ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে নজিরবিহীন নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে মার্কিন সামরিক অভিযান। রাজধানী কারাকাসে বোমা হামলার পর গভীর রাতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে শোবার ঘর থেকে টেনে বের করে আটক করার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। তেলসমৃদ্ধ দেশটির ক্ষমতা কার্যত নিজেদের হাতে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
এই অভিযানের পর ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, ভেনেজুয়েলায় ‘নিরাপদ ও ন্যায়সঙ্গত’ সরকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রই নেবে। ভেনেজুয়েলার অভিযোগ, এই হামলার আসল লক্ষ্য তাদের বিপুল তেল ও খনিজ সম্পদের দখল নেওয়া। ফলে ঘটনাটিকে সরাসরি আগ্রাসন হিসেবে দেখছে কারাকাস।
চিন, রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়াসহ একাধিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেছে। বেইজিং একে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়ে মাদুরো দম্পতির অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে। রাশিয়াও একে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বলে উল্লেখ করেছে। লাতিন আমেরিকার প্রতিবেশী দেশগুলিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এই উত্তাল পরিস্থিতিতে প্রথমবার প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। যদিও সরাসরি আমেরিকার সমালোচনায় যায়নি নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার জনগণের নিরাপত্তা ও মঙ্গলের প্রতি ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানে আলোচনার পথেই এগোনোর আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, কারাকাসে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে দূতাবাস নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, বিশ্বশক্তিগুলির টানাপোড়েনের মাঝেও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখাই ভারতের কৌশল—উদ্বেগ প্রকাশ, কিন্তু সরাসরি অভিযুক্ত না করে সংলাপের বার্তা।


























