২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

“বিচারব্যবস্থাকে কালিমালিপ্ত করা সহ্য করব না”: পাঠ্যবইয়ে ‘বিচারবিভাগীয় দুর্নীতি’ নিয়ে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: স্কুলপাঠ্য বইয়ে বিচারব্যবস্থার ‘দুর্নীতি’ নিয়ে অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সংঘাত তৈরি হলো দেশের শীর্ষ আদালত এবং এনসিইআরটি-র মধ্যে। বুধবার এক শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এই ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, আদালত এই প্রতিষ্ঠানকে কালিমালিপ্ত করার কোনো প্রচেষ্টা সহ্য করবে না। প্রয়োজনে শীর্ষ আদালত নিজেই এই বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নিতে পারে।

এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকে ‘আমাদের সমাজে বিচারবিভাগের ভূমিকা’ নামক একটি সংশোধিত অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে। আগে এই অধ্যায়ে মূলত আদালতের কাঠামো এবং কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা থাকত। কিন্তু নতুন সংস্করণে বিচারব্যবস্থার সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ হিসেবে ‘দুর্নীতি’ এবং ‘মামলার পাহাড়’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বইটিতে সুপ্রিম কোর্টে ৮১ হাজার এবং নিম্ন আদালতগুলোতে প্রায় ৪.৭ কোটি মামলা বকেয়া থাকার পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: এসআইআর: মাধ্যমিকের অ্যাডমিট ও আধার কার্ড গ্রহণের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

বুধবার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “দেশের সমস্ত হাইকোর্টের বিচারপতির এই ঘটনায় অত্যন্ত বিচলিত। আমি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছি। কয়েকদিন অপেক্ষা করুন, আইন নিজের পথে চলবে। কোনোভাবেই এই প্রতিষ্ঠানকে অপমান করতে দেওয়া হবে না।” বেঞ্চের অন্য সদস্য বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন যে, এই ধরনের পাঠ্যক্রম সংবিধানের ‘মৌলিক কাঠামো’র পরিপন্থী হতে পারে।

আরও পড়ুন: এসআইআর: নথির অসঙ্গতি কাটাতে ওডিশা-ঝাড়খণ্ড থেকে বিচারক নিয়োগের নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবালের একটি বক্তব্যের মাধ্যমে। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তোলেন, “এনসিইআরটি অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের বিচারবিভাগীয় দুর্নীতি নিয়ে শেখাচ্ছে! কিন্তু রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, আমলা বা তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দুর্নীতির কী হবে? সেগুলো কি কার্পেটের নিচে চাপা দিয়ে রাখা হবে?”

আরও পড়ুন: SIR মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন নির্দেশ, জেলা বিচারকদের হাতে সিদ্ধান্তের ভার

প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

‘১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ চলে যাবে’, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নিয়ে বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

“বিচারব্যবস্থাকে কালিমালিপ্ত করা সহ্য করব না”: পাঠ্যবইয়ে ‘বিচারবিভাগীয় দুর্নীতি’ নিয়ে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: স্কুলপাঠ্য বইয়ে বিচারব্যবস্থার ‘দুর্নীতি’ নিয়ে অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সংঘাত তৈরি হলো দেশের শীর্ষ আদালত এবং এনসিইআরটি-র মধ্যে। বুধবার এক শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এই ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, আদালত এই প্রতিষ্ঠানকে কালিমালিপ্ত করার কোনো প্রচেষ্টা সহ্য করবে না। প্রয়োজনে শীর্ষ আদালত নিজেই এই বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নিতে পারে।

এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকে ‘আমাদের সমাজে বিচারবিভাগের ভূমিকা’ নামক একটি সংশোধিত অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে। আগে এই অধ্যায়ে মূলত আদালতের কাঠামো এবং কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা থাকত। কিন্তু নতুন সংস্করণে বিচারব্যবস্থার সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ হিসেবে ‘দুর্নীতি’ এবং ‘মামলার পাহাড়’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বইটিতে সুপ্রিম কোর্টে ৮১ হাজার এবং নিম্ন আদালতগুলোতে প্রায় ৪.৭ কোটি মামলা বকেয়া থাকার পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: এসআইআর: মাধ্যমিকের অ্যাডমিট ও আধার কার্ড গ্রহণের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

বুধবার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “দেশের সমস্ত হাইকোর্টের বিচারপতির এই ঘটনায় অত্যন্ত বিচলিত। আমি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছি। কয়েকদিন অপেক্ষা করুন, আইন নিজের পথে চলবে। কোনোভাবেই এই প্রতিষ্ঠানকে অপমান করতে দেওয়া হবে না।” বেঞ্চের অন্য সদস্য বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন যে, এই ধরনের পাঠ্যক্রম সংবিধানের ‘মৌলিক কাঠামো’র পরিপন্থী হতে পারে।

আরও পড়ুন: এসআইআর: নথির অসঙ্গতি কাটাতে ওডিশা-ঝাড়খণ্ড থেকে বিচারক নিয়োগের নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবালের একটি বক্তব্যের মাধ্যমে। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তোলেন, “এনসিইআরটি অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের বিচারবিভাগীয় দুর্নীতি নিয়ে শেখাচ্ছে! কিন্তু রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, আমলা বা তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দুর্নীতির কী হবে? সেগুলো কি কার্পেটের নিচে চাপা দিয়ে রাখা হবে?”

আরও পড়ুন: SIR মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন নির্দেশ, জেলা বিচারকদের হাতে সিদ্ধান্তের ভার