০৭ জানুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ২২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম কাটার ষড়যন্ত্র করছে কমিশন: এসআইআর নিয়ে নিশানা স্ট্যালিনের

পুবের কলম, চেন্নাই: দেশজুড়ে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুতেও শুরু হয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রস্তুতি। এবার এসআইআর নিয়ে কমিশনকে নিশানা করে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এসআইআর-এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র করছে কমিশন। বুধবার মামাল্লাপুরমে ‘মাই পোলিং বুথ-ভিক্টরি বুথ’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে স্ট্যালিন বলেন, “বিজেপি এবং এআইএডিএমকে শ্রমিক শ্রেণি, তপশিলি জাতি, সংখ্যালঘু এবং টার্গেট করে তাদের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নিতে চাইছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে তারা রাজ্যে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে। জনগণের মুখোমুখি হওয়ার সাহস তাদের নেই। যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য। কিন্তু তামিলনাড়ুর মানুষ এই ষড়যন্ত্র মেনে নেবে না।” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে এসআইআর করে বিহারে ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে। ৬৫ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে তারা।

২০২৬ সালে তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচন। রাজ্যে ক্ষমতা দখলের আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে গেরুয়া শিবির। আসন্ন নির্বাচনকে “তামিলনাড়ুর আত্মসম্মান এবং স্বতন্ত্রতা রক্ষার লড়াই” বলে অভিহিত করেছেন স্ট্যালিন। এপ্রসঙ্গে ডিএমকে প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক কাঠামোয় বারংবার আঘাত করা হচ্ছে। কখনো আমাদের ওপর হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া, আমাদের সংস্কৃতিকে আঘাত করা, কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং রাজ্যপালকে ব্যবহার করে রাজ্যের বর্তমান সরকারকে ফেলা দেওয়ার মত চক্রান্ত করা হচ্ছে। ডিএমকে-র শাসনে রাজ্যের মানুষ মাথা উঁচু করে রয়েছে। এরাজ্যের মানুষ কখনোই দিল্লির সামনে ঝুঁকবে না এবং তাদের দাসত্ব করবে না। তাদের পরাজিত করার শক্তি একমাত্র আমাদেরই আছে। আরএসএসের পরিকল্পনা তামিলনাড়ুতে কাজ করবে না। স্ট্যালিনের কথায়, “তামিলনাড়ুতে গণতন্ত্রবিরোধী ষড়যন্ত্র চলছে।”

আরও পড়ুন: কমিশনের সংশোধনী প্রক্রিয়ায় একাধিক ভুল, এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের তৃণমূলের

এদিন কেন্দ্রের মোদি সরকারকে আক্রমণ করে স্ট্যালিন বলেন, বিজেপি ডিএমকে-র শক্তি সম্পর্কে অবগত। তারা নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে। ক্ষমতা ধরে রাখতে কমিশনকে দিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে তারা। তিনি সাফ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এসআইআর ঘোষণা করেছে এবং আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আমরা মাথা নত করব না।” সোমবার এক এক্স-এ পোস্ট তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, “তামিলনাড়ুতে এসআইআর: আমরা আমাদের ভোটাধিকার রক্ষা করব। ভোটচুরি আটকাবো। রাজ্য এবং গণতন্ত্র হত্যার যে কোনও চেষ্টার বিরুদ্ধে লড়াই করবে তামিলরা।” এদিকে ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের নিয়ে বৈঠকের ঘোষণা দিয়েছে ডিএমকে প্রধান। তিনি ঘোষণা করেছেন, যে সমস্ত স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের নেতাদের ২ নভেম্বর চেন্নাইয়ে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। বৈঠকে আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গণতন্ত্র ও তামিলনাড়ুর ভবিষ্যতের জন্য সব দলকে একজোট হতে হবে।

আরও পড়ুন: SIR-এ বড় সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের, ২০১০ সালের পরের OBC সার্টিফিকেট গ্রাহ্য নয়

আরও পড়ুন: পাঁচ জেলায় সবচেয়ে বেশি নাম বাদ, তামিলনাড়ুতে ১২.৪৩ লক্ষ ভোটারকে শুনানির নোটিস কমিশনের
প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

