পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: ২০২৫ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন হাঙ্গেরির প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ও চিত্রনাট্যকার লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। বৃহস্পতিবার রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি তাঁকে এই সম্মানে ভূষিত করে জানায়; তাঁর লেখায় ধ্বংস আর অন্ধকারের মধ্যেও শিল্পের শক্তি ও মানবতার বিশ্বাসকে পুনরুজ্জীবিত করার অনন্য ক্ষমতা রয়েছে। সেই কারণেই তাঁকে এই বছরের নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে। ৭১ বছর বয়সি ক্রাসনাহোরকাই দ্বিতীয় হাঙ্গেরিয়ান লেখক, যিনি সাহিত্যে নোবেল জিতলেন।
আরও পড়ুন:
দক্ষিণ,পূর্ব হাঙ্গেরির ছোট শহর গিউলাতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
কমিউনিস্ট আমলের অভিজ্ঞতা এবং ১৯৮৭ সালে ওয়েস্ট বার্লিন ফেলোশিপে বিদেশযাত্রার পর পৃথিবীর নানা প্রান্তে তাঁর ভ্রমণ ও অভিজ্ঞতা তাঁর লেখায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। তাঁর উপন্যাস, গল্প ও প্রবন্ধ বিশেষ করে জার্মানি ও হাঙ্গেরিতে পরিচিত। ২০১৪ সালে লাসলো তাঁর সাহিত্যকর্মের জন্য ম্যান বুকারে সম্মানিত হন। নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে তিনি পাচ্ছেন প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার।আরও পড়ুন:
দীর্ঘ সময় জার্মানিতে বসবাস করা ক্রাসনাহোরকাইকে অনেকেই দেশের জীবিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক মনে করেন।
ইংরেজি অনুবাদক ও কবি জর্জ সির্টেস বলেন, ‘তিনি এক ধরনের সম্মোহনী লেখক। তাঁর সৃষ্ট জগতে আপনি এমনভাবে ডুবে যান যে, তার বিশৃঙ্খলা আর সৌন্দর্যের প্রতিধ্বনি আপনার ভেতরেও বাজতে থাকে।’আরও পড়ুন:
১৯৮৫ সালে প্রকাশিত ‘স্যাটানটাঙ্গো’ তাঁর প্রথম এবং অন্যতম বিখ্যাত উপন্যাস। বিচ্ছিন্ন, পতিত একটি কৃষি সমবায় গ্রামের জীবনকে তুলে ধরে এই উপন্যাস। এক রহস্যময় আগন্তুকের আগমন সেখানে এক ধরণের বিভ্রম ও আশার জন্ম দেয়।
এই উপন্যাস অবলম্বনেই বিখ্যাত পরিচালক বেলা টর সাত ঘণ্টার কালজয়ী চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন।আরও পড়ুন:
‘দ্য মেলানকোলি অব রেজিসট্যান্স’ উপন্যাসে আবার হাঙ্গেরির এক কাল্পনিক শহরে একটি বিশাল হাঙরের প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যেকার উন্মাদনা, সামাজিক বিশৃঙ্খলা এবং একনায়কতন্ত্রের উত্থানের চিত্র আঁকা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
লাসলোর অন্যতম বিখ্যাত উপন্যাস ‘ওয়ার অ্যান্ড ওয়ার’। দীর্ঘ বাক্যের সমন্বয়ে রচিত এই উপন্যাস ফের লাসলোর শৈলী নিয়ে নতুন করে ভাবায় পাঠকদের। নায়ক ইয়াঙ্কো কাহিনিতে বিশ্বের বিভিন্ন শহর ঘুরে বেড়ায় একটি পাণ্ডুলিপি রক্ষা করার জন্য। এটি বিশ্বের চূড়ান্ত ধ্বংসের একটি কাব্যিক বর্ণনা। নোবেল কমিটির মনোনয়নের নেপথ্যে বড় কারণ ছিল লাসলোর সাহিত্যে শিল্পের এই জয়ধ্বনি নির্মাণের প্রচেষ্টা। ২০২৫ সালে যখন সারা বিশ্বের বেশ কিছু দেশ যুদ্ধবিধ্বস্ত বা যুদ্ধের জন্য উৎসুক, তখন বারবার শিল্পের মোহিনী প্রেম ও বন্ধনের কথা মনে করিয়ে দিতে চায় লাসলোর সাহিত্য।