০১ জানুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

থিওলজিতে সেট, স্কুলের শূন্যপদে আরবির শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি

পুবের কলম প্রতিবেদকঃ ইসলামিক থিওলজি এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে সেট পরীক্ষা চালুর দাবিতে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে চিঠি দিলেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের একাংশ এবং পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়ন (এমএসইউ)। পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের প্যাডে উল্লেখিত চিঠি শিক্ষা দফতরে জমা দেন সংগঠনের সভাপতি সাহেব আলি। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে– থিওলজি স্তরের প্রফেসর হওয়ার জন্য কোনও পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। তাঁদের দাবি– রাজ্য সরকার যাতে সেট পরীক্ষার ব্যবস্থা করে। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাঁরা ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব বা থিওলজির বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন– এঁদের জন্য সেট পরীক্ষার ব্যবস্থা না হওয়ায় থিওলজির ছাত্রছাত্রীদের প্রফেসর হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তাঁদের আরও দাবি– রাজ্যের বহু স্কুলে এখনও আরবি বিষয়ে শূন্যপদ রয়েছে। সেই সব পদ পূরণে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এতে স্কুলপড়ুয়ারা আরবি শেখার আগ্রহ হারাচ্ছে। অনেক স্কুলে আবার আরবির শিক্ষক নেই। বিষয় পূরণের জন্য পড়ুয়াদের সংস্কৃতির পাঠ নিতে হচ্ছে। তাঁদের দাবি– স্কুলের সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে সংস্কৃত পাঠের পাশাপাশি আরবি বিষয় চালু করা হয়– তার উদ্যোগ নিতে হবে শিক্ষা দফতরে। পাশাপাশি তাঁদের আরও দাবি– সব সেকেন্ডারি স্কুলে আরবি বিষয়ে পঠন-পাঠন চালু করতে হবে। একইসঙ্গে তাঁদের আরও দাবি– করোনা আবহের জন্য মাদ্রাসা– স্কুল– কলেজ– বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। সেই স্কুলে স্বাস্থ্য বিধি মেনে যাতে দ্রুত পঠন-পাঠন চালু করা হয়– তার উদ্যোগ নিতে হবে।

সাহেব আলি আরও জানান, সংখ্যালঘু এলাকার বহু স্কুলে আরবি শিক্ষক নেই। এই নিয়ে রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশন যাতে নিয়োগের উদ্যোগ নেয়– তার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আর্জি জানানো হয়েছে।

 আগামী দিনে রাজ্য সংখ্যালঘু মন্ত্রীর কাছেও বিষয়টি জানানো হবে।  সাহেব আলি জানান, আগে থিওলজিতে এমএম বা কামিল ডিগ্রি দেওয়া হত। কিন্তু ২০১৪ সালের পর থেকে থিওলজিতে বিএ এবং এম ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে। নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে যাতে থিওলজি বিষয়কে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত  করে অধ্যাপক হওয়ার সুযোগের ব্যবস্থা করা হয় তার জন্য বিভিন্ন দফতরে আবেদন করা হবে। তিনি আরও বলেন, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের দাবিতে সংখ্যালঘু দফতরের মন্ত্রীকে জানানো হবে।  পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মাদ্রাসার শিক্ষক– অশিক্ষক কর্মী নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি নতুন পদগুলিও পূরণ করতে হবে।  থিওলজি এবং আরবি বিভাগের পড়ুয়াদের ইংরেজিতে স্কীল ডেভলপমেন্ট কোর্স চালু করতে হবে। পাশাপাশি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় স্নাতক– এলএলবি– পলিটিক্যাল সায়েন্স প্রভৃতি আরও বিষয় চালু করতে হবে।  পাশাপাশি পেশাগত কোর্সের জন্য সমস্ত সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের  স্কলারশিপ প্রদানের ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।