এবার গ্রিনল্যান্ড দখলের ছক? সামরিক বিকল্পও ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম কাটার ষড়যন্ত্র করছে কমিশন: এসআইআর নিয়ে নিশানা স্ট্যালিনের

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৫, বুধবার

পুবের কলম, চেন্নাই: দেশজুড়ে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুতেও শুরু হয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রস্তুতি। এবার এসআইআর নিয়ে কমিশনকে নিশানা করে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এসআইআর-এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র করছে কমিশন। বুধবার মামাল্লাপুরমে ‘মাই পোলিং বুথ-ভিক্টরি বুথ’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে স্ট্যালিন বলেন, “বিজেপি এবং এআইএডিএমকে শ্রমিক শ্রেণি, তপশিলি জাতি, সংখ্যালঘু এবং টার্গেট করে তাদের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নিতে চাইছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে তারা রাজ্যে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে। জনগণের মুখোমুখি হওয়ার সাহস তাদের নেই। যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য। কিন্তু তামিলনাড়ুর মানুষ এই ষড়যন্ত্র মেনে নেবে না।” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে এসআইআর করে বিহারে ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে। ৬৫ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে তারা।

২০২৬ সালে তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচন। রাজ্যে ক্ষমতা দখলের আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে গেরুয়া শিবির। আসন্ন নির্বাচনকে “তামিলনাড়ুর আত্মসম্মান এবং স্বতন্ত্রতা রক্ষার লড়াই” বলে অভিহিত করেছেন স্ট্যালিন। এপ্রসঙ্গে ডিএমকে প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক কাঠামোয় বারংবার আঘাত করা হচ্ছে। কখনো আমাদের ওপর হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া, আমাদের সংস্কৃতিকে আঘাত করা, কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং রাজ্যপালকে ব্যবহার করে রাজ্যের বর্তমান সরকারকে ফেলা দেওয়ার মত চক্রান্ত করা হচ্ছে। ডিএমকে-র শাসনে রাজ্যের মানুষ মাথা উঁচু করে রয়েছে। এরাজ্যের মানুষ কখনোই দিল্লির সামনে ঝুঁকবে না এবং তাদের দাসত্ব করবে না। তাদের পরাজিত করার শক্তি একমাত্র আমাদেরই আছে। আরএসএসের পরিকল্পনা তামিলনাড়ুতে কাজ করবে না। স্ট্যালিনের কথায়, “তামিলনাড়ুতে গণতন্ত্রবিরোধী ষড়যন্ত্র চলছে।”

আরও পড়ুন: কমিশনের সংশোধনী প্রক্রিয়ায় একাধিক ভুল, এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের তৃণমূলের

এদিন কেন্দ্রের মোদি সরকারকে আক্রমণ করে স্ট্যালিন বলেন, বিজেপি ডিএমকে-র শক্তি সম্পর্কে অবগত। তারা নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে। ক্ষমতা ধরে রাখতে কমিশনকে দিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে তারা। তিনি সাফ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এসআইআর ঘোষণা করেছে এবং আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আমরা মাথা নত করব না।” সোমবার এক এক্স-এ পোস্ট তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, “তামিলনাড়ুতে এসআইআর: আমরা আমাদের ভোটাধিকার রক্ষা করব। ভোটচুরি আটকাবো। রাজ্য এবং গণতন্ত্র হত্যার যে কোনও চেষ্টার বিরুদ্ধে লড়াই করবে তামিলরা।” এদিকে ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের নিয়ে বৈঠকের ঘোষণা দিয়েছে ডিএমকে প্রধান। তিনি ঘোষণা করেছেন, যে সমস্ত স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের নেতাদের ২ নভেম্বর চেন্নাইয়ে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। বৈঠকে আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গণতন্ত্র ও তামিলনাড়ুর ভবিষ্যতের জন্য সব দলকে একজোট হতে হবে।

আরও পড়ুন: SIR-এ বড় সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের, ২০১০ সালের পরের OBC সার্টিফিকেট গ্রাহ্য নয়

আরও পড়ুন: পাঁচ জেলায় সবচেয়ে বেশি নাম বাদ, তামিলনাড়ুতে ১২.৪৩ লক্ষ ভোটারকে শুনানির নোটিস কমিশনের