পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: রাজধানী দিল্লিতে ভয়াবহ ঝড়-বৃষ্টি। ঝোড়ো হাওয়ার জেরে চরম বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে শহরের স্বাভাবিক জনজীবন ভেঙে পড়েছে, অন্যদিকে ঘটেছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। প্রবল ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ার কারণে দিল্লির জাফরপুর কালান এলাকায় একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক মহিলা এবং তাঁর তিন শিশু সন্তান। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মহিলার স্বামী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ভারী বৃষ্টির সঙ্গে ৫০-৭০ কিমি বেগে বইতে থাকা ঝোড়ো হাওয়ার কারণে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর (IMD) দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকায় "লাল সতর্কতা" জারি করেছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টা দিল্লি ও এনসিআর অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকবে।আরও পড়ুন:
দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাফরপুর কালান এলাকায় একটি কাঁচা বাড়িতে রাতের সময় ঘুমিয়ে ছিলেন জ্যোতি নামের এক মহিলা, তাঁর স্বামী অজয় এবং তাদের তিন সন্তান। রাত প্রায় ২টার সময় প্রবল বাতাসের তোড়ে একটি পুরনো নিমগাছ তাদের বাড়ির উপর ভেঙে পড়ে।
ঘটনাস্থলেই জ্যোতি এবং তাঁর তিন শিশু সন্তানের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা দ্রুত অজয়কে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান, তিনি বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।আরও পড়ুন:
পুলিশ মৃতদেহগুলিকে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবহাওয়ার কারণে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, অন্তত ৪০টি ফ্লাইটকে অন্যত্র ডাইভার্ট করতে হয়েছে, এবং প্রায় ১০০টিরও বেশি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ছাড়ে বা অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তৈরি হয় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।আরও পড়ুন:
[ আরও পড়ুন: গরমে দিল্লির রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া হল ২০০০ বাস, বিজেপি দুর্নীতিগ্রস্ত তোপ আপের ]
আরও পড়ুন:
দিল্লি ও এনসিআর অঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। দ্বারকা, খানপুর, মিন্টো রোড, রিং রোড, লাজপত নগর, মোতিবাগ প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হাঁটু পর্যন্ত জল জমে যাওয়ায় যানচলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। অনেক জায়গায় ট্রাফিক জ্যামের ফলে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থাকতে হয় গাড়িচালক ও যাত্রীদের।
আরও পড়ুন:
আইএমডির তরফে দিল্লিবাসীকে ঘরে থাকার এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় এনডিআরএফ-এর (NDRF) একাধিক দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দমকল ও উদ্ধারকারী কর্মীদের সাহায্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে গাছপালা সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ চলছে।
আরও পড়ুন:
[ আরও পড়ুন: গরমে হাঁসফাঁস দিল্লিতে! তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি হওয়ায় স্কুলগুলিতে নির্দেশিকা জারি শিক্ষা দফতরের ]
আরও পড়ুন:
এই ঘটনায় আবহাওয়া পরিবর্তনের ভয়াবহতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধরনের প্রবল ঘূর্ণিবাতাস এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাত জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম দৃষ্টান্ত।