১৪ জানুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডিভিসি-এর জল ছাড়ার পরিমাণ নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য তরজা

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক : ডিভিসি -এর জল ছাড়া নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ দেগেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও দিয়েছিলেন ম্যান মেড বন্যার তত্ত্ব। রাজ্যকে না জানিয়ে ডিভিসি -এর জল ছাড়া নিয়ে শুক্রবার সোস্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যানকে অস্বীকার করেছেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিল। এই নিয়ে পুজোর কার্নিভালের আগেই শনিবার কেন্দ্র রাজ্য বিবাদ তুঙ্গে উঠল।

লাগাতার ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির জেরে জল ভাসছে একাধিক জেলা। এর মধ্যেই রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে জল ছেড়েছে দামোদর ভ্যালি করপোরেশন (ডিভিসি)। এই কেন্দ্রীয় সংস্থাটি ইচ্ছাকৃত এবং একতরফাভাবে জল ছেড়ে বাংলাকে বিসর্জন দিতে চাইছে অভিযোগ তুলে সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জল ছাড়ার প্রসঙ্গে তিনি লিখেছিলেন, ডিভিসি শুক্রবার সন্ধে পর্যন্ত মাইথন এবং পাঞ্চেত জলাধার থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে।

আরও পড়ুন: সোমবার ফের দার্জিলিঙে মুখ্যমন্ত্রী

কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দাবিকে স্বীকার করতে নারাজ কেন্দ্রের জলশক্তি মন্ত্রক। জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিল জানাচ্ছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যে দাবি করছেন, প্রকৃত জল ছাড়ার পরিমাণ তার অর্ধেকেরও কম। তাঁর দাবি, মাইথন জলাধার থেকে ৪২৫০০ কিউসেক এবং পাঞ্চেত জলাধার থেকে ২৭৫০০ কিউসেক অর্থাৎ মোট ৭০০০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: আহত বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুকে দেখতে হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী

সেইসঙ্গে পরিসংখ্যান বলছে, শনিবার সকাল ৭ টা নাগাদ ডিভিসি থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৬৭৫ কিউসেক। রাজ্যের সেচ দফতরের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে। স্থানীয় এলাকায় বিপদ সংকেতের জন্য মাইকিং চলছে।

আরও পড়ুন: দয়া করে শান্ত থাকুন, গুজবে কান দেবেন না: উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বললেন মুখ্যমন্ত্রী

সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়্যা বলেন, বারবার বলা সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই জল ছাড়ছে ডিভিসি। বাংলাকে পচিয়ে মারার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। অক্টোবরের শুরু থেকেই ২ তারিখ (৬৫ হাজার কিউসেক) এবং ৩ অক্টোবর (৭০ হাজার কিউসেক) মিলিয়ে প্রায় দেড় লক্ষ কিউসেকের মতো জল ছেড়েছে। তার সঙ্গে শনিবার ৪ তারিখ ৭৩ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। একসঙ্গে জল না ছেড়ে মনিটার্ড ওয়েতে জল না ছাড়ার কথা বারবার বলা হয়েছে। শনিবার রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়্যা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। ২০১৫ সাল থেকে ড্রেজিং -এর কাজ হয়নি। ফলে দামোদর একটু বেশি বৃষ্টি হলেই জল উপচে পড়ছে। এদিন মানস ভুঁইয়্যা অভিযোগ করেন, জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিলের জন্যই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের টাকা রাজ্যের কাছে আসেনি।

ডিভিসি-এর জল ছাড়ার কারণে ইতিমধ্যেই জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছে দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলা। সেই সঙ্গে রয়েছে নিম্নচাপের ভ্রূকুটি। ফলে ফের জল ছাড়ার পরিমাণ বেড়েছে দামোদরের। এর ফলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি জেলায় দামোদরের তীরবর্তী এলাকাগুলি। শনিবার ভোর থেকেই প্রবল জল বাড়ছে শিলাবতী নদীতে। লক্ষ্ণীপুজোর আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল, চন্দ্রকোণার বিস্তীর্ণ এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা। পুজোর আগেই পাঁচবার প্লাবিত হয়েছে ঘাটাল মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা। পুজোর পর আবার নিম্মচাপের দোসর হয়ে ডিভিসি-এর জল ছাড়াকেই এই অসময়ের বন্যার জন্য দায়ী করছে তৃণমূল।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

জুনিয়র মিস ইন্ডিয়ায় বাঙালি কিশোরীর মাথায় মুকুট, চ্যাম্পিয়ন মালদহের প্রিন্সিপ্রিয়া

