০২ মার্চ ২০২৬, সোমবার, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুইডিশ মসজিদে হামলা এবং কুরআন অবমাননা



 ‘কুরআনের অবমাননা মুসলিমদের জন্য অপমানজনক। আমাদের মসজিদ ও মুসল্লিরা হুমকির মধ্যে রয়েছে। বর্ণবিদ্বেষীরা প্রতিদিন মুসলিমদের বিরুদ্ধে ফাঁদ পাতছে।’-স্টকহোম সেন্ট্রাল মসজিদ কর্তৃপক্ষ।



পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ সম্প্রতি সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের সেন্ট্রাল মসজিদে চালানো বিদ্বেষী হামলা ও পবিত্র কুরআন অবমাননার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে স্টকহোমের সেন্ট্রাল মসজিদ কর্তৃপক্ষ। হামলাকারীরা কুরআনের একটি ছিন্নভিন্ন কপিকে মসজিদের প্রবেশদ্বারের বাইরে ঝুলিয়ে রেখে মুসলিমদের ভাবাবেগে আঘাত হানে।

আরও পড়ুন: ইরানে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল

 

আরও পড়ুন: রাশিয়ায় আছড়ে পড়ল ইউক্রেনীয় ড্রোন, হামলা নিহত ২৪ জন নাগরিক

এই ঘটনার পরপরই স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। পবিত্র কুরআনের অবমাননা তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। স্টকহোম সেন্ট্রাল মসজিদ কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, একটি ক্ষতিগ্রস্ত কুরআনকে লোহার রেলিংয়ে শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে। কুরআনের কপিটি তছনছ করা অবস্থায় পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে ভারতীয় হাইকমিশনের বাসভবনে হামলা: পুলিশ-বিক্ষোভকারীদের খণ্ডযুদ্ধ, গ্রেফতার ১২

 

ওই মসজিদটি প্রায়ই হামলার শিকার হয়ে থাকে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ ফেসবুকে লিখেছে, ‘কুরআনের অবমাননা মুসলমানদের জন্য অপমানজনক। আমাদের মসজিদ ও মুসল্লিরা হুমকির মধ্যে রয়েছে। বর্ণবিদ্বেষীরা প্রতিদিন মুসলিমদের কলঙ্কিত করতে ফাঁদ পাতছে।’

 

মসজিদ কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের ধর্মীয় কার্যক্রম ও সভা-বৈঠককে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। এজন্য হামলার ছবি সংবলিত তথ্য আমরা শেয়ার করলাম, যাতে বিশ্ববাসী জানতে পারে আমাদের সাথে কী ঘটছে।’ তবে হামলার শিকার মসজিদটি অতীতেও বারংবার উগ্রবাদীদের হামলার শিকার হয়েছে।

 

তাই নতুন করে হামলা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি আগের ঘটনাগুলোর সাথেই সম্পর্কিত। হামলাকারীরা মসজিদটির দরজায় ইসলাম বিরোধী গ্রাফিতি এঁকে গিয়েছে। এ থেকে স্পষ্ট, হামলাকারীরা ইউরোপে ইসলামের প্রসার ও বৃদ্ধি দেখতে চায় না।

 

উল্লেখ্য, সুইডেনে কিছুদিন ধরে কুরআনের ওপর হামলা বাড়ছে। এর আগে সুইডিশ ও ড্যানিশ নাগরিক রাসমুস পালুদান স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে কুরআন পোড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছে। এতে সে বিশ্বের সব মুসলিমের ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছে। পালুদান একটি উগ্র ডানপন্থী ড্যানিশ অভিবাসন-বিরোধী দলের নেতৃত্ব দেয়।

 

স্টকহোম সেন্ট্রাল সমজিদের ইমাম ও পরিচালক মাহমুদ খলফি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্টকহোমে কুরআন পোড়ানোর ঘটনার সাক্ষী। গত বছরের ডিসেম্বরে তার চোখের সামনে ঘটনাটি ঘটেছিল। তিনি বলেন, ‘আমার হৃদয় জানে, ঘটনাটি কত বেদনাদায়ক ছিল। কুরআন আল্লাহর বাণী। কুরআন পোড়ানো মানেই মুসলিমদের আগুনে জ্বালানো।’

