৩০ অগাস্ট ২০২৫, শনিবার, ১৩ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে, ১৪টি দেশকে নতুন শুল্ক নোটিস পাঠালেন ট্রাম্প

আফিয়া‌‌ নৌশিন
  • আপডেট : ৮ জুলাই ২০২৫, মঙ্গলবার
  • / 217

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে, জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার রাতভর ১৪টি দেশকে নতুন শুল্কহার সংক্রান্ত চিঠি পাঠানোর পরেই নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন বাণিজ্যআলোচনার প্রসঙ্গে মুখ খুললেন তিনি। শুল্ক আরোপের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ এবং মায়ানমার-সহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দেশ।

সোমবার (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) রাতে হোয়াইট হাউস থেকে ১৪টি দেশকে নতুন শুল্ক ঘোষণা জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই তালিকায় রয়েছে—
বাংলাদেশ, মায়ানমার, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, বসনিয়া, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, সার্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তিউনিশিয়া, লাওস, দক্ষিণ আফ্রিকা, কাজাখস্তান ও মালয়েশিয়া।

এই চিঠিতে জানানো হয়েছে, ১ অগস্ট ২০২৫ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এই দেশগুলোর পণ্যের উপর নির্দিষ্ট হারে শুল্ক ধার্য হবে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি— যদি কোনও দেশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, তবে আমেরিকাও প্রতিক্রিয়াস্বরূপ শুল্কের হার বাড়াবে।

আরও পড়ুন: জাপানে দুই দিনের গুরুত্বপূর্ণ সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

সোমবার রাতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে নৈশভোজের পর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি। আমরা ইতিমধ্যেই ব্রিটেন ও চিনের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছি।”

আরও পড়ুন: মার্কিন কাঁটা সত্বেও বিকল্প পথে রফতানি চলবে: Piyush Goyal

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে, কিন্তু যেসব দেশের সঙ্গে বোঝাপড়া হয়নি, তাদের শুল্ক আরোপের নোটিস পাঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: আমেরিকার জন্য কৃষি-বাণিজ্য হুমকির মুখে, ক্ষোভ চিনের

নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বহু মাস ধরেই বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। উভয় দেশের একাধিক প্রতিনিধি দল একে অপরের দেশে সফর করেছেন। বর্তমানে ভারতের একটি দল আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে।

সূত্র অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে সমঝোতা হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো মতবিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য ও আমদানি শুল্ক নিয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বিভেদ রয়েছে। তবে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি জানিয়েছেন, ভারত এই চুক্তি নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী।

ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, যেসব দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হয়নি, তাঁদের ‘চিঠি’ দিয়েই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিচ্ছে হোয়াইট হাউস।  “আমরা মনে করি না, এই দেশগুলির সঙ্গে চুক্তি করা সম্ভব। তাই আমরা তাদের জানিয়ে দিচ্ছি— আমেরিকার বাজারে তাদের পণ্যের উপর কত শতাংশ শুল্ক ধার্য হবে।”

চিনের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সময়েও ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও একই সুরে মন্তব্য করলেন তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি একদিকে যেমন বিশ্বের একাধিক দেশের রপ্তানি নীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, তেমনই অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যচুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে, ১৪টি দেশকে নতুন শুল্ক নোটিস পাঠালেন ট্রাম্প

আপডেট : ৮ জুলাই ২০২৫, মঙ্গলবার

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে, জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার রাতভর ১৪টি দেশকে নতুন শুল্কহার সংক্রান্ত চিঠি পাঠানোর পরেই নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন বাণিজ্যআলোচনার প্রসঙ্গে মুখ খুললেন তিনি। শুল্ক আরোপের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ এবং মায়ানমার-সহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দেশ।

সোমবার (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) রাতে হোয়াইট হাউস থেকে ১৪টি দেশকে নতুন শুল্ক ঘোষণা জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই তালিকায় রয়েছে—
বাংলাদেশ, মায়ানমার, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, বসনিয়া, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, সার্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তিউনিশিয়া, লাওস, দক্ষিণ আফ্রিকা, কাজাখস্তান ও মালয়েশিয়া।

এই চিঠিতে জানানো হয়েছে, ১ অগস্ট ২০২৫ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এই দেশগুলোর পণ্যের উপর নির্দিষ্ট হারে শুল্ক ধার্য হবে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি— যদি কোনও দেশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, তবে আমেরিকাও প্রতিক্রিয়াস্বরূপ শুল্কের হার বাড়াবে।

আরও পড়ুন: জাপানে দুই দিনের গুরুত্বপূর্ণ সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

সোমবার রাতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে নৈশভোজের পর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি। আমরা ইতিমধ্যেই ব্রিটেন ও চিনের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছি।”

আরও পড়ুন: মার্কিন কাঁটা সত্বেও বিকল্প পথে রফতানি চলবে: Piyush Goyal

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে, কিন্তু যেসব দেশের সঙ্গে বোঝাপড়া হয়নি, তাদের শুল্ক আরোপের নোটিস পাঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: আমেরিকার জন্য কৃষি-বাণিজ্য হুমকির মুখে, ক্ষোভ চিনের

নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বহু মাস ধরেই বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। উভয় দেশের একাধিক প্রতিনিধি দল একে অপরের দেশে সফর করেছেন। বর্তমানে ভারতের একটি দল আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে।

সূত্র অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে সমঝোতা হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো মতবিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য ও আমদানি শুল্ক নিয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বিভেদ রয়েছে। তবে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি জানিয়েছেন, ভারত এই চুক্তি নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী।

ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, যেসব দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হয়নি, তাঁদের ‘চিঠি’ দিয়েই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিচ্ছে হোয়াইট হাউস।  “আমরা মনে করি না, এই দেশগুলির সঙ্গে চুক্তি করা সম্ভব। তাই আমরা তাদের জানিয়ে দিচ্ছি— আমেরিকার বাজারে তাদের পণ্যের উপর কত শতাংশ শুল্ক ধার্য হবে।”

চিনের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সময়েও ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও একই সুরে মন্তব্য করলেন তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি একদিকে যেমন বিশ্বের একাধিক দেশের রপ্তানি নীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, তেমনই অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যচুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।