পুবের কলম, ভোপাল: ফের বিএলও-র মর্মান্তিক মৃত্যু। এবার ঘটনাস্থল মধ্যপ্রদেশ। গত ২৪ ঘন্টায় বিজেপি শাসিত রাজ্যে দু’জন বিএলও আত্মহত্যা করেছেন। তারা হলেন- রমাকান্ত পান্ডে ও সীতারাম গোন্ড। অভিযোগ, ভোটার তালিকার চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কাজ নিয়ে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হচ্ছিল তাদের। কাজের চাপ নিতে না পারায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় তারা। মৃতের পরিবারের দাবি, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং প্রতিদিনের টার্গেট পূরণ করতে না পারায় তাদের বরখাস্ত করার ভয় দেখানো হচ্ছিল। মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা পথ বেছে নিয়েছে। যদিও প্রশাসন দাবি করেছে, দুই বিএলও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যার কারণে মারা গেছেন।
জানা গিয়েছে, সাতলাপুর এলাকার বাসিন্দা রমাকান্ত পান্ডে তিলখেড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তাঁকে বিএলও-র দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব মত কাজও শুরু করেন তিনি। কিন্তু প্রতিদিনের কাজের টার্গেট পূরণ করতে পারছিলেন না পান্ডে। তাঁর স্ত্রী রেখা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, অতিরিক্ত কাজের চাপে গভীর রাত পর্যন্ত তাঁকে কাজ করতে হচ্ছে। টার্গেট পূরণ না করতে পারলে কর্তব্যে গাফিলতির কারণে বরখাস্ত করার ভয় দেখানো হয়েছে।
যদিও প্রশাসন কাজে চাপে আত্মহত্যার কথা মানতে নারাজ। মহকুমা শাসক (এসডিও) এবং রাইসেনের ভোজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী নিবন্ধন কর্মকর্তা চন্দ্রশেখর শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, পান্ডে শুক্রবার রাতে অসুস্থতার কারণে মারা যান। আমরা ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় রয়েছি। রিপোর্ট আসলেই মৃত্যুর কারণ পরিষ্কার হবে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশের দামোহ জেলার স্কুল শিক্ষক সীতারাম গোন্ডকে রঞ্জরা এবং কুদা কুডান গ্রামের বিএলও-র দায়িত্ব দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার গণনার ফর্ম বিতরণের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “তাঁকে প্রথমে দামোহ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় জব্বলপুরে রেফার করেন। সেখানে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।” যদিও গোন্ডের পরিবারের দাবি, দুটি গ্রামে কেবল ১০-১৫% কাজ শেষ করতে পেরেছিলেন তিনি। কিভাবে এত অল্প সময়ের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করবেন, তা নিয়ে প্রচণ্ড চাপে ছিলেন গোন্ড। অতিরিক্ত চাপের কারণেই তিনি মারা গিয়েছে।



























