পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ পবিত্র রমযান চলাকালীন সউদির ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা ইফতারের জন্য কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের থেকে কোনও ধরনের অনুদান সংগ্রহ করতে পারবেন না। সউদির ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রক এক ঘোষণায় ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের এই সতর্কতা দিয়েছে। সউদির ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী শেখ আবদুল লতিফ আল শেখ পবিত্র রমযান উপলক্ষে একটি বিশেষ সার্কুলার জারি করেছেন। প্রত্যেক মসজিদে সরকারি এই নির্দেশনাটি পাঠানো হয়েছে। এরই পাশাপাশি পবিত্র মাহে রমযান উপলক্ষে সউদি আরবের সব মসজিদে ছবি তোলা ও লাইভ ভিডিয়ো নিষিদ্ধসহ ১০টি নির্দেশনা দিয়েছে সউদির ধর্মমন্ত্রক।
মন্ত্রকের মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল-আনজি জানান, নামাযের সময় ইমাম ও মুসল্লির ছবি তোলা যাবে না। মসজিদের ক্যামেরা ব্যবহার করে নামাযের ভিডিয়ো তুলে তা কোনও মাধ্যমে প্রচার করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। রমযানে মসজিদগুলোতে ইফতারের আয়োজন করা যাবে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে মসজিদ প্রাঙ্গণে এ আয়োজন করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অনুদান সংগ্রহ করতে পারবেন না ইমামরা।
ইফতার আয়োজনের ক্ষেত্রে ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে থাকবেন। সেইসঙ্গে প্রতিদিন এশার পর তারাবির নামায এবং শেষ ১০ দিন তাহাজ্জুদের নামায ও ইতিকাফের আয়োজন করা যাবে। তবে ইতিকাফকারীদের সম্পর্কে মসজিদ কর্তৃপক্ষকে অবগত থাকতে হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তারাবির নামাযের ক্ষেত্রে মুসল্লিদের সুবিধার দিকটি বিবেচনা করতে হবে সকল মসজিদকে। রমযানের শেষ ১০ দিন তাহাজ্জুদের নামায ফজরের আযানের আগেই সম্পন্ন করার কথাও বলা হয়।
উল্লেখ্য, পবিত্র রমযান মাসে সউদি আরবের ২ প্রধান মসজিদে বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মুসল্লি জড়ো হন। এবার সউদি কর্তৃপক্ষ ৩০ লক্ষ মুসল্লির আগমনের আশা করছে। তাদের সুবিধা অসুবিধার কথা মাথায় রেখে সউদি ধর্মমন্ত্রক ১০ দফা নির্দেশনা দিয়েছে। সেই সঙ্গে মুসল্লিদের সেবায় ১২ হাজার কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। করোনা মহামারির কারণে ২ বছর ধরে মসজিদে ইফতার ও ইতিকাফ কার্যক্রম স্থগিত রেখেছিল সউদি আরব। গত বছরের রমযানে মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদসহ দেশটির সব মসজিদে আবারও সীমিত আকারে রমযান মাসের কার্যক্রম শুরু হয়। এবার তা পুরোপুরিভাবে শুরুর ঘোষণা করেছে সউদি সরকার।