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ডিভিসি-এর জল ছাড়ার পরিমাণ নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য তরজা

আপডেট : ৪ অক্টোবর ২০২৫, শনিবার

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক : ডিভিসি -এর জল ছাড়া নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ দেগেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও দিয়েছিলেন ম্যান মেড বন্যার তত্ত্ব। রাজ্যকে না জানিয়ে ডিভিসি -এর জল ছাড়া নিয়ে শুক্রবার সোস্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যানকে অস্বীকার করেছেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিল। এই নিয়ে পুজোর কার্নিভালের আগেই শনিবার কেন্দ্র রাজ্য বিবাদ তুঙ্গে উঠল।

লাগাতার ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির জেরে জল ভাসছে একাধিক জেলা। এর মধ্যেই রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে জল ছেড়েছে দামোদর ভ্যালি করপোরেশন (ডিভিসি)। এই কেন্দ্রীয় সংস্থাটি ইচ্ছাকৃত এবং একতরফাভাবে জল ছেড়ে বাংলাকে বিসর্জন দিতে চাইছে অভিযোগ তুলে সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জল ছাড়ার প্রসঙ্গে তিনি লিখেছিলেন, ডিভিসি শুক্রবার সন্ধে পর্যন্ত মাইথন এবং পাঞ্চেত জলাধার থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে।

আরও পড়ুন: সোমবার ফের দার্জিলিঙে মুখ্যমন্ত্রী

কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দাবিকে স্বীকার করতে নারাজ কেন্দ্রের জলশক্তি মন্ত্রক। জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিল জানাচ্ছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যে দাবি করছেন, প্রকৃত জল ছাড়ার পরিমাণ তার অর্ধেকেরও কম। তাঁর দাবি, মাইথন জলাধার থেকে ৪২৫০০ কিউসেক এবং পাঞ্চেত জলাধার থেকে ২৭৫০০ কিউসেক অর্থাৎ মোট ৭০০০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: আহত বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুকে দেখতে হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী

সেইসঙ্গে পরিসংখ্যান বলছে, শনিবার সকাল ৭ টা নাগাদ ডিভিসি থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৬৭৫ কিউসেক। রাজ্যের সেচ দফতরের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে। স্থানীয় এলাকায় বিপদ সংকেতের জন্য মাইকিং চলছে।

আরও পড়ুন: দয়া করে শান্ত থাকুন, গুজবে কান দেবেন না: উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বললেন মুখ্যমন্ত্রী

সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়্যা বলেন, বারবার বলা সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই জল ছাড়ছে ডিভিসি। বাংলাকে পচিয়ে মারার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। অক্টোবরের শুরু থেকেই ২ তারিখ (৬৫ হাজার কিউসেক) এবং ৩ অক্টোবর (৭০ হাজার কিউসেক) মিলিয়ে প্রায় দেড় লক্ষ কিউসেকের মতো জল ছেড়েছে। তার সঙ্গে শনিবার ৪ তারিখ ৭৩ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। একসঙ্গে জল না ছেড়ে মনিটার্ড ওয়েতে জল না ছাড়ার কথা বারবার বলা হয়েছে। শনিবার রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়্যা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। ২০১৫ সাল থেকে ড্রেজিং -এর কাজ হয়নি। ফলে দামোদর একটু বেশি বৃষ্টি হলেই জল উপচে পড়ছে। এদিন মানস ভুঁইয়্যা অভিযোগ করেন, জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিলের জন্যই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের টাকা রাজ্যের কাছে আসেনি।

ডিভিসি-এর জল ছাড়ার কারণে ইতিমধ্যেই জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছে দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলা। সেই সঙ্গে রয়েছে নিম্নচাপের ভ্রূকুটি। ফলে ফের জল ছাড়ার পরিমাণ বেড়েছে দামোদরের। এর ফলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি জেলায় দামোদরের তীরবর্তী এলাকাগুলি। শনিবার ভোর থেকেই প্রবল জল বাড়ছে শিলাবতী নদীতে। লক্ষ্ণীপুজোর আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল, চন্দ্রকোণার বিস্তীর্ণ এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা। পুজোর আগেই পাঁচবার প্লাবিত হয়েছে ঘাটাল মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা। পুজোর পর আবার নিম্মচাপের দোসর হয়ে ডিভিসি-এর জল ছাড়াকেই এই অসময়ের বন্যার জন্য দায়ী করছে তৃণমূল।