০৩ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাইড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষা চালাল চিন, যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োজন নাও হতে পারে

হাইড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষা চালিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে চিন । তবে এই বোমা পারমাণবিক নয়, এটি নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি একটি ‘ক্লিন এনার্জি’ বিস্ফোরক। চিনের রাষ্ট্রীয় জাহাজ নির্মাণ সংস্থা সিএসএসসির ৭০৫ গবেষণা ইনস্টিটিউট বোমাটি তৈরি করেছে। বোমাটির ওজন মাত্র ২ কেজি। এতে ব্যবহৃত হয়েছে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রাইড নামের একটি কঠিন হাইড্রোজেন-ভিত্তিক উপাদান, যা প্রচলিত ট্যাংকের তুলনায় অনেক বেশি হাইড্রোজেন সংরক্ষণ করতে পারে। পরীক্ষায় দেখা যায়, বিস্ফোরণের সময় উপাদানটি দ্রুত গরম হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস ছাড়ে, যা জ্বলে ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার আগুন তৈরি করে এবং তা প্রায় ২ সেকেন্ড ধরে স্থায়ী হয়;যা টিএনটি বিস্ফোরণের তুলনায় ১৫ গুণ বেশি সময় ধরে চলে। বিস্ফোরণে তৈরি তাপ সহজেই অ্যালুমিনিয়াম গলিয়ে দিতে পারে এবং বিস্ফোরণের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করে নির্দিষ্ট এলাকায় সমান ধ্বংস ঘটাতে সক্ষম হয়। জার্নাল অব প্রজেক্টাইলস, রকেটস, মিসাইলস অ্যান্ড গাইডেনস পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, পরীক্ষার সময় বোমার ২ মিটার দূরে চাপের পরিমাণ ছিল ৪২৮ দশমিক ৪৩ কিলোপাস্কাল। এই অস্ত্রের শক্তি হল এটি যে তাপ উৎপন্ন করে যা ১,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি। এই তীব্র তাপ একটি বিশাল এলাকা জুড়ে ক্ষতি করতে পারে।

গবেষক ওয়াং জুয়েফেং এবং তাঁর দল জানিয়েছে, হাইড্রোজেন গ্যাস বিস্ফোরণের জন্য খুব কম শক্তি লাগে। এর শিখা খুব দ্রুত  এবং একটি বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এই সংমিশ্রণ বিস্ফোরণের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। উৎপন্ন ভয়াবহ তাপ সহজেই বিশাল এলাকার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারে।

আরও পড়ুন: চিনের থেকে মাক-৩ গতির বিধ্বংসী মিসাইল কিনছে ইরান

বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন একটি হাইড্রোজেন বোমা প্রচলিত বিস্ফোরক দ্বারা চালিত হয়, তখন ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রাইড তাপ উৎপন্ন করে। এটি হাইড্রোজেন নির্গত করে, যা বাতাসের সঙ্গে মিশে যায়। যখন এই গ্যাস একটি নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছায়, তখন এটি জ্বলে ওঠে। এই প্রক্রিয়াটি চলতে থাকে যতক্ষণ না সমস্ত জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকার তাইওয়ান-সহ দক্ষিণ চিন সাগরে ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এই ধরনের উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র চিনকে কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী করবে।

আরও পড়ুন: চিনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক ট্রাম্পের

আরও পড়ুন: গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির আহ্বান চিনের
ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

ইসলামপুর হবে ‘ঈশ্বরপুর’, নাম বদলের বিতর্ক উস্কে দিলেন বিজেপির সভাপতি, পাল্টা তোপ তৃণমূলের

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

হাইড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষা চালাল চিন, যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োজন নাও হতে পারে

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৫, সোমবার

হাইড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষা চালিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে চিন । তবে এই বোমা পারমাণবিক নয়, এটি নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি একটি ‘ক্লিন এনার্জি’ বিস্ফোরক। চিনের রাষ্ট্রীয় জাহাজ নির্মাণ সংস্থা সিএসএসসির ৭০৫ গবেষণা ইনস্টিটিউট বোমাটি তৈরি করেছে। বোমাটির ওজন মাত্র ২ কেজি। এতে ব্যবহৃত হয়েছে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রাইড নামের একটি কঠিন হাইড্রোজেন-ভিত্তিক উপাদান, যা প্রচলিত ট্যাংকের তুলনায় অনেক বেশি হাইড্রোজেন সংরক্ষণ করতে পারে। পরীক্ষায় দেখা যায়, বিস্ফোরণের সময় উপাদানটি দ্রুত গরম হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস ছাড়ে, যা জ্বলে ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার আগুন তৈরি করে এবং তা প্রায় ২ সেকেন্ড ধরে স্থায়ী হয়;যা টিএনটি বিস্ফোরণের তুলনায় ১৫ গুণ বেশি সময় ধরে চলে। বিস্ফোরণে তৈরি তাপ সহজেই অ্যালুমিনিয়াম গলিয়ে দিতে পারে এবং বিস্ফোরণের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করে নির্দিষ্ট এলাকায় সমান ধ্বংস ঘটাতে সক্ষম হয়। জার্নাল অব প্রজেক্টাইলস, রকেটস, মিসাইলস অ্যান্ড গাইডেনস পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, পরীক্ষার সময় বোমার ২ মিটার দূরে চাপের পরিমাণ ছিল ৪২৮ দশমিক ৪৩ কিলোপাস্কাল। এই অস্ত্রের শক্তি হল এটি যে তাপ উৎপন্ন করে যা ১,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি। এই তীব্র তাপ একটি বিশাল এলাকা জুড়ে ক্ষতি করতে পারে।

গবেষক ওয়াং জুয়েফেং এবং তাঁর দল জানিয়েছে, হাইড্রোজেন গ্যাস বিস্ফোরণের জন্য খুব কম শক্তি লাগে। এর শিখা খুব দ্রুত  এবং একটি বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এই সংমিশ্রণ বিস্ফোরণের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। উৎপন্ন ভয়াবহ তাপ সহজেই বিশাল এলাকার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারে।

আরও পড়ুন: চিনের থেকে মাক-৩ গতির বিধ্বংসী মিসাইল কিনছে ইরান

বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন একটি হাইড্রোজেন বোমা প্রচলিত বিস্ফোরক দ্বারা চালিত হয়, তখন ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রাইড তাপ উৎপন্ন করে। এটি হাইড্রোজেন নির্গত করে, যা বাতাসের সঙ্গে মিশে যায়। যখন এই গ্যাস একটি নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছায়, তখন এটি জ্বলে ওঠে। এই প্রক্রিয়াটি চলতে থাকে যতক্ষণ না সমস্ত জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকার তাইওয়ান-সহ দক্ষিণ চিন সাগরে ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এই ধরনের উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র চিনকে কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী করবে।

আরও পড়ুন: চিনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক ট্রাম্পের

আরও পড়ুন: গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির আহ্বান চিনের