পুবের কলম, ওয়েবডেস্কঃ রবীন্দ্রসদনে গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুক্ষণ আগেই উত্তরবঙ্গ থেকে সফর কাটছাঁট করে বিকেলে কলকাতায় ফেরেন মুখ্যমন্ত্রী। ফিরেই সোজা চলে যান, তাঁর প্রিয় 'সন্ধ্যাদি'কে শেষশ্রদ্ধা জানাতে।
আরও পড়ুন:

প্রয়াত শিল্পীর দেহ রবীন্দ্রসদনে রাখা হয়। সেখানেই অন্তিমশযায় শায়িত প্রয়াত শিল্পীর দেহ। রাজ্যে তরফ থেকে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়েছে।
গান স্যালুটের বিদায় জানানো হবে এই কিংবদন্তী শিল্পীকে। কালীঘাটের কেওড়াতলা শ্মশানে গীতশ্রী অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে। রবীন্দ্রসদনে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি, রাজনীতিবিদ থেকে রয়েছেন একাধিক সেলেবরা।আরও পড়ুন:
বর্ষীয়ান শিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ১৯৩১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে প্রশিক্ষিত হলেও তবুও তার বেশিরভাগ কাজ বাংলা আধুনিক গানে। ১৯৫০ সালে তারানা চলচ্চিত্রে একটি গান দিয়ে মুম্বইতে তার হিন্দি গান গাওয়া শুরু হয়।
তিনি ১৭টি হিন্দি চলচ্চিত্রে নেপথ্য গায়িকা হিসেবে গান গেয়েছিলেন। ব্যক্তিগত কারণে ১৯৫২ সালে তিনি তার কলকাতা শহরের বাড়িতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।আরও পড়ুন:

১৯৭১ সালে ‘জয় জয়ন্তী’ এবং ‘নিশিপদ্ম’ ছবিতে গান গেয়ে শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। গান দুটি হল – ‘আমাদের ছুটি ছুটি’ এবং ‘ওরে সকল সোনা মলিন হল’। এছাড়াও ২০১১ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ উপাধিতে সম্মানিত করে।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে, যুদ্ধের হাত থেকে বাঁচতে কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গে আগত লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তুদের জন্য তিনি ভারতীয় বাঙালি শিল্পীদের সঙ্গে গণ আন্দোলনে যোগ দেন এবং তাদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন তিনি।
বাংলাদেশের জন্য বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করেন।আরও পড়ুন:

তিনি বাংলাদেশী সংগীতশিল্পী সমর দাস যিনি বাংলাদেশে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন তার সাহায্যার্থে বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান রেকর্ড করেন।
আরও পড়ুন:
কারাগারে বন্দী নতুন বাংলাদেশের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির উপলক্ষে তার গাওয়া ‘বঙ্গবন্ধু তুমি ফিরে এলে’ গানটি মুক্তি পায়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর, প্রথম একুশে ফেব্রুয়ারির উদ্যাপন উপলক্ষে ঢাকায় পল্টন ময়দানের একটি উন্মুক্ত কনসার্টে অনুষ্ঠান করা তিনি অন্যতম প্রথম বিদেশি শিল্পী।
আরও পড়ুন:
২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।