১৩ জানুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মরবিতে কমপক্ষে ১০০ জনের প্রাণ বাঁচিয়ে নজির গড়ল বেশ কয়েক মুসলিম যুবক, প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরা

পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: গুজরাতের মরবিতে সেতু বিপর্যয় কেড়ে নিয়েছে কমপক্ষে ১৫০ টি প্রাণ, নিখোঁজ এখনও অনেকে। এই দুঃসময়েও সম্প্রীতির নজির মিলল মরবিতে। উত্তাল নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রায় ১০০ জনের প্রাণ বাঁচালেন বেশ কয়েক মুসলিম যুবক।

এমনই এক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে এক যুবক বলছে,এই দৃশ্য দেখার পর আমি ওহ আমার বন্ধুরা মিলে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে। লক্ষ্য একটাই মূল্যবান প্রাণ বাঁচানো। আমরা তাদের বাঁচাতে গিয়ে অনেক নদীর জল খেয়েছি। কিন্তু থেমে থাকিনি। যতটুকু পেরেছি আমরা চেষ্টা করেছি।

আরও পড়ুন: মুরগি-ছাগলের জীবনের কি হবে? পথকুকুর সংক্রান্ত মামলায় বিস্ময় প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের

সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সে আরও জানায়, আমরা জানতাম শুধু সাঁতার জানি। এত টুকুই বিশ্বাস নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দি। তৌফিক ভাই, নাঈম শেখ এবং হুসেন পাঠান এবং আরও অনেকে যাদের নাম জানতাম না সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ি একত্রে। অনেকেরই প্রাণরক্ষা হয়। তবে নদীর জলে তলিয়ে যায় আরও অনেক তরতাজা প্রাণ।

আরও পড়ুন: ছত্রিশগড়ে পুরুলিয়ার আট বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর, মুসলিম হওয়ায় নিশানা বজরং দলের!

রবিবার রাতে প্রায় ৫০০ শোর মত মানুষ নিয়ে মাচ্ছু নদীর উপর ভেঙে পড়ে সেতু। এই ঘটনায় অন্তত ১৪১ জনের মৃত্যু হয়েছ। আহত আরও অনেকে।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা তকমা দিয়ে কারমাইকেল হস্টেলের আবাসিকদের উপর আক্রমণের অভিযোগ

জানা গিয়েছে, সেতুটি দীর্ঘ ৭ মাস বন্ধ রাখা হয়েছিল। চলছিল মেরামতের কাজ । কিছু দিন আগেই সেতুটি নতুন করে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। তার ৬ দিনের মাথায় ঘটে এই বিপত্তি।

ঠিক এগারো বছর আগে ২০১১ সালে দার্জিলিং-এর বিজনবারি সেতুতে এমনই এক দুর্ঘটনায় প্রাণ গিয়েছিল ৩২ জনের। সেই ইতিহাস আজ স্মৃতির পাতায়। নতুন করে গুজরাটের ঝুলন্ত ব্রিজের দুর্ঘটনা উস্কে দিল সেই আতঙ্ক।

 

রবিবার ছটপুজো উপলক্ষে ছুটি ছিল গুজরাটে। তাই সেতুতে অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অন্তত ৫০০ লোক নিয়ে সেতু ছিঁড়ে জলে পড়ে যায়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছিল, সেতু ভেঙে মাচ্ছু নদীতে পড়ে যান অনেকে। কেউ সাঁতার কেটে প্রাণরক্ষা করার চেষ্টা করছিলেন, তো কেউ বা আবার ঝুলন্ত ব্রিজের দড়ি ধরে ঝুলে ছিলেন।

 

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ, পরামর্শদাতা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এক অক্লান্ত কর্মী ড: মুহাম্মদ মনজুর আলম ইন্তেকাল করেছেন

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

মরবিতে কমপক্ষে ১০০ জনের প্রাণ বাঁচিয়ে নজির গড়ল বেশ কয়েক মুসলিম যুবক, প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরা

আপডেট : ১ নভেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার

পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: গুজরাতের মরবিতে সেতু বিপর্যয় কেড়ে নিয়েছে কমপক্ষে ১৫০ টি প্রাণ, নিখোঁজ এখনও অনেকে। এই দুঃসময়েও সম্প্রীতির নজির মিলল মরবিতে। উত্তাল নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রায় ১০০ জনের প্রাণ বাঁচালেন বেশ কয়েক মুসলিম যুবক।

এমনই এক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে এক যুবক বলছে,এই দৃশ্য দেখার পর আমি ওহ আমার বন্ধুরা মিলে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে। লক্ষ্য একটাই মূল্যবান প্রাণ বাঁচানো। আমরা তাদের বাঁচাতে গিয়ে অনেক নদীর জল খেয়েছি। কিন্তু থেমে থাকিনি। যতটুকু পেরেছি আমরা চেষ্টা করেছি।

আরও পড়ুন: মুরগি-ছাগলের জীবনের কি হবে? পথকুকুর সংক্রান্ত মামলায় বিস্ময় প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের

সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সে আরও জানায়, আমরা জানতাম শুধু সাঁতার জানি। এত টুকুই বিশ্বাস নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দি। তৌফিক ভাই, নাঈম শেখ এবং হুসেন পাঠান এবং আরও অনেকে যাদের নাম জানতাম না সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ি একত্রে। অনেকেরই প্রাণরক্ষা হয়। তবে নদীর জলে তলিয়ে যায় আরও অনেক তরতাজা প্রাণ।

আরও পড়ুন: ছত্রিশগড়ে পুরুলিয়ার আট বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর, মুসলিম হওয়ায় নিশানা বজরং দলের!

রবিবার রাতে প্রায় ৫০০ শোর মত মানুষ নিয়ে মাচ্ছু নদীর উপর ভেঙে পড়ে সেতু। এই ঘটনায় অন্তত ১৪১ জনের মৃত্যু হয়েছ। আহত আরও অনেকে।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা তকমা দিয়ে কারমাইকেল হস্টেলের আবাসিকদের উপর আক্রমণের অভিযোগ

জানা গিয়েছে, সেতুটি দীর্ঘ ৭ মাস বন্ধ রাখা হয়েছিল। চলছিল মেরামতের কাজ । কিছু দিন আগেই সেতুটি নতুন করে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। তার ৬ দিনের মাথায় ঘটে এই বিপত্তি।

ঠিক এগারো বছর আগে ২০১১ সালে দার্জিলিং-এর বিজনবারি সেতুতে এমনই এক দুর্ঘটনায় প্রাণ গিয়েছিল ৩২ জনের। সেই ইতিহাস আজ স্মৃতির পাতায়। নতুন করে গুজরাটের ঝুলন্ত ব্রিজের দুর্ঘটনা উস্কে দিল সেই আতঙ্ক।

 

রবিবার ছটপুজো উপলক্ষে ছুটি ছিল গুজরাটে। তাই সেতুতে অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অন্তত ৫০০ লোক নিয়ে সেতু ছিঁড়ে জলে পড়ে যায়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছিল, সেতু ভেঙে মাচ্ছু নদীতে পড়ে যান অনেকে। কেউ সাঁতার কেটে প্রাণরক্ষা করার চেষ্টা করছিলেন, তো কেউ বা আবার ঝুলন্ত ব্রিজের দড়ি ধরে ঝুলে ছিলেন।