পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: মুসলিম দেখলেই তাদের ‘রোহিঙ্গা’, ‘বাংলাদেশি’ বলে দেগে দিচ্ছে পদ্মশিবির। বাংলাতেও বিজেপি ‘রোহিঙ্গা’কে ইস্যু করতে চাইছে। বিগত নির্বাচনগুলিতে সংখ্যালঘু ভোটারদের বেশিরভাগই আস্থা রেখেছিল তৃণমূলের উপর। আর তাতেই মুসলিমদের নিশানা করতে তাদের ‘রেহিঙ্গা’ তকমা দিয়ে বিদ্বেষের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে গেরুয়া শিবিরে।
সেই আবহে এবার মোক্ষম প্রশ্নটি তুলল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, রেহিঙ্গারা শরণার্থী না অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সেটা আগে ঠিক করতে হবে। তাছাড়া রোহিঙ্গাদের অনির্দিষ্টকালের জন্য আটক করে রাখা যায় কিনা তাও বিবেচনা করবে শীর্ষ আদালত।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মিয়ানমার থেকে অত্যাচারিত হয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করতে তাদের শরণার্থী-কার্ড দিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ। সেই কার্ড নিয়েই বিভিন্ন রাজ্যে আশ্রয়ের আশায় ছুটে বেড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা। তারপরও তাদেরকে শরণার্থী নয়, ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবেই দেগে দিচ্ছে পদ্ম শিবির।
বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা সংক্রান্ত একগুচ্ছ মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংহের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। শীর্ষ আদালতের এই তিন বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, রোহিঙ্গারা শরণার্থী না অনুপ্রবেশকারী সেটি চূড়ান্ত হয়ে গেলে আনুষঙ্গিক বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে। তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল—সুপ্রিম কোর্ট ইঙ্গিত দিয়েছে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়নের বিষয়ে রাষ্ট্রের কী করণীয় তা নিয়েও একটি রূপরেখা তারা (সুপ্রিম কোর্ট) ঠিক করে দিতে পারে। মামলাগুলিকে তিনটি ভাগে ভাগ করে শুনানি শুরু করেছে শীর্ষ আদালত।
তার মধ্যে প্রধান ২টি বিষয় হল- রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশকারী না শরণার্থী- সেই সংক্রান্ত মামলা।
দ্বিতীয়টি হল-রোহিঙ্গাদের সমস্যা সংক্রান্ত মামলা।
এই মামলাগুলিকে পৃথক ভাবে শোনা হবে। প্রতি সপ্তাহে বুধবার করে এই মামলাগুলির শুনানি হবে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বেঞ্চ যে বিষয়গুলিতে জোর দিতে চাইছে তা হল-
১. রোহিঙ্গারা কি শরণার্থী হিসেবে ঘোষণা পাওয়ার অধিকারী? যদি তাই হয়, তাহলে তাদের অধিকার ও কী ধরনের সুরক্ষা পাওয়া উচিত?
২. যদি রোহিঙ্গারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হয়, তাহলে ভারত সরকার এবং রাজ্যগুলি কি আইন অনুসারে তাদের বিতাড়িত করতে বাধ্য?
৩. এমনকি রোহিঙ্গাদের যদি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে ধরা হয়, তবুও কি তাদের অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা যাবে নাকি শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পাওয়ার অধিকার আছে?
৪. যেসব রোহিঙ্গা আটক নেই কিন্তু শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে তাদের কি স্যানিটেশন, পানীয় জল, শিক্ষা ইত্যাদির মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা (২১ অনুচ্ছেদের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ) প্রদান করা হয়েছে?






























