২৯ অগাস্ট ২০২৫, শুক্রবার, ১২ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অবশেষে মুক্তি পেলেন ওড়িশায় আটক ৫০ জন বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক

ইমামা খাতুন
  • আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৫, শুক্রবার
  • / 235

পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: শুধু ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে প্রায় ৪০০- অধিক পরিযায়ী শ্রমিককে আটক করে রেখেছে বিজেপি শাসিত ওড়িশা সরকার ‘বাংলাদেশি’ । কাউকে বাংলা কথা বলতে দেখলেই সোজা ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দী। আধার- ভোটার দেখিয়েও হচ্ছে না কাজ। শুধু ওড়িশা না সমস্ত বিজেপি শাসিত রাজ্যেই এইভাবে বাংলাভাষী শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে গ্রেফতার করে ‘পুশব্যাক’ করার অনবরত চেষ্টা চলছে। বিজেপির এই স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে বিরোধী দলগুলো। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ৫০ জনের মতো বাঙালি শ্রমিককে মুক্তি করেছে ওড়িশা রাজ্য সরকার। রাজ্য পুলিশ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আধার, ভোটার, জন্ম, স্কুল সার্টিফিকেট আরও বিভিন্ন রকম নথি দেখানোর পরেই তাদের মুক্তি দিয়েছে বলেই জানা গেছে।

 

আটক হওয়া ৪০০ জন বাঙালির একজন হলেন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বাসিন্দা আজিমুদ্দিন শেখ (২২)। পেশায় রাজমিস্ত্রি। পেটের দায়ে ভিন রাজ্যে কাজে গিয়েছিলেন তিনি। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আজিমুদ্দিন জানান, রাজমিস্ত্রি কাজে সেরাজ্যে গিয়েছিলেন । শুধু বাংলা কথা বলতে দেখেই হঠাৎ একদিন ঝাড়সুগুড়া জেলার ব্রজরাজনগর থেকে তাঁকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। ভারতীয় বলে চিৎকার করলেও ছাড়েনি রাজ্য পুলিশ। ওই এলাকা থেকে একাধিক বাঙালিকে আটক করে তারা। অবশেষে বিভিন্ন নথি দেখিয়ে বাংলা পুলিশ এবং রাজ্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মুক্তি পেয়েছেন।

আরও পড়ুন: বাংলা ভাগের দাবিদারদের সঙ্গে শমীকের বৈঠক

 

আরও পড়ুন: নির্বাচন আসলেই এজেন্সির দাপাদাপি বাড়ে: Mamata Banerjee

আরও এক ভুক্তভুগী নূর মুহাম্মদ শেখ (১৮) বলেন, সোমবার মধ্যরাতে তাদের দলের আটজনকে তুলে নেওয়া হয় । কেড়ে নেওয়া হয় ফোন। আধার বা ভোটার দেখিয়েও কাজে আসেনি। পরে আমাদের বাড়িতে ফোন করে জন্ম ও স্কুল সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করতে বলে। বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে তারা আমাদের ছেড়ে দেয়। পেশায় নির্মাণ শ্রমিক তিনি।

আরও পড়ুন: শুভেন্দুর কেন্দ্রে সমবায় ভোটে খাতা খুলতে পারল না বিজেপি

 

তাদের দলের আরও তিনজন – পিন্টু শেখ, গিয়াসউদ্দিন শেখ এবং রাজিবুল শেখ সকলে এখনও আটক রয়েছেন। সকলেই মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা । তারা চুল কাটার ব্যবসা করে এবং বাংলাদেশে তাদের ব্যবসায়িক যোগাযোগ ছিল বলে জানা গেছে। তাদের ফোনে বাংলাদেশের নম্বর পাওয়া গেছে।

 

মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ার একজন নির্মাণ শ্রমিক সামিউল আনসারি (৩১) বলেন, আমাদের তিন দিন আগে তুলে নেওয়া হয়েছিল। আমরা মোট ছয়জন ছিলাম। তারা আমাদের কাগজপত্র পরীক্ষা করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। তারপর এলাকার আমাদের পরিচিত একজন এসে সাক্ষী হিসেবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে আমাদের ডাকা হলে আমরা পুলিশের কাছে রিপোর্ট করব। তবেই শুক্রবার রাত ২টার দিকে আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

আমাদের পরিবারগুলি অত্যন্ত চিন্তিত ছিল। তারা বাংলার স্থানীয় পুলিশ এবং পঞ্চায়েতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। আমাদের মুক্তি পাওয়ার পর আমরা তাদের ফোন করেছিলাম।

 

বৃহস্পতিবার, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি রীতোব্রত কুমার মিত্রের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব মনোজ পন্তকে তার ওড়িশার প্রতিপক্ষ মনোজ আহুজার সঙ্গে আটকের বিষয়ে সমন্বয় করার নির্দেশ দিয়েছে।

 

তৃণমূল সাংসদ এবং পশ্চিমবঙ্গ অভিবাসী শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম বলেন, “ওড়িশায় আটক এবং বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া শ্রমিকদের বিরুদ্ধে আমরা ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি। আমাদের পুলিশ এবং প্রশাসন ওড়িশার তাদের প্রতিপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। ওড়িশা সরকার তখন থেকেই শ্রমিকদের মুক্তি দেওয়া শুরু করেছে।

তবে এই বর্বরতা বন্ধ না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব। ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁর প্রশ্ন, আদৌ কি প্রশাসনিক তদন্ত হয়েছে, নাকি শুধুমাত্র ভাষা বা পরিচয়ের ভিত্তিতে এই শ্রমিকদের নিশানা করা হচ্ছে? বাংলা থেকে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক বিভিন্ন কাজে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যান। একইভাবে আমাদের রাজ্যেও আসেন বিভিন্ন শ্রমিক। এইভাবেই সব কিছু চলে আসছে ।

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

অবশেষে মুক্তি পেলেন ওড়িশায় আটক ৫০ জন বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৫, শুক্রবার

পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: শুধু ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে প্রায় ৪০০- অধিক পরিযায়ী শ্রমিককে আটক করে রেখেছে বিজেপি শাসিত ওড়িশা সরকার ‘বাংলাদেশি’ । কাউকে বাংলা কথা বলতে দেখলেই সোজা ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দী। আধার- ভোটার দেখিয়েও হচ্ছে না কাজ। শুধু ওড়িশা না সমস্ত বিজেপি শাসিত রাজ্যেই এইভাবে বাংলাভাষী শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে গ্রেফতার করে ‘পুশব্যাক’ করার অনবরত চেষ্টা চলছে। বিজেপির এই স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে বিরোধী দলগুলো। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ৫০ জনের মতো বাঙালি শ্রমিককে মুক্তি করেছে ওড়িশা রাজ্য সরকার। রাজ্য পুলিশ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আধার, ভোটার, জন্ম, স্কুল সার্টিফিকেট আরও বিভিন্ন রকম নথি দেখানোর পরেই তাদের মুক্তি দিয়েছে বলেই জানা গেছে।

 

আটক হওয়া ৪০০ জন বাঙালির একজন হলেন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বাসিন্দা আজিমুদ্দিন শেখ (২২)। পেশায় রাজমিস্ত্রি। পেটের দায়ে ভিন রাজ্যে কাজে গিয়েছিলেন তিনি। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আজিমুদ্দিন জানান, রাজমিস্ত্রি কাজে সেরাজ্যে গিয়েছিলেন । শুধু বাংলা কথা বলতে দেখেই হঠাৎ একদিন ঝাড়সুগুড়া জেলার ব্রজরাজনগর থেকে তাঁকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। ভারতীয় বলে চিৎকার করলেও ছাড়েনি রাজ্য পুলিশ। ওই এলাকা থেকে একাধিক বাঙালিকে আটক করে তারা। অবশেষে বিভিন্ন নথি দেখিয়ে বাংলা পুলিশ এবং রাজ্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মুক্তি পেয়েছেন।

