০৩ জানুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ওবিসি সংরক্ষণে বৈষম্য, অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস উপাচার্যের

পুবের কলম প্রতিবেদকঃ সংরক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সঠিক ভাবে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। সংরক্ষণের বিষয় নিয়ে এবার নড়েচড়ে বসল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার ওবিসি এ সংরক্ষণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিবাজি প্রতিম বসু বলেন, এসসি– এসটি-র সঙ্গে ওবিসি ‘এ’ এবং ওবিসি ‘বি’ সংরক্ষণের পার্থক্য রয়েছে। তবে এত কম সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছে কেন– এর জবাবে তিনি বলেন– অনেক সময় ‘এ’ এবং ‘বি’ সংরক্ষণে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায় না। তবে এই অভিযোগ যে ভিত্তিহীন– তা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের ফলে বোঝা যাচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জানান– কোনও অভিযোগ পেলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি এই অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পিএইচডি-র ভর্তিতে চূড়ান্ত তালিকা গত ৮ অক্টোবর প্রকাশ করা হয়েছে– তাতে ওবিসি ‘এ’র জন্য কিছু ভয়াবহ সংকেত রয়েছে। কলা বিভাগে ১২টি বিষয়ে মোট ৫৯ জন সুযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে ওবিসি ‘এ’ থেকে সুযোগ পেয়েছে মাত্র পাঁচ জন। কমার্স– ইকোনমিক্স– ম্যানেজমেন্ট– দর্শন– রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সোসিওলজি বিষয়গুলোতে একজনও ওবিসি ‘এ’ থেকে প্রার্থী নেওয়া হয়নি।
অনেকের মনে হতে পারে যে– ওবিসি এ থেকে হয়তো কেউ তেমন আবেদন করেননি। কিন্তু এটাও ঠিক নয়। রাষ্টÉবিজ্ঞানের পিএইচডি’তে মোট আবেদন করেছিলেন আটজন। এঁরা সকলেই নেট উত্তীর্ণ। এঁদের একজনকেও নেওয়া হয়নি। আর দর্শনে মোট ১০ জন। এর মধ্যে ৮ জন নেট এবং দু’জন সেট উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রী পিএইচডি’র জন্য ওবিসি ‘এ’ থেকে আবেদন করছিলেন। এঁদেরকেও নেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: নানা কায়দায় ওবিসি সংরক্ষণ এড়িয়ে যাচ্ছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়

ওবিসি ‘এ’ জন্য সংরক্ষিত রয়েছে ১০ শতাংশ– ওবিসি ‘বি’ জন্য সংরক্ষিত আছে ৭ শতাংশ আসন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সংরক্ষণের কোটায় ১১ জন ওবিসি-বি নেওয়া হয়েছে– যেখানে ওবিসি-এ থেকে নেওয়া হয়েছে মাত্র ৭ জন। অসংরক্ষিত আসনে যেখানে ১০ জন ওবিসি-বি প্রার্থী নেওয়া হয়েছে– ওবিসি-এ থেকে একজনও প্রার্থী নেওয়া হয়নি। ওবিসি এর জন্য প্রাপ্য আসন ছিল তেরো– তাদেরকে ৭টি আসন দিয়ে চরম বৈষম্যের দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কিন্তু বিজ্ঞান বিভাগের অবস্থা আরও ভয়াবহ। বিজ্ঞান বিভাগে মোট সত্তরজন প্রার্থী নেওয়া হয়েছে কিন্তু ওবিসি এ প্রার্থী নেওয়া হয়েছে মাত্র দু’জন। গণিত– পদার্থবিদ্যা– রসায়ন– জীববিদ্যা– কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং পরিবেশ বিজ্ঞানে একজনও ওবিসি এ প্রার্থী নেওয়া হয়নি।
আইআইটির গবেষক আসিফের মতে– পর্যাপ্ত আবেদন থাকা সত্বেও অনেক নেট-সেট উত্তীর্ণ ওবিসি-‘এ’ প্রার্থীদের নেওয়া হচ্ছে না। সুতরাং সমস্যাটা প্রার্থী সংখ্যার নয়। আশা করি আগামীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।

আরও খবর পড়ুনঃ

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

‘বাংলাদেশ মডেলে আন্দোলন চাই’! মোদিকে হঠাতে বিস্ফোরক মন্তব্য বিজেপির প্রাক্তন জোটসঙ্গীর, ভিডিও ভাইরাল

