০৫ জানুয়ারী ২০২৬, সোমবার, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর এত রাগ কেন ট্রাম্পের

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া অবস্থান নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর সেই ক্ষোভ আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মন্তব্য—“ট্রাম্প যা বলেন, তা-ই করেন”—এই সংঘাতকে আরও স্পষ্ট করেছে।
মাদুরোর সঙ্গে ট্রাম্পের দ্বন্দ্ব শুরু তাঁর প্রথম মেয়াদ থেকেই। ভেনিজুয়েলায় গণতন্ত্র নেই, নির্বাচন কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে আছেন মাদুরো—এমন অভিযোগ তুলে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প, যদিও তা সফল হয়নি। বামপন্থী নেতা হুগো শ্যাভেজের উত্তরসূরি হিসেবে ২০১৩ সালে ক্ষমতায় আসা মাদুরো ২০২৪ সালের নির্বাচনেও পুনর্নির্বাচিত হন। বিরোধীদের দাবি, ভোটে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, মাদুরোর সরকার মাদক পাচার, চুরি করা তেল বিক্রি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যুক্ত। ট্রাম্প প্রশাসন ভেনিজুয়েলার তেল ট্যাঙ্কার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং দেশটিকে কার্যত ঘিরে ফেলে। ক্যারিবিয়ান সাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ও কারাকাসে বিস্ফোরণের শব্দ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
ভেনিজুয়েলার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র আসলে তাদের তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদ দখলের লক্ষ্যেই এই অভিযান চালাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে মাদুরোর ঘনিষ্ঠতাই ট্রাম্পের অসন্তোষের বড় কারণ। জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নে মাদুরো ট্রাম্পের পথে বড় বাধা—এটাই মূলত এই দীর্ঘ সংঘাতের কেন্দ্রে।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

ভেনেজুয়েলা সংকট ঘিরে দুনিয়াজুড়ে উত্তেজনা, তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের আশঙ্কা

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর এত রাগ কেন ট্রাম্পের

আপডেট : ৪ জানুয়ারী ২০২৬, রবিবার

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া অবস্থান নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর সেই ক্ষোভ আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মন্তব্য—“ট্রাম্প যা বলেন, তা-ই করেন”—এই সংঘাতকে আরও স্পষ্ট করেছে।
মাদুরোর সঙ্গে ট্রাম্পের দ্বন্দ্ব শুরু তাঁর প্রথম মেয়াদ থেকেই। ভেনিজুয়েলায় গণতন্ত্র নেই, নির্বাচন কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে আছেন মাদুরো—এমন অভিযোগ তুলে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প, যদিও তা সফল হয়নি। বামপন্থী নেতা হুগো শ্যাভেজের উত্তরসূরি হিসেবে ২০১৩ সালে ক্ষমতায় আসা মাদুরো ২০২৪ সালের নির্বাচনেও পুনর্নির্বাচিত হন। বিরোধীদের দাবি, ভোটে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, মাদুরোর সরকার মাদক পাচার, চুরি করা তেল বিক্রি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যুক্ত। ট্রাম্প প্রশাসন ভেনিজুয়েলার তেল ট্যাঙ্কার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং দেশটিকে কার্যত ঘিরে ফেলে। ক্যারিবিয়ান সাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ও কারাকাসে বিস্ফোরণের শব্দ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
ভেনিজুয়েলার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র আসলে তাদের তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদ দখলের লক্ষ্যেই এই অভিযান চালাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে মাদুরোর ঘনিষ্ঠতাই ট্রাম্পের অসন্তোষের বড় কারণ। জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নে মাদুরো ট্রাম্পের পথে বড় বাধা—এটাই মূলত এই দীর্ঘ সংঘাতের কেন্দ্রে।