পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সফলভাবে উৎক্ষেপণের পরে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে কাজ শুরু করে দিয়েছে চন্দ্রযান-৩। তার পর থেকেই সৌর মিশনের জন্য প্রস্ততি নিয়েছিল ইসরো। সেই মতো আজ ১১.৫০ মিনিটে শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণ হল আদিত্য এল ১।

আদিত্য-এল ১ মহাকাশযানটি সূর্যের কক্ষপথের দূরবর্তী পর্যবেক্ষণ এবং L1 (সূর্য-আর্থ ল্যাগ্রাঞ্জিয়ান পয়েন্ট) এ সৌর বায়ু অধ্যয়নের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে।

ইসরোর সকল বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ট্যুইট করে মোদি জানিয়েছেন, ইসরোর সকল বিজ্ঞানী সোলার মিশন, আদিত্য এল-১ সফলভাবে উৎক্ষেপণের জন্য অভিনন্দন। সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে মহাবিশ্ব সম্পর্কে আরও ভালো করে জানার বিকাশের জন্য আমাদের অক্লান্ত বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে'।

আদিত্য-L1 মিশনের উদ্দেশ্য হল ‘L1’ এর চারপাশে কক্ষপথ থেকে সূর্যকে অধ্যয়ন করা। বিভিন্ন তরঙ্গ ব্যান্ডে সূর্যের আলোকমণ্ডল, ক্রোমোস্ফিয়ার এবং বাইরেরতম স্তর-পেরিফেরি পর্যবেক্ষণ করার জন্য এতে সাতটি যন্ত্র থাকবে।

প্রথমবারের মতো সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্রের বিদ্যমান যন্ত্র সম্পর্কে জানা যাবে। আদিত্য এল১-এর সাহায্যে সূর্য থেকে নির্গত অতিবেগুনি রশ্মির প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্ট L1 -এ অবস্থান করবে আদিত্য।  L1 ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্ট হল মহাকাশের এমন একটি জায়গা, যেখানে সূর্য এবং পৃথিবীর মতো দুটি বিশাল ভরযুক্ত জিনিসের মাধ্যাকর্ষীয় টানের মধ্যে ভারসাম্য থাকে এবং সেখানে অবস্থান করতে পারে মহাকাশযানের মতো ছোট কোনও জিনিস। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই পয়েন্ট থেকে সূর্যকে বাধাহীনভাবে দেখা যাবে। পরীক্ষা চলবে পাঁচ বছর ধরে।

ইসরোর চেয়ারম্যান এস. আদিত্য-এল ১ মিশন শুরুর আগে সোমনাথ শুক্রবার সুলুরুপেতার শ্রী চেঙ্গালাম্মা পরমেশ্বরী মন্দিরে ঈশ্বর দর্শনে যান৷ সেখানে দেবী মায়ের কাছে মিশনের সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করেন। মন্দিরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৭টায় মন্দিরে পৌঁছে আসেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা৷