১৩ জানুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সরকারের উদাসীনতা

কৃষক আত্মহত্যা: মহারাষ্ট্রে ৩ মাসে আত্মঘাতী ৭৬৭ জন

পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: দিন প্রতিদিন বেড়েই চলেছে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা। শুধু মহারাষ্ট্রে চলতি বছর ৭৬৭ জন কৃষক আত্মঘাতী হয়েছে । সম্প্রতি বিধানসভা অধিবেশনে এই তথ্যই প্রকাশ্যে আনল মহারাষ্ট্রের ফড়ণবিস সরকার।

এদিন বিধানসভা অধিবেশনে একটি রিপোর্ট পেশ করেন রাজ্য সরকার। তাতে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালে শুধু জানুয়ারি থেকে  মার্চ পর্যন্ত ৭৬৭ জন কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন। কৃষকদের মধ্যে বেশিরভাগই বিদর্ভ অঞ্চলের বাসিন্দা। বিদর্ভের ইয়াতমাল, অমরাবতী, আকোলা, বুলদানা ও ওয়াসিম অঞ্চলে এই তিন মাসে আত্মঘাতী হয়েছেন ২৫৭ জন। পাশাপাশি হাঙ্গোলি জেলার মারাঠওয়াড়া অঞ্চলে আত্মঘাতী হয়েছেন ২৪ জন কৃষক।

আরও পড়ুন: মহারাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, গাড়ির ভেতরে বস্তায় বাঁধা অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার ব্যাঙ্ক কর্মীর

এই বছরে কৃষক আত্মহত্যার একটি রিপোর্ট চেয়ে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানান  বিরোধী দলনেতারা। সেই প্রেক্ষিতেই বিধানসভার অধিবেশনে রিপোর্ট পেশ করে রাজ্য সরকার।

আরও পড়ুন: ফের কৃষক আন্দোলনে উত্তাল মহারাষ্ট্র-অবরুদ্ধ জাতীয় সড়ক, চাপের মুখে কেন্দ্র

যেখানে আরও জানানো হয়,  এদের মধ্যে ৩৭৬ জনের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে।  অন্যদিকে ২০০ পরিবার এখনও সরকারের সাহায্য পায়নি। কারণ দর্শিয়ে রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ওই ২০০ পরিবার এখনও সরকারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করে নি। ১৯৪টি মামলা এখনও তদন্তাধীন।

আরও পড়ুন: আত্মঘাতী আইপিএস, রাজ্য পুলিশের ডিজিকে ছুটিতে পাঠাল হরিয়ানা সরকার

আর এই পরিসংখ্যান শোনার পর থেকে বুধবার উত্তাল হয়ে ওঠে বিধানসভা অধিবেশন। শোরগোল পড়ে যায় বিধানসভা প্রাঙ্গণে। কৃষকদের প্রতি সরকারের উদাসীনতার অভিযোগ তুলে দুবার ওয়াকআউট করেন বিরোধীরা।

এতগুলি মৃত্যুর দায়ের পিছনে রাজ্যসরকারকে দোষারোপ করেন তাঁরা। বলেন, বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। কৃষকদের ন্যায্য মূল্য দেওয়া থেকে বিরত থাকছে সরকার। খাতায় কলমে নানা নিয়ম থাকলেও তা আর বাস্তবায়িত করা হচ্ছে না। কৃষি ঋণ মুকুব ও ফসলের ন্যুনতম সহায়ক মূল্য না বাড়লে ফসলের দাম পাওয়া যাচ্ছে না।  একইসঙ্গে সয়াবিন চাষি এবং তুলা চাষিরা এখনও টাকা পাননি। মহারাষ্ট্র সরকার কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের দেড় গুণ দাম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এখন সরকার তার প্রতিশ্রুতি পূরণে গড়িমসি করছে।যার জেরেই বিপুল ঋণে জড়িয়ে আত্মঘাতী হতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা।

বিরোধীদের আরও অভিযোগ, মহারাষ্ট্র সরকার সম্প্রতি ৮৬,৩০০ কোটি টাকার শক্তিপীঠ মহামার্গের জন্য ২০,০০০ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে। অথচ কৃষকদের জন্য তাঁদের কাছে কোনও টাকা নেই। কৃষি ঋণ মকুবের জন্য কোনও টাকা নেই।

 

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

অঙ্কিতা ভাণ্ডারি হত্যাকাণ্ড: রাজ্যজুড়ে “উত্তরাখণ্ড বন্ধ”-এর ডাক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

