পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: চরম অর্থনৈতিক সংকট ও লাগামছাড়া দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ইরানে চলমান বিক্ষোভ ক্রমেই সহিংস রূপ নিচ্ছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত দেশটিতে গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানায়, লোরেস্তান প্রদেশে এক পুলিশ সদর দপ্তরে হামলার সময় অন্তত তিন বিক্ষোভকারী নিহত এবং ১৭ জন আহত হন। আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজের দাবি, বিক্ষোভকারীরা সেখানে একাধিক পুলিশ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন।
এ ছাড়া লোর্দেগান, কুহদাশত ও ইসফাহান প্রদেশ থেকেও মৃত্যুর খবর এসেছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘হেনগাও’ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কয়েকজন বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ডস জানিয়েছে, কুহদাশতে বিক্ষোভকারীদের হামলায় তাদের আধা সামরিক বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন।
গত রবিবার মুদ্রার মানের ভয়াবহ পতন ও নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে আন্দোলন শুরু করেন। পরে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সেই আন্দোলন দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান প্রায় অর্ধেক কমে গেছে এবং দেশটির মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশে। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা এবং গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইরানের অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার একদিকে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, অন্যদিকে আলোচনার প্রস্তাবও দিচ্ছে। সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসতে প্রস্তুত তেহরান। তবে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পরও মারভদাশত, কেরমানশাহ ও হামেদানসহ একাধিক শহরে বিক্ষোভ ও ধরপাকড় অব্যাহত



