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ওবিসি সংরক্ষণে বৈষম্য, অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস উপাচার্যের

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২১, বৃহস্পতিবার

পুবের কলম প্রতিবেদকঃ সংরক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সঠিক ভাবে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। সংরক্ষণের বিষয় নিয়ে এবার নড়েচড়ে বসল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার ওবিসি এ সংরক্ষণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিবাজি প্রতিম বসু বলেন, এসসি– এসটি-র সঙ্গে ওবিসি ‘এ’ এবং ওবিসি ‘বি’ সংরক্ষণের পার্থক্য রয়েছে। তবে এত কম সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছে কেন– এর জবাবে তিনি বলেন– অনেক সময় ‘এ’ এবং ‘বি’ সংরক্ষণে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায় না। তবে এই অভিযোগ যে ভিত্তিহীন– তা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের ফলে বোঝা যাচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জানান– কোনও অভিযোগ পেলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি এই অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পিএইচডি-র ভর্তিতে চূড়ান্ত তালিকা গত ৮ অক্টোবর প্রকাশ করা হয়েছে– তাতে ওবিসি ‘এ’র জন্য কিছু ভয়াবহ সংকেত রয়েছে। কলা বিভাগে ১২টি বিষয়ে মোট ৫৯ জন সুযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে ওবিসি ‘এ’ থেকে সুযোগ পেয়েছে মাত্র পাঁচ জন। কমার্স– ইকোনমিক্স– ম্যানেজমেন্ট– দর্শন– রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সোসিওলজি বিষয়গুলোতে একজনও ওবিসি ‘এ’ থেকে প্রার্থী নেওয়া হয়নি।
অনেকের মনে হতে পারে যে– ওবিসি এ থেকে হয়তো কেউ তেমন আবেদন করেননি। কিন্তু এটাও ঠিক নয়। রাষ্টÉবিজ্ঞানের পিএইচডি’তে মোট আবেদন করেছিলেন আটজন। এঁরা সকলেই নেট উত্তীর্ণ। এঁদের একজনকেও নেওয়া হয়নি। আর দর্শনে মোট ১০ জন। এর মধ্যে ৮ জন নেট এবং দু’জন সেট উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রী পিএইচডি’র জন্য ওবিসি ‘এ’ থেকে আবেদন করছিলেন। এঁদেরকেও নেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: নানা কায়দায় ওবিসি সংরক্ষণ এড়িয়ে যাচ্ছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়

ওবিসি ‘এ’ জন্য সংরক্ষিত রয়েছে ১০ শতাংশ– ওবিসি ‘বি’ জন্য সংরক্ষিত আছে ৭ শতাংশ আসন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সংরক্ষণের কোটায় ১১ জন ওবিসি-বি নেওয়া হয়েছে– যেখানে ওবিসি-এ থেকে নেওয়া হয়েছে মাত্র ৭ জন। অসংরক্ষিত আসনে যেখানে ১০ জন ওবিসি-বি প্রার্থী নেওয়া হয়েছে– ওবিসি-এ থেকে একজনও প্রার্থী নেওয়া হয়নি। ওবিসি এর জন্য প্রাপ্য আসন ছিল তেরো– তাদেরকে ৭টি আসন দিয়ে চরম বৈষম্যের দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কিন্তু বিজ্ঞান বিভাগের অবস্থা আরও ভয়াবহ। বিজ্ঞান বিভাগে মোট সত্তরজন প্রার্থী নেওয়া হয়েছে কিন্তু ওবিসি এ প্রার্থী নেওয়া হয়েছে মাত্র দু’জন। গণিত– পদার্থবিদ্যা– রসায়ন– জীববিদ্যা– কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং পরিবেশ বিজ্ঞানে একজনও ওবিসি এ প্রার্থী নেওয়া হয়নি।
আইআইটির গবেষক আসিফের মতে– পর্যাপ্ত আবেদন থাকা সত্বেও অনেক নেট-সেট উত্তীর্ণ ওবিসি-‘এ’ প্রার্থীদের নেওয়া হচ্ছে না। সুতরাং সমস্যাটা প্রার্থী সংখ্যার নয়। আশা করি আগামীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।

আরও খবর পড়ুনঃ