আরও পড়ুন: বাংলা ভাগের দাবিদারদের সঙ্গে শমীকের বৈঠক

 

আরও পড়ুন: নির্বাচন আসলেই এজেন্সির দাপাদাপি বাড়ে: Mamata Banerjee

আরও এক ভুক্তভুগী নূর মুহাম্মদ শেখ (১৮) বলেন, সোমবার মধ্যরাতে তাদের দলের আটজনকে তুলে নেওয়া হয় । কেড়ে নেওয়া হয় ফোন। আধার বা ভোটার দেখিয়েও কাজে আসেনি। পরে আমাদের বাড়িতে ফোন করে জন্ম ও স্কুল সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করতে বলে। বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে তারা আমাদের ছেড়ে দেয়। পেশায় নির্মাণ শ্রমিক তিনি।

আরও পড়ুন: শুভেন্দুর কেন্দ্রে সমবায় ভোটে খাতা খুলতে পারল না বিজেপি

 

তাদের দলের আরও তিনজন – পিন্টু শেখ, গিয়াসউদ্দিন শেখ এবং রাজিবুল শেখ সকলে এখনও আটক রয়েছেন। সকলেই মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা । তারা চুল কাটার ব্যবসা করে এবং বাংলাদেশে তাদের ব্যবসায়িক যোগাযোগ ছিল বলে জানা গেছে। তাদের ফোনে বাংলাদেশের নম্বর পাওয়া গেছে।

 

মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ার একজন নির্মাণ শ্রমিক সামিউল আনসারি (৩১) বলেন, আমাদের তিন দিন আগে তুলে নেওয়া হয়েছিল। আমরা মোট ছয়জন ছিলাম। তারা আমাদের কাগজপত্র পরীক্ষা করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। তারপর এলাকার আমাদের পরিচিত একজন এসে সাক্ষী হিসেবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে আমাদের ডাকা হলে আমরা পুলিশের কাছে রিপোর্ট করব। তবেই শুক্রবার রাত ২টার দিকে আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

আমাদের পরিবারগুলি অত্যন্ত চিন্তিত ছিল। তারা বাংলার স্থানীয় পুলিশ এবং পঞ্চায়েতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। আমাদের মুক্তি পাওয়ার পর আমরা তাদের ফোন করেছিলাম।

 

বৃহস্পতিবার, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি রীতোব্রত কুমার মিত্রের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব মনোজ পন্তকে তার ওড়িশার প্রতিপক্ষ মনোজ আহুজার সঙ্গে আটকের বিষয়ে সমন্বয় করার নির্দেশ দিয়েছে।

 

তৃণমূল সাংসদ এবং পশ্চিমবঙ্গ অভিবাসী শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম বলেন, “ওড়িশায় আটক এবং বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া শ্রমিকদের বিরুদ্ধে আমরা ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি। আমাদের পুলিশ এবং প্রশাসন ওড়িশার তাদের প্রতিপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। ওড়িশা সরকার তখন থেকেই শ্রমিকদের মুক্তি দেওয়া শুরু করেছে।

তবে এই বর্বরতা বন্ধ না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব। ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁর প্রশ্ন, আদৌ কি প্রশাসনিক তদন্ত হয়েছে, নাকি শুধুমাত্র ভাষা বা পরিচয়ের ভিত্তিতে এই শ্রমিকদের নিশানা করা হচ্ছে? বাংলা থেকে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক বিভিন্ন কাজে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যান। একইভাবে আমাদের রাজ্যেও আসেন বিভিন্ন শ্রমিক। এইভাবেই সব কিছু চলে আসছে ।