১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে উদ্বিগ্ন সুপ্রিম কোর্ট

নয়াদিল্লি, ১৩ ফেব্রুয়ারি: অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে ভেরিফিকেশনের দরকার কি! কেন্দ্রের কাছে জানতে চাইল দেশের শীর্ষ আদালত। একইসঙ্গে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে বাংলাদেশীদের দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখায় উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। এদিন আদালত প্রশ্ন তুলেছে, যেসব দেশে অবৈধ অভিবাসীদের নির্বাসিত করা হবে, সেখান থেকে তাদের ‘জাতীয়তা’ নিশ্চিত করার প্রয়োজন কি! যখন তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে, যে তারা সেই দেশের নাগরিক থাকাকালীন অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী সংক্রান্ত এক মামলার শুনানি হয়। এদিন ডিভিশন বেঞ্চ বলেন, “আজ আমরা এমন একটি পর্যায়ে দাঁড়িয়েছি যেখানে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তাদের অবহেলা করা উচিত নয়। কল্পনা করুন, এক হাজারের বেশি মানুষ বিচারাধীন বন্দি।” প্রসঙ্গত, এনিয়ে এর আগে কলকাতা হাইকোর্টে একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানি করছিল। পরে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে স্থানান্তরিত হয়।

আরও পড়ুন: সন্দেহ বাংলাদেশি: অবৈধ বসবাসের অভিযোগে ১১ জন মহিলাকে আটক মহারাষ্ট্র পুলিশের

এদিন কেন্দ্র সরকারকে ভর্ৎসনা করে বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা বলেন,  “যখন একজন অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হয় এবং তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তখন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ কী? যে তিনি একজন অবৈধ অভিবাসী। বৈধ পাসপোর্ট বা নথি না থাকলে অবৈধ অভিবাসীকে বিদেশী আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এই রায়ের পর কোনও আদালতে আর চ্যালেঞ্জ করে না। তখন প্রতিবেশী দেশকে তার ‘জাতীয়তা’ এবং ‘ভেরিফিকেশন’ সম্পর্কে জানাতে বলার কারণ কী?” বিচারপতির প্রশ্ন, “দেশে কয়টি সংশোধনাগার তৈরি করতে যাচ্ছেন? এই মানুষগুলোকে আর কতদিন সংশোধনাগারে রাখবেন?”

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

সন্দেহ বাংলাদেশি: অবৈধ বসবাসের অভিযোগে ১১ জন মহিলাকে আটক মহারাষ্ট্র পুলিশের

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে উদ্বিগ্ন সুপ্রিম কোর্ট

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, বৃহস্পতিবার

নয়াদিল্লি, ১৩ ফেব্রুয়ারি: অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে ভেরিফিকেশনের দরকার কি! কেন্দ্রের কাছে জানতে চাইল দেশের শীর্ষ আদালত। একইসঙ্গে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে বাংলাদেশীদের দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখায় উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। এদিন আদালত প্রশ্ন তুলেছে, যেসব দেশে অবৈধ অভিবাসীদের নির্বাসিত করা হবে, সেখান থেকে তাদের ‘জাতীয়তা’ নিশ্চিত করার প্রয়োজন কি! যখন তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে, যে তারা সেই দেশের নাগরিক থাকাকালীন অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী সংক্রান্ত এক মামলার শুনানি হয়। এদিন ডিভিশন বেঞ্চ বলেন, “আজ আমরা এমন একটি পর্যায়ে দাঁড়িয়েছি যেখানে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তাদের অবহেলা করা উচিত নয়। কল্পনা করুন, এক হাজারের বেশি মানুষ বিচারাধীন বন্দি।” প্রসঙ্গত, এনিয়ে এর আগে কলকাতা হাইকোর্টে একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানি করছিল। পরে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে স্থানান্তরিত হয়।

আরও পড়ুন: সন্দেহ বাংলাদেশি: অবৈধ বসবাসের অভিযোগে ১১ জন মহিলাকে আটক মহারাষ্ট্র পুলিশের

এদিন কেন্দ্র সরকারকে ভর্ৎসনা করে বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা বলেন,  “যখন একজন অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হয় এবং তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তখন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ কী? যে তিনি একজন অবৈধ অভিবাসী। বৈধ পাসপোর্ট বা নথি না থাকলে অবৈধ অভিবাসীকে বিদেশী আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এই রায়ের পর কোনও আদালতে আর চ্যালেঞ্জ করে না। তখন প্রতিবেশী দেশকে তার ‘জাতীয়তা’ এবং ‘ভেরিফিকেশন’ সম্পর্কে জানাতে বলার কারণ কী?” বিচারপতির প্রশ্ন, “দেশে কয়টি সংশোধনাগার তৈরি করতে যাচ্ছেন? এই মানুষগুলোকে আর কতদিন সংশোধনাগারে রাখবেন?”