট পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত বলেন, যৌথ মঞ্চে তৃণমূল সমর্থিত ফুটপাত ব‍্যবসায়ীদের সংখ্যা বেশি। এছাড়াও দুটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক প্রতিনিধি আছেন। তাদের সকলের সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ‍্যমে ঠিক হয় নিজেরা দোকান না ভাঙলে পুরসভা ভেঙে দেবে। অনেকেই কথা রেখে ভেঙেছে। দুই একটি দোকান ছিল। সেগুলো ভাঙা হয়েছে। আর ড্রেনের উপর মোটা ঢালাইয়ের স্ল‍্যাব ছিল যেগুলো রাস্তা থেকে অনেক উঁচু। ফুটপাত থেকে উচ্চতা বেশি ছিল। সেগুলো সমান করা হয়েছে। এখানে বিধায়ক বা চেয়ারম্যানের কোনো ব‍্যাপার নেই। সাহাজাদা কিনু যেটা বলেছেন, সেটা নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে বা রাজনৈতিক সুবিধা পেতে এসব বলেছেন। সারা রাজ‍্যে মানুষের চলাচলের এই ফুটপাত দখলমুক্ত করা হচ্ছে। রামপুরহাটে আগে আলোচনা হয়। তারপর ঐক্যমতের ভিত্তিতে কাজ হয়েছে। রেলওয়ে অমানবিক হয়ে উচ্ছেদ করছে। আমাদের মুখ‍্যমন্ত্রী যেটা করছেন মানুষের কথা ভেবে। আগে বিকল্প পুনর্বাসনের ব‍্যবস্থা করছেন। তিনি পরিকল্পনা করছেন।

Leave a comment