সর্বধিক পাঠিত

রাশিয়ায় আছড়ে পড়ল ইউক্রেনীয় ড্রোন, হামলা নিহত ২৪ জন নাগরিক

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

থিওলজিতে সেট, স্কুলের শূন্যপদে আরবির শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি

আপডেট : ২১ অগাস্ট ২০২১, শনিবার

পুবের কলম প্রতিবেদকঃ ইসলামিক থিওলজি এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে সেট পরীক্ষা চালুর দাবিতে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে চিঠি দিলেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের একাংশ এবং পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়ন (এমএসইউ)। পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের প্যাডে উল্লেখিত চিঠি শিক্ষা দফতরে জমা দেন সংগঠনের সভাপতি সাহেব আলি। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে– থিওলজি স্তরের প্রফেসর হওয়ার জন্য কোনও পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। তাঁদের দাবি– রাজ্য সরকার যাতে সেট পরীক্ষার ব্যবস্থা করে। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাঁরা ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব বা থিওলজির বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন– এঁদের জন্য সেট পরীক্ষার ব্যবস্থা না হওয়ায় থিওলজির ছাত্রছাত্রীদের প্রফেসর হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তাঁদের আরও দাবি– রাজ্যের বহু স্কুলে এখনও আরবি বিষয়ে শূন্যপদ রয়েছে। সেই সব পদ পূরণে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এতে স্কুলপড়ুয়ারা আরবি শেখার আগ্রহ হারাচ্ছে। অনেক স্কুলে আবার আরবির শিক্ষক নেই। বিষয় পূরণের জন্য পড়ুয়াদের সংস্কৃতির পাঠ নিতে হচ্ছে। তাঁদের দাবি– স্কুলের সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে সংস্কৃত পাঠের পাশাপাশি আরবি বিষয় চালু করা হয়– তার উদ্যোগ নিতে হবে শিক্ষা দফতরে। পাশাপাশি তাঁদের আরও দাবি– সব সেকেন্ডারি স্কুলে আরবি বিষয়ে পঠন-পাঠন চালু করতে হবে। একইসঙ্গে তাঁদের আরও দাবি– করোনা আবহের জন্য মাদ্রাসা– স্কুল– কলেজ– বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। সেই স্কুলে স্বাস্থ্য বিধি মেনে যাতে দ্রুত পঠন-পাঠন চালু করা হয়– তার উদ্যোগ নিতে হবে।

সাহেব আলি আরও জানান, সংখ্যালঘু এলাকার বহু স্কুলে আরবি শিক্ষক নেই। এই নিয়ে রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশন যাতে নিয়োগের উদ্যোগ নেয়– তার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আর্জি জানানো হয়েছে।

 আগামী দিনে রাজ্য সংখ্যালঘু মন্ত্রীর কাছেও বিষয়টি জানানো হবে।  সাহেব আলি জানান, আগে থিওলজিতে এমএম বা কামিল ডিগ্রি দেওয়া হত। কিন্তু ২০১৪ সালের পর থেকে থিওলজিতে বিএ এবং এম ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে। নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে যাতে থিওলজি বিষয়কে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত  করে অধ্যাপক হওয়ার সুযোগের ব্যবস্থা করা হয় তার জন্য বিভিন্ন দফতরে আবেদন করা হবে। তিনি আরও বলেন, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের দাবিতে সংখ্যালঘু দফতরের মন্ত্রীকে জানানো হবে।  পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মাদ্রাসার শিক্ষক– অশিক্ষক কর্মী নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি নতুন পদগুলিও পূরণ করতে হবে।  থিওলজি এবং আরবি বিভাগের পড়ুয়াদের ইংরেজিতে স্কীল ডেভলপমেন্ট কোর্স চালু করতে হবে। পাশাপাশি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় স্নাতক– এলএলবি– পলিটিক্যাল সায়েন্স প্রভৃতি আরও বিষয় চালু করতে হবে।  পাশাপাশি পেশাগত কোর্সের জন্য সমস্ত সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের  স্কলারশিপ প্রদানের ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।