০২ জানুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার, ১৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আফগানিস্তানের জন্য ভারতের বাজেটে ২০০ কোটি টাকা, স্বাগত জানাল তালিবান

Finance Minister Nirmala Sitharaman holds up a folder with the Government of India's logo as she leaves her office to present the Union Budget 2023 in the parliament, in New Delhi, February 1, 2023. Photo: REUTERS/Adnan Abidi

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: আফগানিস্তানের উন্নয়নের লক্ষে এ বছর ভারত ব্যয় করবে ২০০ কোটি টাকা। এই খবরের প্রতিক্রিয়ায় তালিবান সরকারের মুখপাত্র সুহাইল শাহীন স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের সিদ্ধান্তকে। এই তালিবান নেতা বলেন, আফগানিস্তানকে এই আর্থিক সাহায্যের জন্য আমরা ভারতের প্রশংসা করছি। এর ফলে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক ও আস্থা আরও বাড়বে। ভারতের বাজেটে বিদেশ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলির জন্য উন্নয়ন খাতে খরচের জন্য অর্থ। সেই তালিকায় আফগানিস্তানের জন্য রয়েছে ২০০ কোটি  টাকা। যদিও এই আর্থিক অনুদানের বেশিরভাগ অর্থ পাচ্ছে ভুটান। মোট ৫,৪০৮ কোটির মধ্যে ভুটান পাবে ৯৯০ কোটি। এরপর রয়েছে নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মৌরিতি এবং মায়ানমারও।

আফগানিস্তানের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণার পর ভারতের সংবাদমাধ্যম যোগাযোগ করে তালিবানের সঙ্গে। তালিবান সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র সুহাইল শাহীন জানান, ভারতের বেশ কয়েকটি প্রজেক্ট রয়েছে আফগানিস্তানে। ভারত সরকার যদি মনে করে সেই সব প্রকল্পে পুনরায় কাজ শুরু করতে পারে। আফগানরা বর্তমানে দরিoতার সঙ্গেও লড়াই করছে। দেশে বেকারি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেজন্য যেকোনও ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প পরিস্থিতি বদল করতে পারে। ভারত চাইলে আগের থেকে বেশি করে উন্নয়ন প্রকল্পে শামিল হোক।

উল্লেখ্য, ইসলামি শরীয়াহ নীতি কঠোরভাবে গ্রহণ করায় আমেরিকা ও ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর মতো ভারত এখনও স্বীকৃতি জানায়নি আফগানিস্তানের তালিবান সরকারকে। ২০২১ সালের আগস্টে তালিবানরা কাবুল দখল করলে ভারত দূতাবাস ও কনস্যুলেট বন্ধ করে দেয়। থমকে যায় ভারতের প্রকল্পগুলি। ভারতের মিডিয়ায় তালিবান নিয়ে জোরদার বিরোধী প্রচার হতে থাকায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক খুবই সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে মানবিক মদদ হিসেবে গম, টিকা ও ওষুধ পাঠানোয় ভারতের প্রশংসা শুরু হয় তালিবান মহলেও। সরকার হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও অন্যান্য দেশের মতো ভারত মানবিক মদদ নিয়ে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। সে-কারণে দ্বিতীয় বছরও ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিবেশী আফগানিস্তানের জন্য অর্থ বরাদ্দ হওয়ায় সন্তোষ তালিবান মহলে। গতবছরও একই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল। ইসলামিক আমিরাত আফগানিস্তানকে স্বীকৃতি না জানালেও সরকারিভাবে আর্থিক মদদের ঘোষণা করে তালিবান সরকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখল ভারত।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

রাশিয়ায় আছড়ে পড়ল ইউক্রেনীয় ড্রোন, হামলা নিহত ২৪ জন নাগরিক

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

আফগানিস্তানের জন্য ভারতের বাজেটে ২০০ কোটি টাকা, স্বাগত জানাল তালিবান

আপডেট : ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, শুক্রবার

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: আফগানিস্তানের উন্নয়নের লক্ষে এ বছর ভারত ব্যয় করবে ২০০ কোটি টাকা। এই খবরের প্রতিক্রিয়ায় তালিবান সরকারের মুখপাত্র সুহাইল শাহীন স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের সিদ্ধান্তকে। এই তালিবান নেতা বলেন, আফগানিস্তানকে এই আর্থিক সাহায্যের জন্য আমরা ভারতের প্রশংসা করছি। এর ফলে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক ও আস্থা আরও বাড়বে। ভারতের বাজেটে বিদেশ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলির জন্য উন্নয়ন খাতে খরচের জন্য অর্থ। সেই তালিকায় আফগানিস্তানের জন্য রয়েছে ২০০ কোটি  টাকা। যদিও এই আর্থিক অনুদানের বেশিরভাগ অর্থ পাচ্ছে ভুটান। মোট ৫,৪০৮ কোটির মধ্যে ভুটান পাবে ৯৯০ কোটি। এরপর রয়েছে নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মৌরিতি এবং মায়ানমারও।

আফগানিস্তানের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণার পর ভারতের সংবাদমাধ্যম যোগাযোগ করে তালিবানের সঙ্গে। তালিবান সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র সুহাইল শাহীন জানান, ভারতের বেশ কয়েকটি প্রজেক্ট রয়েছে আফগানিস্তানে। ভারত সরকার যদি মনে করে সেই সব প্রকল্পে পুনরায় কাজ শুরু করতে পারে। আফগানরা বর্তমানে দরিoতার সঙ্গেও লড়াই করছে। দেশে বেকারি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেজন্য যেকোনও ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প পরিস্থিতি বদল করতে পারে। ভারত চাইলে আগের থেকে বেশি করে উন্নয়ন প্রকল্পে শামিল হোক।

উল্লেখ্য, ইসলামি শরীয়াহ নীতি কঠোরভাবে গ্রহণ করায় আমেরিকা ও ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর মতো ভারত এখনও স্বীকৃতি জানায়নি আফগানিস্তানের তালিবান সরকারকে। ২০২১ সালের আগস্টে তালিবানরা কাবুল দখল করলে ভারত দূতাবাস ও কনস্যুলেট বন্ধ করে দেয়। থমকে যায় ভারতের প্রকল্পগুলি। ভারতের মিডিয়ায় তালিবান নিয়ে জোরদার বিরোধী প্রচার হতে থাকায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক খুবই সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে মানবিক মদদ হিসেবে গম, টিকা ও ওষুধ পাঠানোয় ভারতের প্রশংসা শুরু হয় তালিবান মহলেও। সরকার হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও অন্যান্য দেশের মতো ভারত মানবিক মদদ নিয়ে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। সে-কারণে দ্বিতীয় বছরও ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিবেশী আফগানিস্তানের জন্য অর্থ বরাদ্দ হওয়ায় সন্তোষ তালিবান মহলে। গতবছরও একই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল। ইসলামিক আমিরাত আফগানিস্তানকে স্বীকৃতি না জানালেও সরকারিভাবে আর্থিক মদদের ঘোষণা করে তালিবান সরকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখল ভারত।