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

দিনহাটায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৫ শ্রমিকের মৃত্যু

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

সুইডিশ মসজিদে হামলা এবং কুরআন অবমাননা

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার


 ‘কুরআনের অবমাননা মুসলিমদের জন্য অপমানজনক। আমাদের মসজিদ ও মুসল্লিরা হুমকির মধ্যে রয়েছে। বর্ণবিদ্বেষীরা প্রতিদিন মুসলিমদের বিরুদ্ধে ফাঁদ পাতছে।’-স্টকহোম সেন্ট্রাল মসজিদ কর্তৃপক্ষ।



পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ সম্প্রতি সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের সেন্ট্রাল মসজিদে চালানো বিদ্বেষী হামলা ও পবিত্র কুরআন অবমাননার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে স্টকহোমের সেন্ট্রাল মসজিদ কর্তৃপক্ষ। হামলাকারীরা কুরআনের একটি ছিন্নভিন্ন কপিকে মসজিদের প্রবেশদ্বারের বাইরে ঝুলিয়ে রেখে মুসলিমদের ভাবাবেগে আঘাত হানে।

আরও পড়ুন: ইরানে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল

 

আরও পড়ুন: রাশিয়ায় আছড়ে পড়ল ইউক্রেনীয় ড্রোন, হামলা নিহত ২৪ জন নাগরিক

এই ঘটনার পরপরই স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। পবিত্র কুরআনের অবমাননা তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। স্টকহোম সেন্ট্রাল মসজিদ কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, একটি ক্ষতিগ্রস্ত কুরআনকে লোহার রেলিংয়ে শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে। কুরআনের কপিটি তছনছ করা অবস্থায় পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে ভারতীয় হাইকমিশনের বাসভবনে হামলা: পুলিশ-বিক্ষোভকারীদের খণ্ডযুদ্ধ, গ্রেফতার ১২

 

ওই মসজিদটি প্রায়ই হামলার শিকার হয়ে থাকে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ ফেসবুকে লিখেছে, ‘কুরআনের অবমাননা মুসলমানদের জন্য অপমানজনক। আমাদের মসজিদ ও মুসল্লিরা হুমকির মধ্যে রয়েছে। বর্ণবিদ্বেষীরা প্রতিদিন মুসলিমদের কলঙ্কিত করতে ফাঁদ পাতছে।’

 

মসজিদ কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের ধর্মীয় কার্যক্রম ও সভা-বৈঠককে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। এজন্য হামলার ছবি সংবলিত তথ্য আমরা শেয়ার করলাম, যাতে বিশ্ববাসী জানতে পারে আমাদের সাথে কী ঘটছে।’ তবে হামলার শিকার মসজিদটি অতীতেও বারংবার উগ্রবাদীদের হামলার শিকার হয়েছে।

 

তাই নতুন করে হামলা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি আগের ঘটনাগুলোর সাথেই সম্পর্কিত। হামলাকারীরা মসজিদটির দরজায় ইসলাম বিরোধী গ্রাফিতি এঁকে গিয়েছে। এ থেকে স্পষ্ট, হামলাকারীরা ইউরোপে ইসলামের প্রসার ও বৃদ্ধি দেখতে চায় না।

 

উল্লেখ্য, সুইডেনে কিছুদিন ধরে কুরআনের ওপর হামলা বাড়ছে। এর আগে সুইডিশ ও ড্যানিশ নাগরিক রাসমুস পালুদান স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে কুরআন পোড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছে। এতে সে বিশ্বের সব মুসলিমের ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছে। পালুদান একটি উগ্র ডানপন্থী ড্যানিশ অভিবাসন-বিরোধী দলের নেতৃত্ব দেয়।

 

স্টকহোম সেন্ট্রাল সমজিদের ইমাম ও পরিচালক মাহমুদ খলফি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্টকহোমে কুরআন পোড়ানোর ঘটনার সাক্ষী। গত বছরের ডিসেম্বরে তার চোখের সামনে ঘটনাটি ঘটেছিল। তিনি বলেন, ‘আমার হৃদয় জানে, ঘটনাটি কত বেদনাদায়ক ছিল। কুরআন আল্লাহর বাণী। কুরআন পোড়ানো মানেই মুসলিমদের আগুনে জ্বালানো।’