সরকারের উদাসীনতা

কৃষক আত্মহত্যা: মহারাষ্ট্রে ৩ মাসে আত্মঘাতী ৭৬৭ জন

আপডেট : ২ জুলাই ২০২৫, বুধবার

পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: দিন প্রতিদিন বেড়েই চলেছে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা। শুধু মহারাষ্ট্রে চলতি বছর ৭৬৭ জন কৃষক আত্মঘাতী হয়েছে । সম্প্রতি বিধানসভা অধিবেশনে এই তথ্যই প্রকাশ্যে আনল মহারাষ্ট্রের ফড়ণবিস সরকার।

এদিন বিধানসভা অধিবেশনে একটি রিপোর্ট পেশ করেন রাজ্য সরকার। তাতে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালে শুধু জানুয়ারি থেকে  মার্চ পর্যন্ত ৭৬৭ জন কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন। কৃষকদের মধ্যে বেশিরভাগই বিদর্ভ অঞ্চলের বাসিন্দা। বিদর্ভের ইয়াতমাল, অমরাবতী, আকোলা, বুলদানা ও ওয়াসিম অঞ্চলে এই তিন মাসে আত্মঘাতী হয়েছেন ২৫৭ জন। পাশাপাশি হাঙ্গোলি জেলার মারাঠওয়াড়া অঞ্চলে আত্মঘাতী হয়েছেন ২৪ জন কৃষক।

আরও পড়ুন: মহারাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, গাড়ির ভেতরে বস্তায় বাঁধা অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার ব্যাঙ্ক কর্মীর

এই বছরে কৃষক আত্মহত্যার একটি রিপোর্ট চেয়ে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানান  বিরোধী দলনেতারা। সেই প্রেক্ষিতেই বিধানসভার অধিবেশনে রিপোর্ট পেশ করে রাজ্য সরকার।

আরও পড়ুন: ফের কৃষক আন্দোলনে উত্তাল মহারাষ্ট্র-অবরুদ্ধ জাতীয় সড়ক, চাপের মুখে কেন্দ্র

যেখানে আরও জানানো হয়,  এদের মধ্যে ৩৭৬ জনের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে।  অন্যদিকে ২০০ পরিবার এখনও সরকারের সাহায্য পায়নি। কারণ দর্শিয়ে রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ওই ২০০ পরিবার এখনও সরকারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করে নি। ১৯৪টি মামলা এখনও তদন্তাধীন।

আরও পড়ুন: আত্মঘাতী আইপিএস, রাজ্য পুলিশের ডিজিকে ছুটিতে পাঠাল হরিয়ানা সরকার

আর এই পরিসংখ্যান শোনার পর থেকে বুধবার উত্তাল হয়ে ওঠে বিধানসভা অধিবেশন। শোরগোল পড়ে যায় বিধানসভা প্রাঙ্গণে। কৃষকদের প্রতি সরকারের উদাসীনতার অভিযোগ তুলে দুবার ওয়াকআউট করেন বিরোধীরা।

এতগুলি মৃত্যুর দায়ের পিছনে রাজ্যসরকারকে দোষারোপ করেন তাঁরা। বলেন, বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। কৃষকদের ন্যায্য মূল্য দেওয়া থেকে বিরত থাকছে সরকার। খাতায় কলমে নানা নিয়ম থাকলেও তা আর বাস্তবায়িত করা হচ্ছে না। কৃষি ঋণ মুকুব ও ফসলের ন্যুনতম সহায়ক মূল্য না বাড়লে ফসলের দাম পাওয়া যাচ্ছে না।  একইসঙ্গে সয়াবিন চাষি এবং তুলা চাষিরা এখনও টাকা পাননি। মহারাষ্ট্র সরকার কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের দেড় গুণ দাম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এখন সরকার তার প্রতিশ্রুতি পূরণে গড়িমসি করছে।যার জেরেই বিপুল ঋণে জড়িয়ে আত্মঘাতী হতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা।

বিরোধীদের আরও অভিযোগ, মহারাষ্ট্র সরকার সম্প্রতি ৮৬,৩০০ কোটি টাকার শক্তিপীঠ মহামার্গের জন্য ২০,০০০ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে। অথচ কৃষকদের জন্য তাঁদের কাছে কোনও টাকা নেই। কৃষি ঋণ মকুবের জন্য কোনও টাকা নেই।